বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তা ও গ্রামীণ অর্থনীতির ভিত্তি কৃষি। অথচ প্রয়োজনের সময় কৃষককে সার না পেয়ে ঘুরতে হয়, অপেক্ষা করতে হয় বা বেশি দামে কিনতে হয়। সরকারি হিসাবে মজুত থাকলেও মাঠে সংকট কেন? এই প্রশ্নের উত্তর জরুরি।
সার সংকট শুধু উৎপাদন বা আমদানির ঘাটতি নয়; দুর্বল বিতরণব্যবস্থা, মজুতদারি, ডিলারদের অনিয়ম ও নজরদারির অভাবও এর কারণ হতে পারে। গুদামে সার থাকলেও তা কৃষকের কাছে না পৌঁছালে বাস্তবে সংকট থেকেই যায়।
সার বিতরণে ডিলারদের বরাদ্দ, উত্তোলন, মজুত ও বিক্রির তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ ও প্রকাশ করতে হবে। প্রতিটি বিক্রয়ে রসিদ দেওয়া এবং বিক্রয়কেন্দ্রে সরকারি মূল্য টাঙানো বাধ্যতামূলক করা উচিত।
মজুতদারি, বেশি দামে বিক্রি বা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি প্রমাণিত হলে ডিলারশিপ বাতিলসহ কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। শুধু অভিযোগের পর অভিযান নয়, আগাম নজরদারি চালাতে হবে।
এক এলাকায় অতিরিক্ত মজুত ও অন্য এলাকায় সংকট থাকলে দ্রুত পুনর্বণ্টনের ব্যবস্থা করতে হবে। জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বাস্তব মজুতের হিসাব রাখা জরুরি।
কৃষকের অভিযোগ জানানোর জন্য কার্যকর হটলাইন ও অভিযোগকেন্দ্র চালু করতে হবে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত বাফার স্টক, আগাম আমদানি পরিকল্পনা এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত বিতরণব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
সরকারের সাফল্য শুধু গুদামে কত টন সার আছে, তা দিয়ে মাপা যাবে না। মাপকাঠি হতে হবে, কৃষক সময়মতো, নির্ধারিত দামে ও প্রয়োজন অনুযায়ী সার পাচ্ছেন কি না। এটাই মুল কথা। গুদামে সার থাকা মানেই সংকটমুক্ত বাংলাদেশ নয়। কৃষকের হাতে সময়মতো সার পৌঁছানোই প্রকৃত সাফল্য।
Leave a Reply