শহীদ দিবসের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। নয়াদিল্লিতে চলমান আন্দোলনের পাশাপাশি কলকাতায় তৃণমূল কংগ্রেসের শহীদ দিবসের কর্মসূচিকে ঘিরে এই উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) কলকাতার বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে তৃণমূল কংগ্রেসের শহীদ দিবসের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, শহীদ দিবসের সভামঞ্চে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (২০ জুলাই) রাতে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী নিজেই বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে উপস্থিত হয়ে মঞ্চ পাহারার দায়িত্ব নেন। এ সময় তার সঙ্গে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জী উপস্থিত ছিলেন।
কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেসের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে, রাতের অন্ধকারে বিজেপি কর্মীরা সভামঞ্চে হামলা চালায়। দলটির দাবি, মঞ্চের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে এবং পোস্টার ও ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। ঘটনাস্থলে মমতা ব্যানার্জী অভিযোগ করেন যে, বিজেপির ৬০ থেকে ৬৫ জনের একটি বাইক বাহিনী ও কিছু দুর্বৃত্ত এই হামলার সঙ্গে জড়িত। তিনি আরও অভিযোগ করেন, অভিষেক ব্যানার্জী ও কল্যাণ ব্যানার্জীর ওপরও হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং কর্মী-সমর্থকদের শহীদ দিবসের কর্মসূচিতে আসতে বাধা দেওয়া হচ্ছে।
মমতা ব্যানার্জী বলেন, বর্ষার দুর্যোগের মধ্যেও মানুষকে থামিয়ে রাখা সম্ভব নয় এবং শহীদদের স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠান কোনো শক্তি দিয়ে বন্ধ করা যাবে না। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, কলকাতার মেয়ো রোডে তৃণমূলের বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পৃথকভাবে শহীদ দিবসের কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। ফলে ২১ জুলাইকে ঘিরে পুরো কলকাতায় রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে।
Leave a Reply