যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সহযোগী হিসেবে পরিচিত মডেল স্কাউট ড্যানিয়েল সিয়াদকে প্যারিসের অদূরে তার নিজ বাসভবনে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। ফরাসি কর্মকর্তারা তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গত সোমবার সন্ধ্যায় তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের জন্য এরই মধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। ময়নাতদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করা হবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
৬৯ বছর বয়সী সিয়াদ ফ্রান্সে মানব পাচার সংক্রান্ত বিশেষ প্রসিকিউটরদের তদন্তের আওতায় ছিলেন। তার বিরুদ্ধে ধর্ষণসহ বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগ ছিল। মার্কিন বিচার বিভাগের এপস্টাইন সম্পর্কিত ১,০০০-এর বেশি নথিতে তার নাম উঠে এসেছে।
সিয়াদ এপস্টাইনকে নারী পাচার ও নির্যাতনে সহায়তা করার অভিযোগে অভিযুক্ত কয়েকজন ফরাসি নাগরিকের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। যদিও তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হননি, তবুও তিনি তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছিলেন।
সিয়াদ বিশ্বজুড়ে মডেল অনুসন্ধানের কাজ করতেন এবং এপস্টেইনের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। এপস্টাইন ফাইলগুলোতে তাকে অন্যতম অনুগত সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০১৯ সালে এপস্টেইনের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাদের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। এছাড়া তিনি জাঁ-লুক ব্রুনেলের জন্যও কমিশনভিত্তিক স্কাউট হিসেবে কাজ করতেন, যিনি ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে কারাগারে আত্মহত্যা করেন।
চলতি বছরের শুরুতে সাবেক সুইডিশ মডেল এবা কার্লসন সিয়াদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেন। কার্লসনের অভিযোগ, ১৯৯০ সালে স্টকহোমে সিয়াদ তাকে স্কাউট করেছিলেন এবং পরে ফ্রান্সে তাকে ধর্ষণ করেন। সিয়াদের মৃত্যুর খবরের প্রতিক্রিয়ায় কার্লসন হতাশা প্রকাশ করে বলেন যে, তিনি গ্রেপ্তারের খুব কাছাকাছি ছিলেন এবং এই মৃত্যু ন্যায়বিচার প্রাপ্তির পথ রুদ্ধ করে দিল।
সিয়াদ ফ্রান্স টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দাবি করেছিলেন যে তিনি এপস্টেইনের অপব্যবহারের শিকার হয়েছেন এবং জানতেন না যে তিনি বিপজ্জনক ব্যক্তি। তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেছিলেন, তার কোনো নাবালক বা নির্যাতনের শিকার কোনো ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার রেকর্ড নেই। ২০১৬ সালে এফবিআই সিয়াদের কার্যকলাপের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছিল এবং এ বছরের শুরুতে ফরাসি প্রসিকিউটররা এপস্টাইন ফাইল বিশ্লেষণের জন্য একটি বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেট দল গঠন করেন।
মডেলিংয়ের পাশাপাশি এপস্টাইনের সঙ্গে দেখা করার জন্য উপযুক্ত নারীদেরও তিনি খুঁজে দিতেন।২০১৪ সালে এপস্টেইনকে লেখা এক ইমেইলে তিনি তার কাজকে মাছ ধরার সঙ্গে তুলনা করে লিখেছিলেন, ‘এই ব্যস্ততায় আমি মাঝে মাঝে মাছ ধরার মতো অনুভব করি, কখনো দ্রুত ধরা পড়ে, কখনো কোনো মাছ নেই।’এপস্টেইন ফাইলগুলোতে সিয়াদকে তার সবচেয়ে অনুগত সহযোগীদের একজন হিসেবে দেখানো হয়েছে।
Leave a Reply