চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার পাগলা নদীর ওপর নির্মাণাধীন বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মইন উদ্দিন আহমদ মন্টু সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার প্রায় তিন বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো শেষ হয়নি। ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য এই সেতুটির প্রায় ৪০ শতাংশ কাজ বর্তমানে অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত এক বছর ধরে নির্মাণকাজ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে এবং এর আগে দেড় বছরের মধ্যেই অন্তত চারবার কাজ স্থগিত করা হয়েছিল।
১৯৯১-৯২ সালে নির্মিত পুরনো বেইলি সেতুটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় নতুন সেতুর উদ্যোগ নিয়েছিলেন তৎকালীন সংসদ সদস্য ডা. মইন উদ্দিন আহমদ মন্টু। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তার ছেলে সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল নতুন সেতুর নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন। ২০২৩ সালের ১৫ নভেম্বর কাজ শুরু হওয়া ১৭২ দশমিক ৩০০ মিটার দীর্ঘ এই সেতুটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ২৯ কোটি ৯৮ লাখ ৭৭ হাজার ৩১৫ টাকা, যা ২০২৬ সালের ১৪ নভেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
সেতু নির্মাণে দীর্ঘসূত্রতার ফলে মনাকষা, বিনোদপুর ও দুর্লভপুর ইউনিয়নের প্রায় সোয়া দুই লাখ মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। পুরনো বেইলি সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ভারী যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে ব্যবসায়ীদের পণ্য পরিবহনের জন্য কানসাট সেতু ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা ২০ থেকে ৩০ কিলোমিটার ঘুরপথে যাতায়াত করতে বাধ্য করছে। এছাড়া সরু ও জরাজীর্ণ এই সেতুতে প্রায়ই যানজট লেগে থাকে এবং স্টিলের পাটাতন ভেঙে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে, যা শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নির্মাণকাজ বন্ধ থাকার পেছনে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতাকে দায়ী করা হচ্ছে। সেতুর দুই পাশে ৩৫টি বাড়ি ও কয়েকটি দোকান রয়েছে। জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ মার্চ জেলা এলজিইডি অফিসের ০১-২০৯১-২০৯২ স্মারকে সাতজনকে সাত দিনের মধ্যে অধিগ্রহণকৃত জমি ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে ক্ষতিপূরণের দাবি তুলে তারা বাড়ি ছাড়তে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, ১৯৯১-৯২ সালের বেইলি সেতু নির্মাণের সময় অধিগ্রহণ করা জমির সাতজন মালিক এখনো ক্ষতিপূরণ পাননি। দুর্লভপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম আজম জানিয়েছেন, প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় ক্ষতিপূরণ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, অন্যদিকে জমির মালিকরা তাদের কাগজপত্র বৈধ বলে দাবি করছেন।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাবি, তারা কাজ ফেলে পালিয়ে যাননি। ঠিকাদার আব্দুল মান্নান ও প্রকল্প ব্যবস্থাপক সাহিন আলম জানিয়েছেন, বন্যা, বৃষ্টি ও ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতার কারণেই কাজ বন্ধ রয়েছে। তাদের মতে, উচ্ছেদ কার্যক্রম দ্রুত শেষ হলে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব। শিবগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী সাহিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, বর্ষার কারণে পিলারের কাজ বন্ধ থাকলেও ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হলে অ্যাপ্রোচ সড়কের কাজ দ্রুত শুরু করা যাবে এবং পুরো প্রক্রিয়াটি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
Leave a Reply