ঢাকা ০৯:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
স্ত্রীসহ ফারইস্টের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুলের সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসে ৮৬ পদে কর্মী নিয়োগ, আবেদনের শেষ ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেটে ‘নিরাপদ যাতায়াত বাস্তবায়ন পরিষদের বর্ণাঢ্য অভিষেক অনুষ্ঠিত সিরীয় ভূখণ্ডে নেতানিয়াহুর প্রবেশ: তীব্র নিন্দা জানিয়ে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের আহ্বান কাতারের শিক্ষা ছুটির মেয়াদ শেষ: শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ শিক্ষক স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত নাটোরে ২০০ শিক্ষার্থীর হাতে পরিবেশ রক্ষায় নিম গাছের চারা বিতরণ  ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহতের দাবি, বিজিবি নিশ্চিত করল একজনের মৃত্যু সবজির পর ডিমের বাজারে উত্তাপ: ডজনপ্রতি দাম পৌঁছাল ১৬৫ টাকায়, বিপাকে নিম্ন আয়ের মানুষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আইআরআই প্রতিনিধিদলের বৈঠক, সাইবার আইন ও বুলিং নিয়ে আলোচনা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ: প্রার্থী বাছাইয়ে হিমশিম নেতৃত্ব

রাষ্ট্রীয় জীবনে ইসলামি নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা ও ইমাম হোসাইনের আত্মত্যাগ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:১০:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রাণপ্রিয় নাতি ইমাম হোসাইন (রা.) নবীজির ইন্তেকালের মাত্র ৫০ বছরের ব্যবধানে এক অসম যুদ্ধে কারবালা প্রান্তরে ফোরাত নদীর তীরে নির্মমভাবে শাহাদত বরণ করেন। এই বিয়োগান্ত হত্যাকাণ্ডের জন্য গোটা মুসলিম উম্মাহ যুগ থেকে যুগান্তরে শোকাবিভূত। বাংলা সাহিত্যের বিশাল অঙ্গনজুড়েও এই শোকের প্রতিধ্বনি শোনা যায়। কাজী নজরুল ইসলামের কাব্যে কারবালার বিয়োগান্ত ঘটনার প্রতিধ্বনি পাওয়া যায়, আর মীর মশররফ হোসেনের বিষাদ সিন্ধু প্রতি বছর মহররমে ফিরে আসে বিশ্ববাসীকে কাঁদাতে।

১০ মুহাররম আমাদের জাতীয় ছুটির দিন এবং সমগ্র দেশবাসী বিভিন্ন আঙিকে এই দিবস পালন করে থাকে। জাতীয় নেতারা সংবাদপত্রে ও মিডিয়ায় বাণী দিয়ে বলেন, ইমাম হোসাইন সত্য ও ন্যায়ের জন্য আত্মত্যাগ করেছেন এবং অসত্যের সামনে মাথা নত করেননি। ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্যই তিনি কারবালা প্রান্তরে শাহাদাতের নজরানা পেশ করেছিলেন। মওলানা মুহাম্মদ আলি জরহরের উর্দু কবিতার সেই বিখ্যাত উক্তি—'ইসলাম জিন্দা হোতা হে হার কারবালা কে বাদ'—অর্থাৎ প্রতিটি কারবালার পরেই ইসলাম নতুন প্রাণ ফিরে পায়, ইসলামের ইতিহাসে এমন বিপর্যয়গুলোই নতুন শক্তির সঞ্চার করেছে।

তবে ইমাম হোসাইন কোন সত্য ও ন্যায়ের জন্য সপরিবারে শহিদ হয়েছিলেন, তা নিয়ে গভীর চিন্তার অবকাশ রয়েছে। সে সময় নামাজ, রোজা, হজসহ ইসলামের মৌলিক ইবাদতগুলো যথানিয়মে পালিত হতো। মক্কা, মদিনা, কুফা বা দামেস্কে প্রচলিত ইসলামের বিরুদ্ধে বড় কোনো কিছু ঘটেনি। এরপরও ইমাম হোসাইনকে মদিনা ছেড়ে মক্কায় এবং পরে কারবালায় যেতে হয়েছিল। তার দ্বিখণ্ডিত মাথা মোবারক ইবনে জিয়াদের সামনে এবং পরবর্তীতে এজিদের দরবারে অপমানজনকভাবে রাখা হয়েছিল। যারা সত্য ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠার জন্য ইমাম হোসাইনের শাহাদাতের বয়ান দেন, তাদের এই প্রশ্নগুলো নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করা প্রয়োজন।

ইমাম হোসাইন (রা.) ইসলাম, ইসলামি রাষ্ট্র, খেলাফত এবং উম্মাহর ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তিত ছিলেন। তিনি এমন বিপদের ঘনঘটা দেখতে পাচ্ছিলেন যা অন্যরা দেখতে পাননি। তার মূল উৎকণ্ঠা ছিল খেলাফতের সর্বোচ্চ আসন এবং উম্মাহর জাতীয় নেতৃত্ব এমন কোনো পাপাচারী, অযোগ্য ও স্বৈরাচারী শাসকের হাতে ন্যস্ত হওয়া নিয়ে, যে আল্লাহ ও রাসুল নির্ধারিত হালালকে হারাম এবং হারামকে হালাল গণ্য করার ব্যাপারে বেপরোয়া ছিল।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রাষ্ট্রীয় জীবনে ইসলামি নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা ও ইমাম হোসাইনের আত্মত্যাগ

আপডেট সময় : ০৯:১০:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রাণপ্রিয় নাতি ইমাম হোসাইন (রা.) নবীজির ইন্তেকালের মাত্র ৫০ বছরের ব্যবধানে এক অসম যুদ্ধে কারবালা প্রান্তরে ফোরাত নদীর তীরে নির্মমভাবে শাহাদত বরণ করেন। এই বিয়োগান্ত হত্যাকাণ্ডের জন্য গোটা মুসলিম উম্মাহ যুগ থেকে যুগান্তরে শোকাবিভূত। বাংলা সাহিত্যের বিশাল অঙ্গনজুড়েও এই শোকের প্রতিধ্বনি শোনা যায়। কাজী নজরুল ইসলামের কাব্যে কারবালার বিয়োগান্ত ঘটনার প্রতিধ্বনি পাওয়া যায়, আর মীর মশররফ হোসেনের বিষাদ সিন্ধু প্রতি বছর মহররমে ফিরে আসে বিশ্ববাসীকে কাঁদাতে।

১০ মুহাররম আমাদের জাতীয় ছুটির দিন এবং সমগ্র দেশবাসী বিভিন্ন আঙিকে এই দিবস পালন করে থাকে। জাতীয় নেতারা সংবাদপত্রে ও মিডিয়ায় বাণী দিয়ে বলেন, ইমাম হোসাইন সত্য ও ন্যায়ের জন্য আত্মত্যাগ করেছেন এবং অসত্যের সামনে মাথা নত করেননি। ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্যই তিনি কারবালা প্রান্তরে শাহাদাতের নজরানা পেশ করেছিলেন। মওলানা মুহাম্মদ আলি জরহরের উর্দু কবিতার সেই বিখ্যাত উক্তি—'ইসলাম জিন্দা হোতা হে হার কারবালা কে বাদ'—অর্থাৎ প্রতিটি কারবালার পরেই ইসলাম নতুন প্রাণ ফিরে পায়, ইসলামের ইতিহাসে এমন বিপর্যয়গুলোই নতুন শক্তির সঞ্চার করেছে।

তবে ইমাম হোসাইন কোন সত্য ও ন্যায়ের জন্য সপরিবারে শহিদ হয়েছিলেন, তা নিয়ে গভীর চিন্তার অবকাশ রয়েছে। সে সময় নামাজ, রোজা, হজসহ ইসলামের মৌলিক ইবাদতগুলো যথানিয়মে পালিত হতো। মক্কা, মদিনা, কুফা বা দামেস্কে প্রচলিত ইসলামের বিরুদ্ধে বড় কোনো কিছু ঘটেনি। এরপরও ইমাম হোসাইনকে মদিনা ছেড়ে মক্কায় এবং পরে কারবালায় যেতে হয়েছিল। তার দ্বিখণ্ডিত মাথা মোবারক ইবনে জিয়াদের সামনে এবং পরবর্তীতে এজিদের দরবারে অপমানজনকভাবে রাখা হয়েছিল। যারা সত্য ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠার জন্য ইমাম হোসাইনের শাহাদাতের বয়ান দেন, তাদের এই প্রশ্নগুলো নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করা প্রয়োজন।

ইমাম হোসাইন (রা.) ইসলাম, ইসলামি রাষ্ট্র, খেলাফত এবং উম্মাহর ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তিত ছিলেন। তিনি এমন বিপদের ঘনঘটা দেখতে পাচ্ছিলেন যা অন্যরা দেখতে পাননি। তার মূল উৎকণ্ঠা ছিল খেলাফতের সর্বোচ্চ আসন এবং উম্মাহর জাতীয় নেতৃত্ব এমন কোনো পাপাচারী, অযোগ্য ও স্বৈরাচারী শাসকের হাতে ন্যস্ত হওয়া নিয়ে, যে আল্লাহ ও রাসুল নির্ধারিত হালালকে হারাম এবং হারামকে হালাল গণ্য করার ব্যাপারে বেপরোয়া ছিল।

Facebook Comments Box