মেরুকরণ নয়, অংশীদারিত্বের পথেই হাঁটবে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ১১:৫৫:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬ ২৮ বার পড়া হয়েছে
মেরুকরণ নয়, অংশীদারিত্বের পথেই হাঁটবে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশের অটল অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত ৩৩তম আসিয়ান রিজিওনাল ফোরামের (এআরএফ) মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সবসময় বিভক্তির পরিবর্তে সংলাপ এবং মেরুকরণের পরিবর্তে অংশীদারিত্বকেই বেছে নিতে আগ্রহী। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বৈঠকে খলিলুর রহমান দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আসিয়ান রিজিওনাল ফোরামের সদস্য দেশগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ প্রায় এক দশক ধরে মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত ১৩ লাখেরও বেশি রো$হিঙ্গাকে মানবিক কারণে আশ্রয় দিয়ে আসছে।
পড়ুনরায়পুরে মহানবী (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে মালয়েশিয়া প্রবাসীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ
পররাষ্ট্রমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, এই দীর্ঘস্থায়ী সংকট মাদক পাচার, মানবপাচার ও অবৈধ অস্ত্রের চোরাচালানের মতো আন্তঃসীমান্ত অপরাধের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ। রোহিঙ্গাদের রাষ্ট্রহীন করার বিষয়টি পরিকল্পিত রাজনৈতিক ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছাপ্রণোদিত ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরিতে এআরএফভুক্ত দেশগুলোর সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন।
বর্তমান ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় টেকসই সংলাপ ও কূটনীতিকে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হিসেবে বর্ণনা করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। জলবায়ুজনিত নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ দুর্যোগ প্রস্তুতি ও আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থায় আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়াতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এআরএফের দুর্যোগ ত্রাণবিষয়ক আন্তঃসেশনাল বৈঠকের সহ-সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশ আঞ্চলিক সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ চালিয়ে যাবে বলেও তিনি জানান।
আরও পড়ুন>>গোয়াইনঘাটে টেকসই খাদ্যব্যবস্থা গড়তে ‘ভিশনিং এক্সারসাইজ’ কর্মশালা
এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও উদীয়মান প্রযুক্তি ঝুঁকি ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন ড. খলিলুর রহমান। সাইবার নিরাপত্তা হুমকি এবং ভ্রান্ত তথ্যের অপব্যবহার মোকাবিলায় ঘনিষ্ঠ আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি একটি আঞ্চলিক প্রযুক্তি সুশাসন কাঠামো প্রণয়নের প্রস্তাব দেন।
সবশেষে তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে সমর্থন দেওয়ায় অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

























