২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপজুড়ে আর্জেন্টিনা দলকে কেন্দ্র করে নানা বিতর্ক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিত্তিহীন অপপ্রচারের শিকার হতে হয়েছে লিওনেল মেসির দলকে। টুর্নামেন্টের বিভিন্ন ঘটনা, খেলোয়াড়দের আচরণ, রেফারিং, ফাইনালের উত্তেজনা এবং মাঠের বাইরের নানা ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে অসংখ্য গুজব, বিকৃত ছবি ও বিভ্রান্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে দলটিকে অনেক জায়গায় ‘চোরের দল’ বলেও কটূক্তি করা হয়েছে, যা নিয়ে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) অত্যন্ত ক্ষুব্ধ।
আর্জেন্টিনার প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম লা নাসিওন–এর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বকাপের সময় দল ও ফুটবলারদের বিরুদ্ধে চালানো এই মিথ্যা প্রচারণার ঘটনায় এএফএ আইনি ব্যবস্থা নিতে কাজ শুরু করেছে। সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মানহানিকর তথ্য প্রচার, ছবি ও ভিডিও বিকৃত করা এবং প্রমাণ ছাড়াই বিভ্রান্তিকর বক্তব্য ছড়ানোর অভিযোগে মামলা করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এএফএ কর্মকর্তাদের মতে, বিশ্বকাপ চলাকালে অপপ্রচার সব সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিল, তাই খেলোয়াড় ও সংস্থার ভাবমূর্তি রক্ষায় আইনের আশ্রয় নেওয়া ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো বিকল্প নেই।
ইতিমধ্যে এএফএর একটি আইনজীবী দল সম্ভাব্য মামলার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ শুরু করেছে। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন পোস্ট, ভিডিও এবং স্ক্রিনশটসহ আদালতে উপস্থাপনযোগ্য নথি সংরক্ষণ করছে। এএফএর অবস্থান স্পষ্ট যে, তারা কেবল বড় গণমাধ্যম বা জনপ্রিয় অ্যাকাউন্ট নয়, বরং প্রমাণ সাপেক্ষে বিভ্রান্তিকর বা মানহানিকর তথ্য ছড়ানো সাধারণ ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এএফএ জানিয়েছে, ব্যক্তির পরিচিতি বা অনুসারীর সংখ্যা নয়, বরং তথ্য বিকৃত করে অপপ্রচার চালানোই হবে তাদের তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপের মূল বিবেচ্য বিষয়। সংস্থাটির বিশ্বাস, এই কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এমন ধরনের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে শক্ত বার্তা দেওয়া সম্ভব হবে।
বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করে লিওনেল মেসির দল। টুর্নামেন্টজুড়ে খেলোয়াড়দের আচরণ, রেফারিং, ফাইনালের উত্তেজনা এবং মাঠের বাইরের নানা ঘটনাকে কেন্দ্র করে আর্জেন্টিনাকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়।
Leave a Reply