ঢাকা ০৫:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভালুকায় সেলুন ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম করে মৃত্যুর ঘটনায় অভিযোগ সুন্দরবনে দস্যুদের সাথে বন্দুকযুদ্ধ, জিম্মি থেকে ৫ জেলে উদ্ধার বকেয়া বেতনের দাবিতে চালডাল কর্মীদের বিক্ষোভ ও ভাঙচুর বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে সহায়তা বাড়াতে সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনের প্রতি আহ্বান উখিয়ায় নলকূপ খননের সময় অগ্নিকাণ্ড: নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে সেনাবাহিনী আইজিপি’র ‘ক্রসফায়ার’ সম্পর্কিত বক্তব্যের অপব্যাখ্যা অপরাধীদের উৎসাহিত করবে সৌদির রাস তানুরা তেল শোধনাগারে হামলার দাবি হুতিদের দেশে ডেঙ্গুতে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৪০০ ছাড়াল নওগাঁয় শ্যালিকাকে বিয়ে, যুবক ও দুই স্ত্রীর মুখে চুনকালি দিয়ে গ্রামছাড়া সীতাকুণ্ডে লরির ধাক্কায় বাসের ৫ যাত্রী নিহত

ভাইয়া, আমাকে নিয়ে যান: সাক্ষ্য দিতে গিয়ে কাঁদলেন আইনজীবী শহিদুল

সৃষ্টি নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৭:৪১:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬ ৩৮ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

ভাইয়া, আমাকে নিয়ে যান: সাক্ষ্য দিতে গিয়ে কাঁদলেন আইনজীবী শহিদুল

 

চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলার দ্বিতীয় সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন তাঁর সহকর্মী শহিদুল আলম। সোমবার বিচারক ফজলে খোদা মোহাম্মদ নাজিরের আদালতে সাক্ষ্য প্রদানের সময় তিনি বারবার আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

 

 

বাদীপক্ষের আইনজীবী রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী জানান, বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে সাক্ষীর কাঠগড়ায় দাঁড়ান শহিদুল আলম। সাক্ষ্য দেওয়ার সময় তিনি ঘটনার দিনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, আদালত ভবনের বিপরীতে রঙ্গম সিনেমা হলসংলগ্ন এলাকা থেকে আইনজীবীদের মিছিল ফেরার সময় সাইফুল তাঁকে পেছন থেকে ডাক দেন। ওই মুহূর্তে সাইফুল হোঁচট খেয়ে পড়ে গিয়ে তাঁকে বলেছিলেন, ‘ভাইয়া, আমাকে নিয়ে যান, ওরা আমাকে মেরে ফেলবে।’

 

পড়ুন>> কাউনিয়ায় অটো গাড়ির ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু 

 

 

 

 

সাক্ষী শহিদুল আলম জানান, এটিই ছিল সাইফুলের শেষ কথা। এই কথা বলার পরেই তিনি কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে অঝোরে কাঁদতে শুরু করেন, যার ফলে আদালতকক্ষে দীর্ঘ নীরবতা নেমে আসে।

 

 

 

সাক্ষ্যে শহিদুল আলম আরও জানান, সাইফুলের ডাক শুনে পেছনে ফিরে তিনি নীল গেঞ্জি ও হেলমেট পরিহিত, হাতে কিরিচধারী এক যুবকের নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জন সশস্ত্র ব্যক্তিকে দেখতে পান। এরপরই ওই ব্যক্তিরা তাঁদের দিকে তেড়ে আসেন। পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন যে আসামি রিপন দাসসহ অন্যরা মিলে সাইফুল ইসলামকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করেছেন। দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে তাঁর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয় এবং আদালত পরবর্তী শুনানির জন্য ২০ আগস্ট দিন ধার্য করেন।

 

 

 

আদালত সূত্র জানায়, গত বছরের ২৬ নভেম্বর সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় দাসের জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সময় আইনজীবী সাইফুল নিহত হন। এই ঘটনায় তাঁর বাবা জামাল উদ্দিন ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। এছাড়া সরকারি কাজে বাধা ও ককটেল বিস্ফোরণসহ মোট পাঁচটি মামলা দায়ের করা হয়।

 

পড়ুন>> কাউনিয়ায় অটো গাড়ির ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু 

 

এ মামলার আসামি চিন্ময় দাসসহ ৩৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল। মামলার আসামি চন্দন দাস, রিপন দাস ও রাজীব ভট্টাচার্য এরই মধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সোমবারের সাক্ষ্য শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা শহিদুল আলমকে জেরা করেন, তবে চিন্ময় দাসের আইনজীবীর আবেদনের প্রেক্ষিতে তাঁর জেরা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।

 

 

পরে তিনি জানতে পারেন, আসামি রিপন দাসসহ অন্যরা সাইফুল ইসলামকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করেছেন।দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে তাঁর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়।.চট্টগ্রামে সংঘর্ষ, আইনজীবীকে হত্যা .আদালত সূত্র জানায়, গত বছরের ১ জুলাই সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় দাসসহ ৩৮ জনকে আসামি করে এ মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন>>তাড়াশে সেলাই মেশিন বাইসাইকেল ও শিক্ষাবৃত্তি বিতরণ

 

পরে বাদীর আপত্তির পর একই বছরের ২৫ আগস্ট আদালত আরও একজনকে অন্তর্ভুক্ত করে ৩৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন।

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ভাইয়া, আমাকে নিয়ে যান: সাক্ষ্য দিতে গিয়ে কাঁদলেন আইনজীবী শহিদুল

আপডেট সময় : ০৭:৪১:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

 

ভাইয়া, আমাকে নিয়ে যান: সাক্ষ্য দিতে গিয়ে কাঁদলেন আইনজীবী শহিদুল

 

চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলার দ্বিতীয় সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন তাঁর সহকর্মী শহিদুল আলম। সোমবার বিচারক ফজলে খোদা মোহাম্মদ নাজিরের আদালতে সাক্ষ্য প্রদানের সময় তিনি বারবার আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

 

 

বাদীপক্ষের আইনজীবী রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী জানান, বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে সাক্ষীর কাঠগড়ায় দাঁড়ান শহিদুল আলম। সাক্ষ্য দেওয়ার সময় তিনি ঘটনার দিনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, আদালত ভবনের বিপরীতে রঙ্গম সিনেমা হলসংলগ্ন এলাকা থেকে আইনজীবীদের মিছিল ফেরার সময় সাইফুল তাঁকে পেছন থেকে ডাক দেন। ওই মুহূর্তে সাইফুল হোঁচট খেয়ে পড়ে গিয়ে তাঁকে বলেছিলেন, ‘ভাইয়া, আমাকে নিয়ে যান, ওরা আমাকে মেরে ফেলবে।’

 

পড়ুন>> কাউনিয়ায় অটো গাড়ির ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু 

 

 

 

 

সাক্ষী শহিদুল আলম জানান, এটিই ছিল সাইফুলের শেষ কথা। এই কথা বলার পরেই তিনি কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে অঝোরে কাঁদতে শুরু করেন, যার ফলে আদালতকক্ষে দীর্ঘ নীরবতা নেমে আসে।

 

 

 

সাক্ষ্যে শহিদুল আলম আরও জানান, সাইফুলের ডাক শুনে পেছনে ফিরে তিনি নীল গেঞ্জি ও হেলমেট পরিহিত, হাতে কিরিচধারী এক যুবকের নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জন সশস্ত্র ব্যক্তিকে দেখতে পান। এরপরই ওই ব্যক্তিরা তাঁদের দিকে তেড়ে আসেন। পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন যে আসামি রিপন দাসসহ অন্যরা মিলে সাইফুল ইসলামকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করেছেন। দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে তাঁর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয় এবং আদালত পরবর্তী শুনানির জন্য ২০ আগস্ট দিন ধার্য করেন।

 

 

 

আদালত সূত্র জানায়, গত বছরের ২৬ নভেম্বর সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় দাসের জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সময় আইনজীবী সাইফুল নিহত হন। এই ঘটনায় তাঁর বাবা জামাল উদ্দিন ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। এছাড়া সরকারি কাজে বাধা ও ককটেল বিস্ফোরণসহ মোট পাঁচটি মামলা দায়ের করা হয়।

 

পড়ুন>> কাউনিয়ায় অটো গাড়ির ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু 

 

এ মামলার আসামি চিন্ময় দাসসহ ৩৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল। মামলার আসামি চন্দন দাস, রিপন দাস ও রাজীব ভট্টাচার্য এরই মধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সোমবারের সাক্ষ্য শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা শহিদুল আলমকে জেরা করেন, তবে চিন্ময় দাসের আইনজীবীর আবেদনের প্রেক্ষিতে তাঁর জেরা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।

 

 

পরে তিনি জানতে পারেন, আসামি রিপন দাসসহ অন্যরা সাইফুল ইসলামকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করেছেন।দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে তাঁর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়।.চট্টগ্রামে সংঘর্ষ, আইনজীবীকে হত্যা .আদালত সূত্র জানায়, গত বছরের ১ জুলাই সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় দাসসহ ৩৮ জনকে আসামি করে এ মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন>>তাড়াশে সেলাই মেশিন বাইসাইকেল ও শিক্ষাবৃত্তি বিতরণ

 

পরে বাদীর আপত্তির পর একই বছরের ২৫ আগস্ট আদালত আরও একজনকে অন্তর্ভুক্ত করে ৩৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন।

 

 

Facebook Comments Box