নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার বন্দউষান গ্রামে পাহাড়ি ঢলের তোড়ে নেতাই নদীর পাড় ভেঙে গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকাল থেকে উজানের আকস্মিক ঢলে নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে বন্দউষান হাজী বাড়ি জামে মসজিদের সামনের অংশসহ প্রায় ১০০ মিটার এলাকা ভেঙে যায়। এই ভাঙন দিয়েই পানি ঢুকে আশপাশের কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ইমরান মিয়া জানিয়েছেন, ভাঙনটি শুরুতে ছোট থাকলেও পানির প্রবল স্রোতে তা ক্রমান্বয়ে বড় আকার ধারণ করেছে। বন্যার পানিতে প্রায় ২০ একরের বেশি আমনের বীজতলা তলিয়ে গেছে এবং ভেসে গেছে বিভিন্ন পুকুর ও মাছের ঘের। এছাড়া ঢলের পানিতে বৈদ্যুতিক খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় গত প্রায় দুই দিন ধরে ওই এলাকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ সাদাত ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া মৌলভীবাজার থেকে বন্দউষান হয়ে পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অনুদান প্রদানের বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে তিনি জানান।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন জানান, মেঘালয়ের পাহাড়ি ঢলে নেতাই নদীর পানি বাড়লে পাড়ের পেছনের অংশ নিচু থাকায় ভাঙনের সৃষ্টি হয়। তিনি আরও বলেন, পানি কমলে প্রাথমিকভাবে ভাঙন মোকাবিলার যাবতীয় কার্যক্রম শুরু হবে এবং নতুন করে যেন পানি প্রবাহিত না হয় সেজন্য দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলে মেরামত করা হবে।
এদিকে, পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে সীমান্ত উপজেলা কলমাকান্দাতেও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেখানে পাহাড়ি গণেশ্বরী নদীর পানি বেড়ে সড়ক উপচে গ্রামীণ সড়ক প্লাবিত হয়েছে এবং গজারমারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আংশিক অংশ ভেঙে গেছে।
Leave a Reply