ঢাকা ১১:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রী |: উদ্যোক্তা তৈরিতে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশকে হারিয়ে সিরিজ হোয়াইটওয়াশের লক্ষ্য উইন্ডিজ অধিনায়কের বাসায় ডিজে পার্টি ও মাদক উদ্ধার: অতিরিক্ত ডিআইজি জহির বরখাস্ত জাতীয় ক্রিকেট লিগ: মিঠুন ও নুরুলের শতকে প্রথম দিন খুলনার২২০ রান পটিয়ায় শিশু অপহরণের ঘটনায় পলাতক বাবা-ছেলে রামুতে গ্রেপ্তার সাফে ২৩ বছরের দীর্ঘ খরা কাটাতে চায় বাংলাদেশ জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরে ৯৫ পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আবেদন শুরু ২৯ অক্টোবর পরিবার নয়, মানুষের পরিচয় তার চরিত্রে: প্রভা চাকরি হারালেন সাবেক ডিবিপ্রধান হারুনসহ সাত পুলিশ কর্মকর্তা এইচএসসিতে অকৃতকার্য ৪ লাখ ২২ হাজার শিক্ষার্থীর বিশেষ পরীক্ষার সুযোগ

লক্ষ্মীপুরে নকল ঘি তৈরির দায়ে ৩ লাখ টাকা জরিমানা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:১২:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ ৪২ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

লক্ষ্মীপুরের বিসিক শিল্প নগরীতে অবস্থিত 'আবু তাহের ছানা কোম্পানি' নামক প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে ৩৮ কার্টুন নকল ঘি জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। মঙ্গলবার বিকেলে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভি দাশের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে জেলা নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক সুমধু চক্রবর্তীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠানটি ৫০ কার্টুন ঘি বিক্রির অর্ডার নিয়েছিল। জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) তথ্যের ভিত্তিতে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় পরিচালিত এই অভিযানে ৩৮ কার্টুন নকল ঘি জব্দ করা হয়। জব্দকৃত প্রতিটি কার্টুনে ৯০০ গ্রাম ওজনের ১২টি করে কৌটা ছিল। এসব ঘি ভ্রাম্যমাণ আদালতের সামনেই বিনষ্ট করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অভিযানে প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার ও কারিগর জিল্লাল হোসেনকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করলে তাকে দুই মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে এবং তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত জিল্লাল সদর উপজেলার চররুহিতা গ্রামের বশির উল্যার ছেলে। প্রতিষ্ঠানের মূল মালিক জিল্লালের ভাই আব্দুল মান্নান অভিযানের সময় পলাতক ছিলেন।

জিল্লাল ভ্রাম্যমাণ আদালতের সামনে স্বীকার করেছেন যে, তারা সয়াবিন তেল, ডাল্টা ও ঘির ফ্লেভার মিশিয়ে ঘি তৈরি করতেন এবং প্রতিটি ৯০০ গ্রামের কৌটা ১৪০০ টাকায় বিক্রি করতেন। যদিও কারখানায় অভিযানের সময় কোনো সয়াবিন তেল পাওয়া যায়নি।

জেলা নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক সুমধু চক্রবর্তী জানান, প্রতিষ্ঠানটি মার্জারিন ঘি উৎপাদনের জন্য অনুমোদন নিলেও বাস্তবে নকল ঘি তৈরি করছিল, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এছাড়া ঘিয়ের কৌটায় নগদ টাকার কুপন রাখা এবং নোংরা পরিবেশে ঘি তৈরির অভিযোগও রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বিসিক থেকে জমি নিয়ে 'আবু তাহের ছানা কোম্পানি' নাম ব্যবহার করলেও বর্তমানে 'তাহের ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ' নামে নকল ঘি উৎপাদন করছিল বলে জানা গেছে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

লক্ষ্মীপুরে নকল ঘি তৈরির দায়ে ৩ লাখ টাকা জরিমানা

আপডেট সময় : ০৯:১২:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

লক্ষ্মীপুরের বিসিক শিল্প নগরীতে অবস্থিত 'আবু তাহের ছানা কোম্পানি' নামক প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে ৩৮ কার্টুন নকল ঘি জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। মঙ্গলবার বিকেলে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভি দাশের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে জেলা নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক সুমধু চক্রবর্তীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠানটি ৫০ কার্টুন ঘি বিক্রির অর্ডার নিয়েছিল। জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) তথ্যের ভিত্তিতে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় পরিচালিত এই অভিযানে ৩৮ কার্টুন নকল ঘি জব্দ করা হয়। জব্দকৃত প্রতিটি কার্টুনে ৯০০ গ্রাম ওজনের ১২টি করে কৌটা ছিল। এসব ঘি ভ্রাম্যমাণ আদালতের সামনেই বিনষ্ট করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অভিযানে প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার ও কারিগর জিল্লাল হোসেনকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করলে তাকে দুই মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে এবং তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত জিল্লাল সদর উপজেলার চররুহিতা গ্রামের বশির উল্যার ছেলে। প্রতিষ্ঠানের মূল মালিক জিল্লালের ভাই আব্দুল মান্নান অভিযানের সময় পলাতক ছিলেন।

জিল্লাল ভ্রাম্যমাণ আদালতের সামনে স্বীকার করেছেন যে, তারা সয়াবিন তেল, ডাল্টা ও ঘির ফ্লেভার মিশিয়ে ঘি তৈরি করতেন এবং প্রতিটি ৯০০ গ্রামের কৌটা ১৪০০ টাকায় বিক্রি করতেন। যদিও কারখানায় অভিযানের সময় কোনো সয়াবিন তেল পাওয়া যায়নি।

জেলা নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক সুমধু চক্রবর্তী জানান, প্রতিষ্ঠানটি মার্জারিন ঘি উৎপাদনের জন্য অনুমোদন নিলেও বাস্তবে নকল ঘি তৈরি করছিল, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এছাড়া ঘিয়ের কৌটায় নগদ টাকার কুপন রাখা এবং নোংরা পরিবেশে ঘি তৈরির অভিযোগও রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বিসিক থেকে জমি নিয়ে 'আবু তাহের ছানা কোম্পানি' নাম ব্যবহার করলেও বর্তমানে 'তাহের ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ' নামে নকল ঘি উৎপাদন করছিল বলে জানা গেছে।

Facebook Comments Box