জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেছেন, সময়ের প্রয়োজনে বিভিন্ন সময়ে দেশের সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) বিকালে রাজধানীর গুলশানে নিজ রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত জাতীয় পার্টির এক যৌথ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও সাবেক মন্ত্রী বীরমুক্তিযোদ্ধা এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার।
ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ সভায় বলেন, সংবিধান একটি চলমান দলিল। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সময়, রাষ্ট্র ও জনগণের প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংবিধান সংশোধনের নজির রয়েছে। অতীতে জাতীয় পার্টির শাসনামলেও সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও দেশের স্বার্থ, গণতন্ত্রের বিকাশ ও জনগণের প্রত্যাশার আলোকে প্রয়োজনে তা আবারও হতে পারে।
দেশের শাসনব্যবস্থা নিয়ে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের জন্য প্রাদেশিক সরকার ও বিচারব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণ প্রয়োজন। এছাড়া রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার বিষয়েও মনোযোগ দেওয়ার সময় এসেছে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা নিশ্চিত করতে নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে তিনি নির্বাচন কমিশনের আইন সংশোধনের সুপারিশকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের এই সুপারিশ দেখে মনে হচ্ছে নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক করতে তাদের আন্তরিকতা রয়েছে। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনই গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে এবং জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করে। এক্ষেত্রে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা অপরিহার্য বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি হলো সুশাসন, আইনের শাসন এবং জনগণের অধিকার নিশ্চিত করা। দেশের বর্তমান বাস্তবতায় গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করতে হবে। মতের ভিন্নতা থাকলেও রাজনৈতিক সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং সংলাপের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই। সরকারকে এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে প্রতিটি নাগরিক সমান আইনি সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার পাবে।
তিনি আরও বলেন, জনগণের প্রত্যাশা একটি জবাবদিহিমূলক, স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা। যে রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কথা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বারবার বলছেন, আমরা তার এই কথার বাস্তব প্রতিফলন দেখতে চাই। কারণ আমরা বিশ্বাস করি, গণতন্ত্র তখনই অর্থবহ হয়, যখন আইনের শাসন কার্যকর থাকে এবং রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে।
এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার হামে ৮০০ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এ মৃত্যুর ঘটনায় এখনো দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ায় আমরা উদ্বিগ্ন। একটি সভ্য ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এমন ঘটনার নিরপেক্ষ, দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া জরুরি। প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি অব্যাহত থাকলে জনগণের ন্যায়বিচারের প্রতি আস্থা ক্ষুণ্ন হবে। তিনি সরকারকে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে, সুশাসন নিশ্চিত করতে এবং জনগণের জানমাল ও সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
Leave a Reply