২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে হাঁটছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। নতুন এই কাঠামোয় টুর্নামেন্টটি তিনটি ধাপে অনুষ্ঠিত হবে—সুপার সিরিজ (৬ ম্যাচ), গ্রুপ পর্ব (৩০ ম্যাচ) এবং সুপার সেভেন (২১ ম্যাচ)। এরপর দুটি সেমিফাইনাল ও ফাইনাল মিলিয়ে মোট ৬০টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়া যৌথভাবে এই বিশ্বকাপের আয়োজক।
ক্রিকেটবিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজের তথ্য অনুযায়ী, আইসিসির ওয়ার্কিং গ্রুপ প্রাথমিকভাবে ১০ দলের বিশ্বকাপ আয়োজনের কথা ভাবলেও শেষ পর্যন্ত ১৪ দলের ফরম্যাটই বহাল রাখা হয়েছে। তবে টুর্নামেন্টকে আরও আকর্ষণীয় করতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। আইসিসির সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্যমতে, ক্রিকেটের মান উন্নয়ন, প্রতিদ্বন্দ্বিতার ভারসাম্য রক্ষা করা এবং শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সমর্থকদের মনোযোগ ধরে রাখতেই এই নতুন পরিকাঠামো তৈরি করা হয়েছে।
নতুন ফরম্যাটের সবচেয়ে আলোচিত অংশ হলো 'সুপার সিরিজ'। টুর্নামেন্টে খেলার যোগ্যতা অর্জন করা দলগুলোর মধ্যে র্যাঙ্কিংয়ের তলানিতে থাকা তিনটি দল এই সিরিজে একে অপরের মুখোমুখি হবে। এখান থেকে বিজয়ী দল বাকিদের সঙ্গে মূল পর্বে যোগ দেবে। এর ফলে টুর্নামেন্টের শুরুর দিকে মূল্যহীন বা 'ডেড রাবার' ম্যাচের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে। আইসিসি জানিয়েছে, প্রতিটি ম্যাচই যেন অর্থবহ হয়, সেটিই নিশ্চিত করা হয়েছে এই কাঠামোয়।
গ্রুপ পর্বের পর সেরা দলগুলো জায়গা করে নেবে 'সুপার সেভেন' পর্বে, যেখানে সেমিফাইনালে ওঠার লড়াই হবে আরও তীব্র। আইসিসির দাবি, এই নতুন বিন্যাস খেলোয়াড় ও সমর্থকদের জন্য টুর্নামেন্টকে আরও রোমাঞ্চকর করে তুলবে। এছাড়াও পূর্ণ সদস্যদেশগুলোর পাশাপাশি সহযোগী দেশগুলোও মূল পর্বে জায়গা করে নেওয়ার সমান সুযোগ পাবে। সদ্য সমাপ্ত ফিফা বিশ্বকাপের আদলে প্রতিটি ম্যাচকে গুরুত্বপূর্ণ করে তোলাই এই পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য।
আইসিসির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই পুনর্মূল্যায়িত কাঠামো তিনটি ধাপে গড়িয়ে ফাইনালের দিকে এগোবে, যা প্রতিটি ম্যাচে প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি করবে। ফলে উদ্বোধনী ম্যাচ থেকে শুরু করে ফাইনাল পর্যন্ত প্রতিটি খেলাই হবে অর্থবহ। নতুন এই ফরম্যাটে টানা ভালো পারফরম্যান্সের পুরস্কার মিলবে এবং সেরা দলগুলোর মুখোমুখি না হয়ে কোনো দলের পক্ষেই পরের ধাপে যাওয়া সম্ভব হবে না।
নতুন এই কাঠামোর বেশ কিছু শক্তিশালী দিকও আছে।ক্রিকেট–বিষয়ক ওয়েব পোর্টাল ক্রিকবাজ অনুসন্ধানে জেনেছে, মূল আলোচনায় যে ধরনের কঠোর ফরম্যাট ভাবনায় ছিল, তার চেয়ে নমনীয় হয়েছে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।২০২৭ সালেও ২০১৯ ও ২০২৩ আসরের মতো ১০ দলের বিশ্বকাপ আয়োজন করা যায় কি না, তা নিয়ে আইসিসির ওয়ার্কিং গ্রুপের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।
গুরুত্বহীন ‘ডেড রাবার’ ম্যাচের সংখ্যাও কমবে।.সুপার সিরিজের পর বাকি ১২টি দল পা রাখবে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে, যেখানে শিরোপার লড়াইয়ে টিকে থাকার সুযোগ থাকবে দীর্ঘ সময়।
Leave a Reply