এনসিপি নেতাদের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক, আলোচনায় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক
- আপডেট সময় : ০৬:২৬:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে
রাজধানীর বাংলামোটরে অবস্থিত এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। বুধবার অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধিদলে রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ছিলেন দূতাবাসের রাজনৈতিক উপদেষ্টা এরিক গিলান ও রাজনৈতিক সচিব জেমস স্টুয়ার্ট। এনসিপির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, আন্তর্জাতিক সেলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান আলাউদ্দিন মোহাম্মদ এবং আন্তর্জাতিক সেলের সদস্য মনিরা শারমিন ও নাভিদ নওরোজ শাহ্।
বৈঠকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতান্ত্রিক উত্তরণ, জাতীয় নাগরিক পার্টির রাজনৈতিক দর্শন, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনীতি ও ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কার্যকর অংশীদারত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেন উভয়পক্ষ। পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করেন তারা।
সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে জনগণের মধ্যে থাকা উদ্বেগ ও প্রশ্নের বিষয়টি এনসিপি নেতারা রাষ্ট্রদূতের সামনে উপস্থাপন করেন। জবাবে মার্কিন প্রতিনিধিদল চুক্তিটির বিভিন্ন দিক ব্যাখ্যা করে তা গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনার আহ্বান জানায়। তাদের মতে, এই চুক্তি ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে, যা উভয় দেশের জনগণের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে।
আলোচনায় গণভোটের রায় এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে চলমান সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতি উঠে আসে। এ সময় এনসিপি নেতারা অভিযোগ করেন, গণভোটের রায়কে যথাযথ গুরুত্ব না দিয়ে সরকার সংবিধান সংশোধন কমিটির মাধ্যমে সংস্কার বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিচ্ছে, যা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন রাজনৈতিক সংলাপ, অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। বৈঠক শেষে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার পারস্পরিক সহযোগিতা, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং গঠনমূলক সংলাপ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

























