ঢাকা ০১:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে কাতারের প্রয়াত আমির শেখ হামাদ বিন খলিফার প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি মেসির দুর্দান্ত গোলে এগিয়ে থেকেও জয় পেল না ইন্টার মায়ামি ইন্দোনেশিয়ার জাভা সাগরে ২৪০ যাত্রী নিয়ে নিখোঁজ জাহাজ কারা অধিদপ্তরের নতুন মহাপরিদর্শক ও অতিরিক্ত মহাপরিদর্শকের নিয়োগ বাতিল সাম্প্রদায়িক বিভাজন নয়, ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের প্রত্যয়ে নতুন ফোরামের যাত্রা শুরু নারী এশিয়া কাপের ফাইনালে মুখোমুখি ভারত ও শ্রীলঙ্কা: শিরোপার লড়াইয়ে মরিয়া দুই দল ইয়েমেনে সংঘাতের তীব্রতা বৃদ্ধি: সৌদি আরবে হুতিদের হামলা ও পাল্টা বিমান অভিযান এমবাপের জোড়ায় ৪-১ গোলে বড় জয় পেল রিয়াল মাদ্রিদ রাখাল থেকে কোটিপতি: টাঙ্গাইলের সখীপুরে বরই চাষে মোসলেমের অভাবনীয় সাফল্য দলের সকল কমিটিতে শূন্য পদ পূরণের সিদ্ধান্ত বিএনপির

সৌদির পরমাণু স্বপ্নে ট্রাম্পের ছাড়পত্র, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সমীকরণ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:২৭:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবের সঙ্গে একটি ‘ঐতিহাসিক’ বেসামরিক পরমাণু চুক্তির অনুমোদন দিয়েছেন। প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ৩০ বছর মেয়াদী এই চুক্তির আওতায় সৌদি ভূখণ্ডেই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ তৈরি হতে পারে, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি ও কৌশলগত সমীকরণে এক বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অনুমোদিত চুক্তির শর্ত অনুসারে, সৌদি আরব বেসামরিক খাতে পরমাণু শক্তির ব্যবহার করতে পারবে। আগামী ৩০ বছর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র সৌদিকে পরমাণু শক্তি সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রযুক্তি ও উপকরণ সরবরাহ করবে এবং পরামর্শ সহায়তা দেবে। এর বিনিময়ে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রকে কয়েক হাজার কোটি ডলার প্রদান করবে। এই চুক্তি কার্যকর হলে স্বাভাবিকভাবেই সৌদির পরমাণু শক্তি এবং বেসামরিক পরমাণু কর্মসূচিতে বিনিয়োগের দুয়ার মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য উন্মুক্ত হবে।

তবে ট্রাম্পের অনুমোদিত এই চুক্তিতে ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ নীতি অন্তর্ভুক্ত নেই। সৌদি আরব যদি চায়, তবে এই চুক্তির মধ্যে থেকেই পরমাণু বিশুদ্ধকরণ এবং খরচ হওয়া পরমাণু জ্বালানির পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ কার্যক্রম চালু রাখতে পারবে। এছাড়া এই চুক্তিতে ‘অতিরিক্ত প্রটোকল’ বা অ্যাডিশনাল প্রটোকল নীতিও এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। সাধারণত বেসামরিক পরমাণু প্রকল্প চুক্তিতে এই নীতি থাকা প্রায় অপরিহার্য, যার আওতায় জাতিসংঘের পরমাণু প্রকল্প পর্যবেক্ষণ বিষয়ক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটোমিক অ্যানার্জি অথরিটি (আইএইএ) যে কোনো সময়ে যে কোনো দেশের পরমাণু প্রকল্পের কর্মসূচি পরিদর্শন করতে পারে।

ট্রাম্পের অনুমোদিত চুক্তির খসড়ায় বলা হয়েছে, এই প্রকল্পের সুরক্ষা ব্যবস্থাগুলো যুক্তরাষ্ট্র এবং সৌদি আরবের মধ্যে দ্বিপাক্ষিকভাবে নির্ধারণ করা হবে। অর্থাৎ কংগ্রেসে এই চুক্তির খসড়া পাশ হলে ইউরেনিয়াম ক্রয় ও সমৃদ্ধ করার পথে সৌদির কোনো বাধা থাকবে না। বিশেষজ্ঞরা ইতোমধ্যেই সতর্কবার্তা দিয়েছেন যে, কঠোর সুরক্ষা ব্যবস্থা আরোপ করা না হলে এই চুক্তি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ খুলে দিতে পারে।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এর আগে একাধিকবার বলেছেন যে, আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করলে সৌদি আরবও নিজস্ব পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করবে। পরমাণু বোমা তৈরির দু’টি প্রধান ধাপ হলো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং প্লুটোনিয়াম পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ। বেসামরিক পারমাণবিক চুল্লি পরিচালনাকারী বেশিরভাগ দেশ অভ্যন্তরীণভাবে উৎপাদনের পরিবর্তে কঠোর আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের অধীনে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আমদানি করে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়া অভ্যন্তরীণভাবে সমৃদ্ধকরণের অনুমতি পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তারের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সৌদির পরমাণু স্বপ্নে ট্রাম্পের ছাড়পত্র, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সমীকরণ

আপডেট সময় : ০১:২৭:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবের সঙ্গে একটি ‘ঐতিহাসিক’ বেসামরিক পরমাণু চুক্তির অনুমোদন দিয়েছেন। প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ৩০ বছর মেয়াদী এই চুক্তির আওতায় সৌদি ভূখণ্ডেই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ তৈরি হতে পারে, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি ও কৌশলগত সমীকরণে এক বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অনুমোদিত চুক্তির শর্ত অনুসারে, সৌদি আরব বেসামরিক খাতে পরমাণু শক্তির ব্যবহার করতে পারবে। আগামী ৩০ বছর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র সৌদিকে পরমাণু শক্তি সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রযুক্তি ও উপকরণ সরবরাহ করবে এবং পরামর্শ সহায়তা দেবে। এর বিনিময়ে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রকে কয়েক হাজার কোটি ডলার প্রদান করবে। এই চুক্তি কার্যকর হলে স্বাভাবিকভাবেই সৌদির পরমাণু শক্তি এবং বেসামরিক পরমাণু কর্মসূচিতে বিনিয়োগের দুয়ার মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য উন্মুক্ত হবে।

তবে ট্রাম্পের অনুমোদিত এই চুক্তিতে ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ নীতি অন্তর্ভুক্ত নেই। সৌদি আরব যদি চায়, তবে এই চুক্তির মধ্যে থেকেই পরমাণু বিশুদ্ধকরণ এবং খরচ হওয়া পরমাণু জ্বালানির পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ কার্যক্রম চালু রাখতে পারবে। এছাড়া এই চুক্তিতে ‘অতিরিক্ত প্রটোকল’ বা অ্যাডিশনাল প্রটোকল নীতিও এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। সাধারণত বেসামরিক পরমাণু প্রকল্প চুক্তিতে এই নীতি থাকা প্রায় অপরিহার্য, যার আওতায় জাতিসংঘের পরমাণু প্রকল্প পর্যবেক্ষণ বিষয়ক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটোমিক অ্যানার্জি অথরিটি (আইএইএ) যে কোনো সময়ে যে কোনো দেশের পরমাণু প্রকল্পের কর্মসূচি পরিদর্শন করতে পারে।

ট্রাম্পের অনুমোদিত চুক্তির খসড়ায় বলা হয়েছে, এই প্রকল্পের সুরক্ষা ব্যবস্থাগুলো যুক্তরাষ্ট্র এবং সৌদি আরবের মধ্যে দ্বিপাক্ষিকভাবে নির্ধারণ করা হবে। অর্থাৎ কংগ্রেসে এই চুক্তির খসড়া পাশ হলে ইউরেনিয়াম ক্রয় ও সমৃদ্ধ করার পথে সৌদির কোনো বাধা থাকবে না। বিশেষজ্ঞরা ইতোমধ্যেই সতর্কবার্তা দিয়েছেন যে, কঠোর সুরক্ষা ব্যবস্থা আরোপ করা না হলে এই চুক্তি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ খুলে দিতে পারে।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এর আগে একাধিকবার বলেছেন যে, আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করলে সৌদি আরবও নিজস্ব পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করবে। পরমাণু বোমা তৈরির দু’টি প্রধান ধাপ হলো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং প্লুটোনিয়াম পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ। বেসামরিক পারমাণবিক চুল্লি পরিচালনাকারী বেশিরভাগ দেশ অভ্যন্তরীণভাবে উৎপাদনের পরিবর্তে কঠোর আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের অধীনে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আমদানি করে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়া অভ্যন্তরীণভাবে সমৃদ্ধকরণের অনুমতি পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তারের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।

Facebook Comments Box