ঢাকা ১১:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রোনালদোর হাজার গোলের মাইলফলক নিয়ে তৈরি হলো নতুন বিতর্ক নেতানিয়াহুর ব্যর্থতার তদন্ত চেয়ে উত্তাল তেল আবিব কুয়েটে শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ, আবেদন অনলাইনে ইরানে যেকোনো দিন হামলা হতে পারে, হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের ভোলার লালমোহনে শিমগাছ রোপণ নিয়ে দ্বন্দ্বে যুবদল নেতা নিহত মাদরাসায় শিক্ষার্থী সুরক্ষা কমিটি গঠনের নির্দেশ হেফাজতে ইসলামের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী |: নোট অব ডিসেন্টে পরিবর্তন চাইলে বৈঠকে আসতে হবে এল ক্লাসিকোর পাশাপাশি থাকছে আজকের দিনের ফুটবল ম্যাচ মার্কিন নাগরিকদের হত্যার চূড়ান্ত ছক কষছে ইরান: গোয়েন্দা সতর্কবার্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান কে হবেন

সুনামগঞ্জে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ না দেওয়ায় নামজারি বাতিল

সুনামগঞ্জ থেকে আমির হোসেন
  • আপডেট সময় : ০৫:৫১:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫৬ বার পড়া হয়েছে

মধ্যনগর সদর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা গোলাম সারোয়ার।

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

সুনামগঞ্জে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ না দেওয়ায় নামজারি বাতিল

নামজারি করে দিতে চাওয়া হয়েছিল ৫০ হাজার টাকা। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় নামজারি আবেদন করা হয় নামঞ্জুর। একই বণ্টননামা ও মালিকানা কাগজের ভিত্তিতে ভাইয়ের নামজারি মঞ্জুর হলেও নিজের আবেদন নামঞ্জুর হওয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্বজিৎ সরকার নামে এক কৃষক।

এখানেই শেষ নয়, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের জন্য হোল্ডিং অনুমোদনের আবেদন করার পর মাত্র একদিনের মধ্যে সেটিও বাতিল করা হয়েছে। এমনই গুরুতর অভিযোগ ওঠেছে সুনামগঞ্জের মধ্যনগর সদর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা গোলাম সারোয়ারের বিরুদ্ধে। বিশ্বজিৎ উপজেলার চামরদানি ইউনিয়নের সুলেমানপুর গ্রামের পুতুল সরকারের ছেলে।

 

পড়ুন>>১৬ বছর পর বার্নাব্যুতে হোসে মরিনিও: রিয়াল মাদ্রিদের ডাগআউটে নতুন শুরুর অপেক্ষায়

বিশ্বজিৎ তাঁর অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, গত ১ আগস্ট বিশ্বজিৎ নিজের নামে তিনটি ক্রয় দলিল এবং সহোদর ভাইদের সঙ্গে বণ্টননামা দলিলের মাধ্যমে পাওয়া মোট ২৭৫ শতাংশ জমির নামজারির জন্য আবেদন করেন (নং-৪২৩৯৮৩৮)। যা তদন্তের জন্য সারোয়ারের কাছে পাঠানো হয়। কিন্তু সারোয়ার বিশ্বজিৎকে একাধিকবার ফোন করে তার অফিসে এবং অফিসের সামনের রাস্তায় দেখা করতে বলেন।

 

 

বিশ্বজিৎ দেখা করলে সারোয়ার বিশ্বজিতের কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। বিশ্বজিৎ ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিলে সারোয়ার তাতে রাজি হননি। এদিকে গত ১৭ আগস্ট ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের জন্য হোল্ডিং অনুমোদনের আবেদন করেন বিশ্বজিৎ। কিন্তু পরদিনই আবেদনটি বাতিল করেন সারোয়ার।

 

 

পড়ুন>>১৬ বছর পর বার্নাব্যুতে হোসে মরিনিও: রিয়াল মাদ্রিদের ডাগআউটে নতুন শুরুর অপেক্ষায়

বিশ্বজিৎ সরকার বলেন, একই দলিল ও সংশ্লিষ্ট মালিকানা কাগজের ভিত্তিতে আমার ভাইয়ের নামে নামজারি মঞ্জুর হয়েছে। পরবর্তীতে ভাই সেই জমি অন্যত্র হস্তান্তরও করেছেন। আমার বিরুদ্ধে খাজনা পরিশোধ না করার অভিযোগ তুলে নামজারি আবেদন না মঞ্জুর করেছেন এবং আমার ভাইয়ের নামজারি নাকি ভুলবশত করেছেন| তাই তিনি (সারোয়ার) প্রয়োজনে আমার ভাইয়ের নামজারি খতিয়ান, বণ্টননামা ও হস্তান্তর দলিল বাতিল করে দেওয়ারও হুমকি দিয়েছেন।

 

আরও পড়ুন>>গণপূর্ত অধিদপ্তরে সুশাসন ও স্বচ্ছতা: প্রধান প্রকৌশলীর নেতৃত্বে ফিরছে শৃঙ্খলা

অভিযুক্ত গোলাম সারোয়ার বলেন, ‘আমি ৫০ হাজার টাকা দাবি করেছি তার প্রমাণ দিতে পারবেনা। বিশ্বজিতের ভাইয়ের বাটোয়ারা দলিলটি সম্প্রতি হওয়ায় আমি ধরে নিয়েছিলাম উক্ত জায়গার খাজনা পরিশোধ করা হয়েছে এবং সরলমনে তা মঞ্জুর করেছি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি পেলে তা বাতিল করা হবে। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

বাদশাগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রার পলাশ তালুকদার জানান, সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২ অনুযায়ী বণ্টননামা হস্তান্তর দলিল নয়। তাই বণ্টননামা দলিল সম্পাদনের ক্ষেত্রে ভূমি উন্নয়ন করের রশিদ বাধ্যতামূলক নয়। ভূমি উন্নয়ন কর আইন, ২০২৩-এর ৬(২) ও ৬(৩) ধারার বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন।

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সুনামগঞ্জে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ না দেওয়ায় নামজারি বাতিল

আপডেট সময় : ০৫:৫১:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

 

সুনামগঞ্জে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ না দেওয়ায় নামজারি বাতিল

নামজারি করে দিতে চাওয়া হয়েছিল ৫০ হাজার টাকা। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় নামজারি আবেদন করা হয় নামঞ্জুর। একই বণ্টননামা ও মালিকানা কাগজের ভিত্তিতে ভাইয়ের নামজারি মঞ্জুর হলেও নিজের আবেদন নামঞ্জুর হওয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্বজিৎ সরকার নামে এক কৃষক।

এখানেই শেষ নয়, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের জন্য হোল্ডিং অনুমোদনের আবেদন করার পর মাত্র একদিনের মধ্যে সেটিও বাতিল করা হয়েছে। এমনই গুরুতর অভিযোগ ওঠেছে সুনামগঞ্জের মধ্যনগর সদর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা গোলাম সারোয়ারের বিরুদ্ধে। বিশ্বজিৎ উপজেলার চামরদানি ইউনিয়নের সুলেমানপুর গ্রামের পুতুল সরকারের ছেলে।

 

পড়ুন>>১৬ বছর পর বার্নাব্যুতে হোসে মরিনিও: রিয়াল মাদ্রিদের ডাগআউটে নতুন শুরুর অপেক্ষায়

বিশ্বজিৎ তাঁর অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, গত ১ আগস্ট বিশ্বজিৎ নিজের নামে তিনটি ক্রয় দলিল এবং সহোদর ভাইদের সঙ্গে বণ্টননামা দলিলের মাধ্যমে পাওয়া মোট ২৭৫ শতাংশ জমির নামজারির জন্য আবেদন করেন (নং-৪২৩৯৮৩৮)। যা তদন্তের জন্য সারোয়ারের কাছে পাঠানো হয়। কিন্তু সারোয়ার বিশ্বজিৎকে একাধিকবার ফোন করে তার অফিসে এবং অফিসের সামনের রাস্তায় দেখা করতে বলেন।

 

 

বিশ্বজিৎ দেখা করলে সারোয়ার বিশ্বজিতের কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। বিশ্বজিৎ ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিলে সারোয়ার তাতে রাজি হননি। এদিকে গত ১৭ আগস্ট ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের জন্য হোল্ডিং অনুমোদনের আবেদন করেন বিশ্বজিৎ। কিন্তু পরদিনই আবেদনটি বাতিল করেন সারোয়ার।

 

 

পড়ুন>>১৬ বছর পর বার্নাব্যুতে হোসে মরিনিও: রিয়াল মাদ্রিদের ডাগআউটে নতুন শুরুর অপেক্ষায়

বিশ্বজিৎ সরকার বলেন, একই দলিল ও সংশ্লিষ্ট মালিকানা কাগজের ভিত্তিতে আমার ভাইয়ের নামে নামজারি মঞ্জুর হয়েছে। পরবর্তীতে ভাই সেই জমি অন্যত্র হস্তান্তরও করেছেন। আমার বিরুদ্ধে খাজনা পরিশোধ না করার অভিযোগ তুলে নামজারি আবেদন না মঞ্জুর করেছেন এবং আমার ভাইয়ের নামজারি নাকি ভুলবশত করেছেন| তাই তিনি (সারোয়ার) প্রয়োজনে আমার ভাইয়ের নামজারি খতিয়ান, বণ্টননামা ও হস্তান্তর দলিল বাতিল করে দেওয়ারও হুমকি দিয়েছেন।

 

আরও পড়ুন>>গণপূর্ত অধিদপ্তরে সুশাসন ও স্বচ্ছতা: প্রধান প্রকৌশলীর নেতৃত্বে ফিরছে শৃঙ্খলা

অভিযুক্ত গোলাম সারোয়ার বলেন, ‘আমি ৫০ হাজার টাকা দাবি করেছি তার প্রমাণ দিতে পারবেনা। বিশ্বজিতের ভাইয়ের বাটোয়ারা দলিলটি সম্প্রতি হওয়ায় আমি ধরে নিয়েছিলাম উক্ত জায়গার খাজনা পরিশোধ করা হয়েছে এবং সরলমনে তা মঞ্জুর করেছি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি পেলে তা বাতিল করা হবে। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

বাদশাগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রার পলাশ তালুকদার জানান, সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২ অনুযায়ী বণ্টননামা হস্তান্তর দলিল নয়। তাই বণ্টননামা দলিল সম্পাদনের ক্ষেত্রে ভূমি উন্নয়ন করের রশিদ বাধ্যতামূলক নয়। ভূমি উন্নয়ন কর আইন, ২০২৩-এর ৬(২) ও ৬(৩) ধারার বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন।

 

 

Facebook Comments Box