চৌহালীর এনায়েতপুর থানার ব্রাহ্মণগ্রামে ঘটে গেল এক হৃদয়বিদারক ঘটনা নানির হাতেই প্রাণ হারাল মাত্র আট বছরের শিশুকন্যা নাজিয়া আক্তার লাবনী।
গত শুক্রবার, ৩০ মে সন্ধ্যা ৭টার দিকে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়। নিহত লাবনী নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার পতিসর গ্রামের বাসিন্দা নাহিদ আলমের কন্যা। পেশাগত কারণে বাবা নাহিদ আলম ঢাকায় অবস্থান করেন, আর মানসিক ভারসাম্যহীন মা নার্গিস খাতুনের সঙ্গে বিগত তিন বছর ধরে লাবনী নানির বাড়ি ব্রাহ্মণগ্রামে থেকে এনায়েতপুর খাজা ইউনুস আলী ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে নার্সারিতে পড়াশোনা করছিল।
শিশুটির দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন তার নানি, লালবানু (৬০), যিনি স্থানীয় মৃত শুকুর আলী সরকারের স্ত্রী। অথচ তিনিই হয়ে উঠলেন এই নিষ্পাপ শিশুর মৃত্যুর কারণ। অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার দিন রাতে খাবার নিয়ে জেদ ধরায় লাবনীকে মারধর করেন লালবানু, একপর্যায়ে গলাটিপে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করেন।
এ ঘটনায় এনায়েতপুর থানা পুলিশ অভিযুক্ত লালবানুকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করে এবং শনিবার (৩১ মে) সকালে সিরাজগঞ্জ শহীদ এম. এনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরণ করে।
লাবনীর বাবা নাহিদ আলম এ ঘটনায় তার স্ত্রী নার্গিস খাতুন, শাশুড়ি লালবানুসহ অজ্ঞাত আরও ৭-৮ জনকে আসামি করে এনায়েতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
শিশুটির দাদা আব্দুস ছালাম প্রামাণিক জানান, ছোট্ট লাবনী প্রায়ই নানা কারণে নানির হাতে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতো। মারধরের ঘটনা ছিল নিত্যনৈমিত্তিক। শিশুটির ছোটখাটো জেদ বা আবদারই যেন তার অপরাধে পরিণত হতো।
নাহিদ আলম বলেন, “আমি প্রতি মাসে আমার স্ত্রী ও মেয়েদের জন্য টাকা পাঠাই। তারা যা চায়, তা কিনে দেওয়ার ব্যবস্থা করি। কিন্তু আমার মেয়েটা যখন কিছু চাইত, তার নানি তাকে কিছুই দিতেন না, বরং মারধর করতেন। যে রাতে আমার মেয়ে নিহত হয়, সেদিনও সে কিছু খাওয়ার জন্য বায়না ধরেছিল এটাই তার অপরাধ হয়ে দাঁড়ায়।”
এনায়েতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনারুল ইসলাম জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “নিহতের মাথা ও গলায় আঘাতের চিহ্ন স্পষ্ট। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।”
Leave a Reply