ঢাকা ০২:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে এমএসসি ইন মেডিকেল ফিজিক্স চালুর প্রশংসা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর উপজেলার ভোগডাবুরী ইউনিয়ন পরিষদে নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসকের পরিদর্শন নীলফামারীতে জমি নিয়ে বিরোধ, ছোট ভাইয়ের লাঠির আঘাতে বড় ভাই নিহত ক্রসফায়ার ঘিরে আইজিপির বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর আকামার মেয়াদ শেষ হলেও প্রবাসীদের সৌদিতে প্রবেশের সুযোগ: মন্ত্রী এমপি নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিএনপিকর্মীদের নানা অভিযোগ ও ক্ষোভ দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ায় ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ জাইকার সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর ‘জেলার ২’ দিয়ে তামিল সিনেমায় বিশ্ব রেকর্ড রজনীকান্তের পটিয়ায় অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যু: জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্বামী পুলিশ হেফাজতে

শ্যামনগরে জামায়াত এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে অবাঞ্চিত ঘোষণা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৪১:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬ ৩২ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সাতক্ষীরা-৪ সংসদীয় আসনের (শ্যামনগর) জামায়াত দলীয় এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে শ্যামনগরে অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার বেলা ১১টার দিকে শ্যামনগরের সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে আয়োজিত একটি বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে বক্তারা এই ঘোষণা দেন। এর আগে, পৌরসদরের জেসি কমপ্লেক্স চত্বর থেকে উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শত শত নারী ও পুরুষের অংশগ্রহণে একটি মিছিল পৌর সদরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা এ সময় ঝাড়ু ও জুতা নিয়ে নজরুল ইসলামের ছবিতে আঘাত করতে থাকেন।

বিক্ষোভ মিছিল শেষে উপজেলা প্রেসক্লাব চত্বরে আয়োজিত পথসভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সুলাইমান কবির। এ সময় বক্তারা গাজী নজরুল ইসলামকে ধর্ষক আখ্যা দিয়ে তাকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। একই সঙ্গে, তাকে অবাঞ্চিত ঘোষণার পাশাপাশি জাতীয় সংসদ থেকে বহিষ্কারের দাবিও উত্থাপন করা হয়। বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, ১৩ তারিখে ঘটনাটি ঘটলেও গাজী নজরুল ইসলাম কৌশলে তা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তার ড্রাইভার দাবিকৃত টাকা না পেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওগুলো ভাইরাল করে দিলে, এমপি শুরুতে একে এআই প্রযুক্তির কারসাজি বলে দাবি করেন। তবে ফ্যাক্ট চেক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে ভিডিওর সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর নজরুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা ওই তরুণীকে নিয়ে বিয়ের নাটক সাজিয়েছেন বলে বক্তারা মন্তব্য করেন।

বক্তারা আরও বলেন, পদে পদে জালিয়াতি ও মিথ্যাচারের আশ্রয় নেওয়ায় জামায়াতে ইসলামীর আদর্শ প্রদর্শনের স্বার্থে দল থেকে তাকে বহিষ্কার করা উচিত। প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী অ্যাডভোকেট আশেক এলাহী মুন্না, উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আবু সাঈদ, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম দুলু, গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম, পদ্মপুকুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমজাদুল ইসলাম, এবং উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি নুরজাহান পারভীন ঝর্ণা প্রমুখ।

বক্তারা দাবি করেন, অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন ধর্ষণের শামিল। একজন প্রবীণ সংসদ সদস্য হিসেবে নজরুল ইসলামের এই কর্মকাণ্ড পবিত্র সংসদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে। ১৭ জুন বিয়ের কথা বলে ২১ তারিখ বিকেলে কাবিননামার ঘটনাকে তারা তার জালিয়াতি ও মিথ্যাচারের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেন। অবিলম্বে নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। এছাড়া আমিরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তারা বলেন, নীতি ও আদর্শের প্রশ্নে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান স্পষ্ট করতে নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করতে হবে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

শ্যামনগরে জামায়াত এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে অবাঞ্চিত ঘোষণা

আপডেট সময় : ০১:৪১:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

সাতক্ষীরা-৪ সংসদীয় আসনের (শ্যামনগর) জামায়াত দলীয় এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে শ্যামনগরে অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার বেলা ১১টার দিকে শ্যামনগরের সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে আয়োজিত একটি বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে বক্তারা এই ঘোষণা দেন। এর আগে, পৌরসদরের জেসি কমপ্লেক্স চত্বর থেকে উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শত শত নারী ও পুরুষের অংশগ্রহণে একটি মিছিল পৌর সদরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা এ সময় ঝাড়ু ও জুতা নিয়ে নজরুল ইসলামের ছবিতে আঘাত করতে থাকেন।

বিক্ষোভ মিছিল শেষে উপজেলা প্রেসক্লাব চত্বরে আয়োজিত পথসভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সুলাইমান কবির। এ সময় বক্তারা গাজী নজরুল ইসলামকে ধর্ষক আখ্যা দিয়ে তাকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। একই সঙ্গে, তাকে অবাঞ্চিত ঘোষণার পাশাপাশি জাতীয় সংসদ থেকে বহিষ্কারের দাবিও উত্থাপন করা হয়। বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, ১৩ তারিখে ঘটনাটি ঘটলেও গাজী নজরুল ইসলাম কৌশলে তা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তার ড্রাইভার দাবিকৃত টাকা না পেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওগুলো ভাইরাল করে দিলে, এমপি শুরুতে একে এআই প্রযুক্তির কারসাজি বলে দাবি করেন। তবে ফ্যাক্ট চেক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে ভিডিওর সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর নজরুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা ওই তরুণীকে নিয়ে বিয়ের নাটক সাজিয়েছেন বলে বক্তারা মন্তব্য করেন।

বক্তারা আরও বলেন, পদে পদে জালিয়াতি ও মিথ্যাচারের আশ্রয় নেওয়ায় জামায়াতে ইসলামীর আদর্শ প্রদর্শনের স্বার্থে দল থেকে তাকে বহিষ্কার করা উচিত। প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী অ্যাডভোকেট আশেক এলাহী মুন্না, উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আবু সাঈদ, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম দুলু, গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম, পদ্মপুকুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমজাদুল ইসলাম, এবং উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি নুরজাহান পারভীন ঝর্ণা প্রমুখ।

বক্তারা দাবি করেন, অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন ধর্ষণের শামিল। একজন প্রবীণ সংসদ সদস্য হিসেবে নজরুল ইসলামের এই কর্মকাণ্ড পবিত্র সংসদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে। ১৭ জুন বিয়ের কথা বলে ২১ তারিখ বিকেলে কাবিননামার ঘটনাকে তারা তার জালিয়াতি ও মিথ্যাচারের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেন। অবিলম্বে নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। এছাড়া আমিরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তারা বলেন, নীতি ও আদর্শের প্রশ্নে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান স্পষ্ট করতে নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করতে হবে।

Facebook Comments Box