দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ধরনের সংকট নেই বলে জানিয়েছেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব (অপারেশন অনুবিভাগ) মনির হোসেন চৌধুরী। বুধবার বিকেলে এক জরুরি ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, বর্তমানে দেশে ৩১ দিনের ডিজেল, ৩৬ দিনের অকটেন, ২০ দিনের পেট্রল, ২০ দিনের জেট ফুয়েল এবং ২৫ দিনের ফার্নেস অয়েল মজুদ রয়েছে। কৃত্রিম সংকট তৈরির অপচেষ্টা থেকেই এ ধরনের গুজব ছড়ানো হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে যুগ্ম সচিব জানান, বর্তমানে দৈনিক ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। এই ঘাটতি বেশ কিছুদিন ধরেই বিদ্যমান। তবে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে নতুন গ্যাস ক্ষেত্র অনুসন্ধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
সিএনজি স্টেশনগুলোতে সাম্প্রতিক দীর্ঘ লাইনের বিষয়ে তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, একটি এলএনজি ভাসমান টার্মিনালে আকস্মিক যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় গ্যাস সরবরাহে সাময়িক বিঘ্ন ঘটেছে। কারিগরি টিম ইতোমধ্যে মেরামত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং আগামী দুদিনের মধ্যেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মনির হোসেন চৌধুরী জানান, লোহিত সাগর রুট ব্যবহার করে অপরিশোধিত খনিজ তেল আমদানি অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হলেও বিকল্প রুট ব্যবহারের জন্য আগাম প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। এছাড়া জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে চলতি মাসের শেষ নাগাদ ১ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন এবং আগস্ট মাসে আরও ২ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল দেশে এসে পৌঁছাবে। ফলে জ্বালানি পণ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে তিনি পুনরায় আশ্বস্ত করেন।
Leave a Reply