চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলার দ্বিতীয় সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন তাঁর সহকর্মী শহিদুল আলম। সোমবার বিচারক ফজলে খোদা মোহাম্মদ নাজিরের আদালতে সাক্ষ্য প্রদানের সময় তিনি বারবার আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী জানান, বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে সাক্ষীর কাঠগড়ায় দাঁড়ান শহিদুল আলম। সাক্ষ্য দেওয়ার সময় তিনি ঘটনার দিনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, আদালত ভবনের বিপরীতে রঙ্গম সিনেমা হলসংলগ্ন এলাকা থেকে আইনজীবীদের মিছিল ফেরার সময় সাইফুল তাঁকে পেছন থেকে ডাক দেন। ওই মুহূর্তে সাইফুল হোঁচট খেয়ে পড়ে গিয়ে তাঁকে বলেছিলেন, ‘ভাইয়া, আমাকে নিয়ে যান, ওরা আমাকে মেরে ফেলবে।’
সাক্ষী শহিদুল আলম জানান, এটিই ছিল সাইফুলের শেষ কথা। এই কথা বলার পরেই তিনি কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে অঝোরে কাঁদতে শুরু করেন, যার ফলে আদালতকক্ষে দীর্ঘ নীরবতা নেমে আসে।
সাক্ষ্যে শহিদুল আলম আরও জানান, সাইফুলের ডাক শুনে পেছনে ফিরে তিনি নীল গেঞ্জি ও হেলমেট পরিহিত, হাতে কিরিচধারী এক যুবকের নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জন সশস্ত্র ব্যক্তিকে দেখতে পান। এরপরই ওই ব্যক্তিরা তাঁদের দিকে তেড়ে আসেন। পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন যে আসামি রিপন দাসসহ অন্যরা মিলে সাইফুল ইসলামকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করেছেন। দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে তাঁর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয় এবং আদালত পরবর্তী শুনানির জন্য ২০ আগস্ট দিন ধার্য করেন।
আদালত সূত্র জানায়, গত বছরের ২৬ নভেম্বর সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় দাসের জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সময় আইনজীবী সাইফুল নিহত হন। এই ঘটনায় তাঁর বাবা জামাল উদ্দিন ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। এছাড়া সরকারি কাজে বাধা ও ককটেল বিস্ফোরণসহ মোট পাঁচটি মামলা দায়ের করা হয়।
এ মামলার আসামি চিন্ময় দাসসহ ৩৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল। মামলার আসামি চন্দন দাস, রিপন দাস ও রাজীব ভট্টাচার্য এরই মধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সোমবারের সাক্ষ্য শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা শহিদুল আলমকে জেরা করেন, তবে চিন্ময় দাসের আইনজীবীর আবেদনের প্রেক্ষিতে তাঁর জেরা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।
পরে তিনি জানতে পারেন, আসামি রিপন দাসসহ অন্যরা সাইফুল ইসলামকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করেছেন।দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে তাঁর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়।.চট্টগ্রামে সংঘর্ষ, আইনজীবীকে হত্যা .আদালত সূত্র জানায়, গত বছরের ১ জুলাই সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় দাসসহ ৩৮ জনকে আসামি করে এ মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেওয়া হয়।
পরে বাদীর আপত্তির পর একই বছরের ২৫ আগস্ট আদালত আরও একজনকে অন্তর্ভুক্ত করে ৩৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন।
Leave a Reply