সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী মো. নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। বুধবার বিকেলে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, সাংগঠনিক তদন্তে গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দলীয় গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে তার সংসদ সদস্য পদ তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল হবে না বলে সংবিধান ও আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। এ ঘটনায় তার সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকবে কি না—তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য যে রাজনৈতিক দলের মনোনয়নে নির্বাচিত হয়েছেন, তিনি যদি স্বেচ্ছায় সেই দল থেকে পদত্যাগ করেন অথবা সংসদে দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দেন, তাহলে তার সংসদ সদস্য পদ শূন্য হবে।
এছাড়া সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো ফৌজদারি মামলায় দণ্ডিত হয়ে সংসদ সদস্য থাকার অযোগ্য হলে আইন অনুযায়ী তার সদস্যপদ নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে। সংবিধানের ৬৭(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো আসন শূন্য হওয়ার প্রশ্ন দেখা দিলে বিষয়টি রাষ্ট্রপতির কাছে যাবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশনের মতামত নিয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত দেবেন।
আইনজীবীদের মতে, শুধুমাত্র দলীয় বহিষ্কারের কারণে গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে না। তবে তিনি যদি দল থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন বা ভবিষ্যতে এমন কোনো আইনগত পরিস্থিতি তৈরি হয়, যাতে তিনি সাংবিধানিকভাবে অযোগ্য হয়ে পড়েন, সেক্ষেত্রে সংবিধান অনুযায়ী তার সদস্যপদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, বিষয়টি গণমাধ্যম থেকে জেনেছেন। অভিযোগের সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে নির্বাচন কমিশন। তিনি আরও বলেন, গাজী নজরুল ইসলাম যদি দল থেকে পদত্যাগ করেন, তাহলে আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হবে এবং সংবিধান অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
Leave a Reply