পারস্য উপসাগরে অবরুদ্ধ বাংলার জয়যাত্রার নাবিকদের দেশে ফেরা
  1. admin@sristy.net : admin :
পারস্য উপসাগরে অবরুদ্ধ বাংলার জয়যাত্রার নাবিকদের দেশে ফেরা
বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মানিকগঞ্জে স্কুলছাত্র নিখোঁজ: চিরকুটে লিখে গেল ‘কেউ আমাকে খোঁজার চেষ্টা করবে না খুলনায় ব্যবসায়ীকে লক্ষ্য করে গুলির ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক এসকেএস ফাউন্ডেশনে ২৭৭ পদে নিয়োগ: আবেদনের সুযোগ ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন দফা দাবিতে ঠাকুরগাঁওয়ে অ্যাম্বুলেন্স চালকদের কর্মবিরতি: জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি ২০৩০ বিশ্বকাপ ফুটবলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্পেনের সাথে কাতারের চুক্তি ইউএস ওপেন: ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আলকারাজকে হারিয়ে সেমিফাইনালে বেন শেলটন স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় থাকবে: সিইসি সিঙ্গাপুরে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামানের সম্পদ ক্রোক ও ব্যাংক হিসাব ফ্রিজের নির্দেশ সেপ্টেম্বরের শেষ ও অক্টোবরে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়বে, সতর্কবার্তা স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর সিলেটে ট্রেনের টিকিট কালোবাজারির অভিযোগে আরএনবির দুই সদস্য আটক

পারস্য উপসাগরে অবরুদ্ধ বাংলার জয়যাত্রার নাবিকদের দেশে ফেরা

সৃষ্টি ডেস্ক :
  • প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬

পারস্য উপসাগরে চার মাস অবরুদ্ধ থাকার পর দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’র নাবিকেরা। দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবান থেকে রওনা হয়ে আজ বিকেলে তাঁদের বহনকারী উড়োজাহাজটি ঢাকায় পৌঁছায়। সন্ধ্যায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জাহাজের ক্যাপ্টেন মো. শফিকুল ইসলাম তাঁদের দীর্ঘ অবরুদ্ধ দশার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।

ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম জানান, পারস্য উপসাগরে যুদ্ধের উত্তাল সময়ে অনেক জাহাজের নাবিকেরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত বা ট্রমাটাইজড হয়ে পড়েছিলেন। অনেক নাবিক মারাও গেছেন, কিন্তু তাঁদের চিকিৎসার জন্য কেউ এগিয়ে আসেনি। যুদ্ধের সময় হরমুজ প্রণালিতে আটকা পড়া বাংলার জয়যাত্রা জাহাজটি ৩ মাস ২৫ দিন পর গত ২৩ জুন রাতে প্রণালি পার হতে সক্ষম হয়। ক্যাপ্টেন বলেন, যুদ্ধের সময় ক্ষেপণাস্ত্র জাহাজের ওপর দিয়ে যাচ্ছিল এবং পাশে জাহাজ ডুবে যাচ্ছিল। রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় তাঁরা জাহাজ ছেড়ে যাননি, যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বারবার নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।

জেবেল আলী বন্দরে অবস্থানকালের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে ক্যাপ্টেন শফিকুল বলেন, এক রাতে তাঁদের পাশের বার্থে একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়। এতে একটি তেলের ট্যাংকারে আগুন ধরে যায়, যা ছয়টি টাগবোট দিয়েও নেভানো সম্ভব হয়নি। ওই ট্যাংকারের কোনো একটি ট্যাংক বিস্ফোরিত হলে আগুন তাঁদের জাহাজেও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি ছিল। জাহাজের তৎকালীন কমান্ডিং অফিসার প্রণয় কৃষ্ণ সেন জানান, স্যাটেলাইট নেভিগেশন ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়ায় তাঁদের সম্পূর্ণ ম্যানুয়াল নেভিগেশনের মাধ্যমে জাহাজ চালাতে হয়েছে। এছাড়া এলাকায় মাইন থাকায় সামান্য বিচ্যুতিতেও বড় ধরনের বিস্ফোরণের ঝুঁকি ছিল।

সংবাদ সম্মেলনে ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, দেশবাসী তাঁদের জন্য দোয়া ও মানসিক সমর্থন দিয়েছেন। বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের কারণেই রাষ্ট্রীয় সম্পদসহ তাঁরা নিরাপদে ফিরে আসতে পেরেছেন। বিমানবন্দর টার্মিনালে পৌঁছানোর পর বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) কর্মকর্তারা নাবিকদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। বাইরে অপেক্ষমাণ স্বজনদের সাথে মিলিত হওয়ার সময় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

উল্লেখ্য, গত ২ ফেব্রুয়ারি ভারত থেকে পণ্য নিয়ে হরমুজ প্রণালি হয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করেছিল বাংলার জয়যাত্রা। এরপর কাতারের একটি বন্দর থেকে স্টিল কয়েল নিয়ে ২৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছায়। এর পরের দিনই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাত শুরু হলে নিরাপত্তাঝুঁকিতে জাহাজটি সেখানে আটকা পড়ে। ১১৫ দিন পর ইরানি বাহিনীর অনুমতি নিয়ে জাহাজটি হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর















WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
error: Content is protected !!