বিশ্বকাপ ফাইনালের শেষ বাঁশি বাজার পর লিয়ান্দ্রো পারেদেসের আচরণ নিয়ে ফুটবল বিশ্বে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে। বিশেষ করে এরিক গার্সিয়া ও গাভিকে আঘাত করার ঘটনায় এই আর্জেন্টাইন ফুটবলারের ওপর চটেছেন অনেকেই। তবে সব সমালোচনার বিপরীতে গিয়ে ভুক্তভোগী গাভি নিজেই পারেদেসের পক্ষ নিয়েছেন। স্প্যানিশ এই মিডফিল্ডারের মতে, সেই ঘটনার জন্য পারেদেসকে নিষিদ্ধ করার কোনো প্রয়োজন নেই।
রোববার ফাইনাল ম্যাচের উত্তপ্ত মুহূর্তে পারেদেস স্প্যানিশ ডিফেন্ডার এরিক গার্সিয়ার সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়ে একপর্যায়ে তাকে ঘুষি মারেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে সতীর্থরা এগিয়ে এলে আর্জেন্টিনার থিয়াগো আলমাদা গাভিকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। সেই সময় পারেদেস গাভির মুখে আঘাত করলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ফিফা বিষয়টি তদন্তের সিদ্ধান্ত নেয়। ধারণা করা হচ্ছে, আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়রা বড় ধরনের শাস্তির মুখে পড়তে পারেন।
তবে স্পেনের শিরোপা জয়ের পর রেডিও স্টেশন ‘এল পার্তিদাজো দে কোপে’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভিন্ন সুর শোনা গেছে গাভির কণ্ঠে। তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে পারেদেসকে নিষিদ্ধ করা উচিত নয়। বুঝতে পারছি, এটা শিশুদের দেখার জন্য ভালো কিছু নয়। কিন্তু ফুটবলে এমন মারমুখী আচরণ অস্বাভাবিক নয়। ম্যাচের মধ্যে তাকে লাল কার্ড দিলেই বিষয়টি সেখানে শেষ হয়ে যেত। দিনশেষে এটা ফুটবলেরই অংশ।’
এদিকে গাভি পাশে দাঁড়ালেও ফুটবল বিশ্লেষকরা আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের আচরণ নিয়ে ক্ষুব্ধ। আইটিভিতে গ্যারি নেভিল এই আচরণকে ‘লজ্জাজনক’ বলে অভিহিত করেছেন, আর অ্যালান শিয়ারার একে ‘খুব বাজে’ উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে, পারেদেস ইনস্টাগ্রামে একটি আবেগঘন বার্তা দিলেও সেখানে ফাইনাল পরবর্তী ঘটনার কোনো উল্লেখ ছিল না। তিনি লিখেছেন, ‘ধন্যবাদ, আর্জেন্টিনা! আজও সব সময়ের মতোই আমি তোমাকে ভালোবাসি। আজ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে লিখছি। কারণ, আমরা আমাদের দেশকে সেই আনন্দ এনে দিতে পারিনি, তারা সত্যিই যার যোগ্য ছিল। কিন্তু আমরা সবকিছু উজাড় করে দিয়েছি এবং আবারও আমাদের পতাকাকে সর্বোচ্চ মর্যাদায় তুলে ধরেছি।’ এদিকে ফিফা জানিয়েছে, এ ঘটনায় পারেদেসকে লাল কার্ড দেখানো হয়নি।
Leave a Reply