স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দের মধ্য দিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ হয়েছে। আসর শুরুর আগে টিকিটের উচ্চমূল্য, স্বাগতিক শহরগুলোর দীর্ঘ দূরত্ব, ৪৮ দল নিয়ে আয়োজনের ফলে মান কমে যাওয়ার শঙ্কা, ভিসা জটিলতা এবং স্বাগতিক দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে যে বিতর্ক ছিল, টুর্নামেন্ট শেষে তা অনেকটাই আড়ালে চলে গেছে। ফিফা এখন এই আসরকে ইতিহাসের সবচেয়ে সফল আসর হিসেবে তুলে ধরছে। সফল আয়োজন, বিপুল আয় এবং দর্শক আগ্রহকে সামনে রেখে এখন ভবিষ্যতের বিশ্বকাপকে আরও বড় করার আলোচনা শুরু হয়েছে।
বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় একটি ধারণা বেশ জোরালো হয়ে উঠেছে যে, যদি ৪৮ দলের বিশ্বকাপ সফল হয়, তাহলে আরও বড় আসর আয়োজনেও আপত্তির কারণ নেই। সেই ভাবনা থেকেই ৬৪ দল কিংবা আরও বড় পরিসরের বিশ্বকাপের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও ৬৪ দলের বিশ্বকাপ এখনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব নয়, তবু সমর্থকদের আগ্রহ এবং বাণিজ্যিক সম্ভাবনা বিবেচনায় ভবিষ্যতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া অসম্ভব নয় বলেই মনে করছেন অনেকে।
অনেকের মতে, অংশগ্রহণকারী দল বাড়লে প্রতিযোগিতার মান কমতে পারে। তবে বিপরীত মতও রয়েছে। তাদের যুক্তি, ফুটবলের সাফল্য এখন শুধু মান দিয়ে নয়, দর্শকসংখ্যা, সম্প্রচারস্বত্ব এবং আয় দিয়েও পরিমাপ করা হয়। এই ধারণা আরও এক ধাপ এগিয়ে ১২৮ দলের বিশ্বকাপ আয়োজনের পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, আটটি স্বাগতিক দেশে ১৬টি করে দল নিয়ে আলাদা আটটি পর্ব আয়োজন করা যেতে পারে। প্রতিটি পর্ব থেকে দুটি করে দল পরের ধাপে উঠবে। এরপর শেষ ১৬ দলকে নিয়ে নবম একটি দেশে অনুষ্ঠিত হবে চূড়ান্ত পর্ব। সেখানে চারটি গ্রুপে ভাগ করে খেলা শেষে সেমিফাইনাল, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ এবং ফাইনালের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে চ্যাম্পিয়ন।
প্রথম দেখায় এমন আয়োজন অসম্ভব মনে হলেও হিসাব বলছে, সময় খুব বেশি বাড়বে না। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ শেষ হয়েছে ৩৯ দিনে। প্রস্তাবিত ১২৮ দলের বিশ্বকাপও কয়েকটি ধাপ মিলিয়ে প্রায় ৪১ দিনের মধ্যেই শেষ করা সম্ভব বলে মত দেওয়া হয়েছে। ভ্রমণের সময় কিছুটা কমানো গেলে সেটিও ৩৯ দিনের সূচির মধ্যেই রাখা সম্ভব। অবশ্য এত বড় আসরের জন্য বাছাইপর্ব আগের মতোই থাকবে। স্বাগতিক দেশগুলো সরাসরি মূল পর্বে খেলবে, আর বাকি দলগুলোকে বাছাইপর্ব পেরিয়ে জায়গা করে নিতে হবে।
এই পরিকল্পনার সমর্থকদের মতে, এতে ইতালির মতো শক্তিশালী দলগুলোর বিশ্বকাপে না থাকার সম্ভাবনা কমবে। একই সঙ্গে চীন, ভারতসহ বড় বাজারের দেশগুলোর অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়বে। এছাড়া বিভিন্ন দেশ তুলনামূলক কম খরচে বিশ্বকাপের একটি পর্ব আয়োজন করতে পারবে। তাদের বিশ্বাস, এতে সম্প্রচারস্বত্বের মূল্য এবং বাণিজ্যিক আয় আরও অনেক বেড়ে যাবে, কারণ ফুটবলের প্রতি সমর্থকদের আগ্রহ কমার কোনো লক্ষণ নেই। প্রতিবেদনে বলা হয়, এমন একটি পরিকল্পনায় অসুবিধার চেয়ে সুবিধাই বেশি। এমনকি ভবিষ্যতে ১২৮ দলের বিশ্বকাপ বাস্তবায়িত হলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
Leave a Reply