ঢাকা ১১:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ডাক্তার-প্রকৌশলী থেকে পিএইচডি ৩০ ধরনের ডিগ্রিধারী প্রাথমিকের শিক্ষকতায় ডিমলায় বিআরটিসির অবৈধ পাথর বোঝাই ট্রাক আটক রাণীশংকৈলে বৈদ্যুতিক নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন: সভাপতি সুমন, সম্পাদক মান্নান নেতানিয়াহুর প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকট: নতুন ইজরায়েলি রাজনীতির সমীকরণ উচ্চকক্ষের স্পিকারের অধীনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের নতুন প্রস্তাব সন্দ্বীপে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ যুবদল নেতার বিরুদ্ধে ওয়ানডেতে দ্রুততম ১৫০ উইকেটের নতুন রেকর্ড গড়লেন শাহিন আফ্রিদি ফ্রান্সে বিক্ষোভের জেরে প্রায় ১০০০ জন গ্রেপ্তার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৫ পদে নিয়োগ: জেনে নিন আবেদনের নিয়ম শিক্ষার্থীকে নিপীড়নের দায়ে ইমামের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

সার আছে, তাহলে সংকট কেন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করার পাশাপাশি এখনই বন্ধ করতে হবে কৃষকের ভোগান্তি।

মোখলেছুর রহমান
  • আপডেট সময় : ০৭:২৫:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬১ বার পড়া হয়েছে

সার আছে, তাহলে সংকট কেন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করার পাশাপাশি এখনই বন্ধ করতে হবে কৃষকের ভোগান্তি।

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

সার আছে, তাহলে সংকট কেন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করার পাশাপাশি এখনই বন্ধ করতে হবে কৃষকের ভোগান্তি।

 

 

বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তা ও গ্রামীণ অর্থনীতির ভিত্তি কৃষি। অথচ প্রয়োজনের সময় কৃষককে সার না পেয়ে ঘুরতে হয়, অপেক্ষা করতে হয় বা বেশি দামে কিনতে হয়। সরকারি হিসাবে মজুত থাকলেও মাঠে সংকট কেন? এই প্রশ্নের উত্তর জরুরি।

 

 

সার সংকট শুধু উৎপাদন বা আমদানির ঘাটতি নয়; দুর্বল বিতরণব্যবস্থা, মজুতদারি, ডিলারদের অনিয়ম ও নজরদারির অভাবও এর কারণ হতে পারে। গুদামে সার থাকলেও তা কৃষকের কাছে না পৌঁছালে বাস্তবে সংকট থেকেই যায়।

 

 

সরকারি ভর্তুকির উদ্দেশ্য কৃষকের খরচ কমানো। কিন্তু নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার কিনতে হলে কৃষকের উৎপাদন খরচ বাড়ে, লাভ কমে এবং কৃষি নিরুৎসাহিত হয়। তাই কৃত্রিম সার সংকট জাতীয় স্বার্থের বিষয়।

 

 

সার বিতরণে ডিলারদের বরাদ্দ, উত্তোলন, মজুত ও বিক্রির তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ ও প্রকাশ করতে হবে। প্রতিটি বিক্রয়ে রসিদ দেওয়া এবং বিক্রয়কেন্দ্রে সরকারি মূল্য টাঙানো বাধ্যতামূলক করা উচিত।

 

মজুতদারি, বেশি দামে বিক্রি বা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি প্রমাণিত হলে ডিলারশিপ বাতিলসহ কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। শুধু অভিযোগের পর অভিযান নয়, আগাম নজরদারি চালাতে হবে।

 

এক এলাকায় অতিরিক্ত মজুত ও অন্য এলাকায় সংকট থাকলে দ্রুত পুনর্বণ্টনের ব্যবস্থা করতে হবে। জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বাস্তব মজুতের হিসাব রাখা জরুরি।

 

“সরকারের সাফল্য শুধু গুদামে কত টন সার আছে, কত টন উত্তোলন করে বিতরণ করা হয়েছে। তা দিয়ে মাপা যাবে না। মাপকাঠি হতে হবে, কৃষক সময়মতো, নির্ধারিত দামে ও প্রয়োজন অনুযায়ী সার পাচ্ছেন কি না। এটাই মুল কথা। গুদামে সার থাকা মানেই সংকটমুক্ত বাংলাদেশ নয়। কৃষকের হাতে সময়মতো সার পৌঁছানোই প্রকৃত সাফল্য।”

 

কৃষকের অভিযোগ জানানোর জন্য কার্যকর হটলাইন ও অভিযোগকেন্দ্র চালু করতে হবে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত বাফার স্টক, আগাম আমদানি পরিকল্পনা এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত বিতরণব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

 

সরকারের সাফল্য শুধু গুদামে কত টন সার আছে, তা দিয়ে মাপা যাবে না। মাপকাঠি হতে হবে, কৃষক সময়মতো, নির্ধারিত দামে ও প্রয়োজন অনুযায়ী সার পাচ্ছেন কি না। এটাই মুল কথা। গুদামে সার থাকা মানেই সংকটমুক্ত বাংলাদেশ নয়। কৃষকের হাতে সময়মতো সার পৌঁছানোই প্রকৃত সাফল্য।

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সার আছে, তাহলে সংকট কেন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করার পাশাপাশি এখনই বন্ধ করতে হবে কৃষকের ভোগান্তি।

আপডেট সময় : ০৭:২৫:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

সার আছে, তাহলে সংকট কেন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করার পাশাপাশি এখনই বন্ধ করতে হবে কৃষকের ভোগান্তি।

 

 

বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তা ও গ্রামীণ অর্থনীতির ভিত্তি কৃষি। অথচ প্রয়োজনের সময় কৃষককে সার না পেয়ে ঘুরতে হয়, অপেক্ষা করতে হয় বা বেশি দামে কিনতে হয়। সরকারি হিসাবে মজুত থাকলেও মাঠে সংকট কেন? এই প্রশ্নের উত্তর জরুরি।

 

 

সার সংকট শুধু উৎপাদন বা আমদানির ঘাটতি নয়; দুর্বল বিতরণব্যবস্থা, মজুতদারি, ডিলারদের অনিয়ম ও নজরদারির অভাবও এর কারণ হতে পারে। গুদামে সার থাকলেও তা কৃষকের কাছে না পৌঁছালে বাস্তবে সংকট থেকেই যায়।

 

 

সরকারি ভর্তুকির উদ্দেশ্য কৃষকের খরচ কমানো। কিন্তু নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার কিনতে হলে কৃষকের উৎপাদন খরচ বাড়ে, লাভ কমে এবং কৃষি নিরুৎসাহিত হয়। তাই কৃত্রিম সার সংকট জাতীয় স্বার্থের বিষয়।

 

 

সার বিতরণে ডিলারদের বরাদ্দ, উত্তোলন, মজুত ও বিক্রির তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ ও প্রকাশ করতে হবে। প্রতিটি বিক্রয়ে রসিদ দেওয়া এবং বিক্রয়কেন্দ্রে সরকারি মূল্য টাঙানো বাধ্যতামূলক করা উচিত।

 

মজুতদারি, বেশি দামে বিক্রি বা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি প্রমাণিত হলে ডিলারশিপ বাতিলসহ কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। শুধু অভিযোগের পর অভিযান নয়, আগাম নজরদারি চালাতে হবে।

 

এক এলাকায় অতিরিক্ত মজুত ও অন্য এলাকায় সংকট থাকলে দ্রুত পুনর্বণ্টনের ব্যবস্থা করতে হবে। জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বাস্তব মজুতের হিসাব রাখা জরুরি।

 

“সরকারের সাফল্য শুধু গুদামে কত টন সার আছে, কত টন উত্তোলন করে বিতরণ করা হয়েছে। তা দিয়ে মাপা যাবে না। মাপকাঠি হতে হবে, কৃষক সময়মতো, নির্ধারিত দামে ও প্রয়োজন অনুযায়ী সার পাচ্ছেন কি না। এটাই মুল কথা। গুদামে সার থাকা মানেই সংকটমুক্ত বাংলাদেশ নয়। কৃষকের হাতে সময়মতো সার পৌঁছানোই প্রকৃত সাফল্য।”

 

কৃষকের অভিযোগ জানানোর জন্য কার্যকর হটলাইন ও অভিযোগকেন্দ্র চালু করতে হবে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত বাফার স্টক, আগাম আমদানি পরিকল্পনা এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত বিতরণব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

 

সরকারের সাফল্য শুধু গুদামে কত টন সার আছে, তা দিয়ে মাপা যাবে না। মাপকাঠি হতে হবে, কৃষক সময়মতো, নির্ধারিত দামে ও প্রয়োজন অনুযায়ী সার পাচ্ছেন কি না। এটাই মুল কথা। গুদামে সার থাকা মানেই সংকটমুক্ত বাংলাদেশ নয়। কৃষকের হাতে সময়মতো সার পৌঁছানোই প্রকৃত সাফল্য।

 

 

Facebook Comments Box