দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর সংস্থা আসিয়ান (ASEAN)-এর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দিতে বর্তমানে ফিলিপাইনের ম্যানিলায় অবস্থান করছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তবে তার এই সফরকে কেন্দ্র করে সম্মেলনস্থলের বাইরে ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন অসংখ্য আন্দোলনকারী। বিক্ষোভকারীদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে ‘যুদ্ধাপরাধীদের স্বাগতম নয়’, ‘ট্রাম্পকে নিষিদ্ধ করো’ এবং ‘রুবিওকে নিষিদ্ধ করো’-এর মতো স্লোগান দেখা গেছে। ইরান যুদ্ধে রুবিওর ভূমিকার তীব্র নিন্দা জানিয়েই মূলত এই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়।
মানবাধিকার কর্মী ক্রিস্টিনা পালাবে বিক্ষোভের বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, ডনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বিশ্বের প্রধান যুদ্ধাপরাধীতে পরিণত হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, মার্কিন সরকার ফিলিস্তিন, ইরান ও ফিলিপাইনসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষকে বোমা মেরে হত্যা করছে। এসব স্থানে তাদের স্থায়ী উপস্থিতি রয়েছে এবং তারা সামরিক ঘাঁটি পরিচালনা করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আরেকজন, মং পালাতিনো, ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়রের সরকারের প্রতি আহ্বান জানান যেন তারা রুবির সাথে সব ধরনের সহযোগিতা বন্ধ করে। তিনি বলেন, রুবিওর এই সফরের ফলে ফিলিপাইনে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ লুটপাটের শিকার হবে। মার্কিন সরকারের সাথে হাত মেলানোর জন্য তারা মার্কোস সরকারের তীব্র নিন্দা জানাতেই এখানে সমবেত হয়েছেন।
উল্লেখ্য, আসিয়ানের এই সম্মেলনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও ছাড়াও চীন, রাশিয়া এবং অন্যান্য অংশীদার দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির অস্থিরতা নিয়েই সম্মেলনজুড়ে প্রধান আলোচনা চলছে। এই প্রেক্ষাপটেই ফিলিপাইনের সাধারণ নাগরিক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির বিরুদ্ধে ম্যানিলার রাজপথে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১০টি দেশের আঞ্চলিক জোট আসিয়ানের বার্ষিক এই সম্মেলনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও ছাড়াও চীন, রাশিয়া এবং অন্যান্য অংশীদার দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।
Leave a Reply