মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের আত্মত্যাগের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি নাহিদ ইসলামের
- আপডেট সময় : ০৬:২৭:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ ৫২ বার পড়া হয়েছে
জুলাই মাসে সংঘটিত ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের সাহস, ত্যাগ ও গুরুত্বপূর্ণ অবদানের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদানের জোর দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। সোমবার রাজধানীর বিএমএ ভবন মিলনায়তনে ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্স আয়োজিত ‘জুলাইয়ের রক্তাক্ত জুব্বা: মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের অবদান’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি উত্থাপন করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই আন্দোলনের ১৭ ও ১৮ তারিখে যখন রাজপথের আন্দোলন স্তিমিত হওয়ার উপক্রম হয়েছিল, তখন মাদ্রাসা শিক্ষার্থী ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই আন্দোলনে নতুন করে গতি সঞ্চার করেছিল। তিনি আরও বলেন, যুগ যুগ ধরে ওলামায়ে কেরাম এ দেশের মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে জীবন উৎসর্গ করেছেন। গত কয়েক দশক ধরে শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের রক্ত ঝরেছে। তাদের পরিহিত জুব্বা অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই ও প্রতিরোধের প্রতীক। তাই সরকারের প্রতি তার আহ্বান, মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের এই আত্মত্যাগকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননার মাধ্যমে স্বীকৃতি দিতে হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের সমালোচনা করে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, জুলাই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্রের মৌলিক পরিবর্তন, বৈষম্যহীন সমাজ গঠন ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার। এই পরিবর্তনের দাবিকে ‘জুলাই নিয়ে ব্যবসা’ বলে অভিহিত করা জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে অবজ্ঞা করার শামিল। অতীতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দোহাই দিয়ে গণতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে এবং এখন একইভাবে জুলাইয়ের চেতনাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চলছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতাকে কেবল সংবিধানের প্রচলিত ধারায় ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। জনগণের বিপ্লবী আকাঙ্ক্ষা থেকেই এই নতুন বাস্তবতার সৃষ্টি হয়েছে। তাই সংবিধান সংশোধনের নামে প্রহসন না করে গণভোটের রায় এবং জনগণের সংস্কারের আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সরকার যদি দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ না করে, তবে ওলামায়ে কেরামসহ জুলাই আন্দোলনের সব শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে আরও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। তবে তিনি আলোচনার মাধ্যমেই সংসদীয় উপায়ে এ সংকটের রাজনৈতিক সমাধান প্রত্যাশা করেন।
সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্রচিন্তক ফরহাদ মজহার, লেখক ও চিন্তক মুসা আল হাফিজ এবং এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ইসলামী সংগঠনের শীর্ষ স্থানীয় নেতারাও অংশগ্রহণ করেন।
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ


























