ঢাকা ০১:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন তীব্র, ১৬টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:১১:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬ ৪৪ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট’ প্রশ্নপত্র ফাঁস ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র নেতৃত্বে এই আন্দোলন আরও তীব্র হচ্ছে এবং তারা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন। এর আগে পরিবেশকর্মী সোনাম ওয়াংচুকের টানা ২৫ দিনের অনশন এবং শিক্ষার্থীদের ওপর সাম্প্রতিক পুলিশি অ্যাকশনের প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ নতুন মাত্রা পেয়েছে।

আন্দোলনকারীদের সংসদ ভবনমুখী অভিযান ঠেকাতে ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজধানীজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন শহরের ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন বন্ধ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে রাজীব চক, সেন্ট্রাল সেক্রিটারিয়েট, প্যাটেল চক, রামকৃষ্ণ আশ্রম মার্গ, বারাকাম্বা রোড, সুপ্রিম কোর্ট, সেবা তীর্থ, জনপথ, মান্ডি হাউস, আইটিও, দিল্লি গেট, ইন্দ্রপ্রস্থ, খান মার্কেট, জোর বাগ ও শিবাজি স্টেডিয়াম। তবে সাধারণ যাত্রীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে রাজীব চক, মান্ডি হাউস এবং সেন্ট্রাল সেক্রিটারিয়েট স্টেশনে ট্রেন পরিবর্তনের সুবিধা চালু রাখা হয়েছে।

গত সোমবার ‘চলো সংসদ’ অভিযানের সময় দফায় দফায় সংঘর্ষ, টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জের ঘটনা ঘটে। সহিংসতা ও ভাঙচুরের অভিযোগে পুলিশ ইতোমধ্যে একাধিক এফআইআর নথিভুক্ত করেছে। এই সংঘর্ষে শতাধিক পুলিশ সদস্য ও বহু শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আন্দোলনকারীদের প্রতিহত করতে রাজধানীজুড়ে কড়া ব্যারিকেড বসানো হয়েছে এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে পশ্চিমবঙ্গ থেকে সিআরপিএফ-এর অতিরিক্ত ২০টি কোম্পানিকে জরুরি ভিত্তিতে দিল্লিতে নিয়ে আসা হয়েছে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সমর্থনে রাজনৈতিক অঙ্গনও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং অখিলেশ যাদবসহ শীর্ষ বিরোধী নেতারা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন, যেখান থেকে পরে তাদের সাময়িকভাবে আটক করা হয়। অন্যদিকে, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান অভিযোগ করেছেন যে, বিরোধী দলগুলো পার্লামেন্টে আলোচনার পথ এড়িয়ে শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।

এই অচলাবস্থা কাটাতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা বুধবার সিজেপি প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠকে বসতে পারেন বলে জানা গেছে। তবে সিজেপি মুখপাত্র আশুতোষ রঙ্কা জানিয়েছেন, পুলিশের বাধা সত্ত্বেও আন্দোলন এখন বহুগুণ শক্তিশালী হয়েছে এবং দাবি না মানা পর্যন্ত তারা যন্তর মন্তরে তাদের অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন তীব্র, ১৬টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ

আপডেট সময় : ০২:১১:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট’ প্রশ্নপত্র ফাঁস ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র নেতৃত্বে এই আন্দোলন আরও তীব্র হচ্ছে এবং তারা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন। এর আগে পরিবেশকর্মী সোনাম ওয়াংচুকের টানা ২৫ দিনের অনশন এবং শিক্ষার্থীদের ওপর সাম্প্রতিক পুলিশি অ্যাকশনের প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ নতুন মাত্রা পেয়েছে।

আন্দোলনকারীদের সংসদ ভবনমুখী অভিযান ঠেকাতে ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজধানীজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন শহরের ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন বন্ধ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে রাজীব চক, সেন্ট্রাল সেক্রিটারিয়েট, প্যাটেল চক, রামকৃষ্ণ আশ্রম মার্গ, বারাকাম্বা রোড, সুপ্রিম কোর্ট, সেবা তীর্থ, জনপথ, মান্ডি হাউস, আইটিও, দিল্লি গেট, ইন্দ্রপ্রস্থ, খান মার্কেট, জোর বাগ ও শিবাজি স্টেডিয়াম। তবে সাধারণ যাত্রীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে রাজীব চক, মান্ডি হাউস এবং সেন্ট্রাল সেক্রিটারিয়েট স্টেশনে ট্রেন পরিবর্তনের সুবিধা চালু রাখা হয়েছে।

গত সোমবার ‘চলো সংসদ’ অভিযানের সময় দফায় দফায় সংঘর্ষ, টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জের ঘটনা ঘটে। সহিংসতা ও ভাঙচুরের অভিযোগে পুলিশ ইতোমধ্যে একাধিক এফআইআর নথিভুক্ত করেছে। এই সংঘর্ষে শতাধিক পুলিশ সদস্য ও বহু শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আন্দোলনকারীদের প্রতিহত করতে রাজধানীজুড়ে কড়া ব্যারিকেড বসানো হয়েছে এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে পশ্চিমবঙ্গ থেকে সিআরপিএফ-এর অতিরিক্ত ২০টি কোম্পানিকে জরুরি ভিত্তিতে দিল্লিতে নিয়ে আসা হয়েছে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সমর্থনে রাজনৈতিক অঙ্গনও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং অখিলেশ যাদবসহ শীর্ষ বিরোধী নেতারা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন, যেখান থেকে পরে তাদের সাময়িকভাবে আটক করা হয়। অন্যদিকে, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান অভিযোগ করেছেন যে, বিরোধী দলগুলো পার্লামেন্টে আলোচনার পথ এড়িয়ে শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।

এই অচলাবস্থা কাটাতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা বুধবার সিজেপি প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠকে বসতে পারেন বলে জানা গেছে। তবে সিজেপি মুখপাত্র আশুতোষ রঙ্কা জানিয়েছেন, পুলিশের বাধা সত্ত্বেও আন্দোলন এখন বহুগুণ শক্তিশালী হয়েছে এবং দাবি না মানা পর্যন্ত তারা যন্তর মন্তরে তাদের অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।

Facebook Comments Box