ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় ব্যস্ত সময় পার করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। ৩৩তম আসিয়ান রিজিওনাল ফোরাম (এআরএফ) এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা চুক্তির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি। এই সফরের ফাঁকে তিনি চীন, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এসব বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এসব বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি ও সংযোগ বৃদ্ধির মতো দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে। বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছে, জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে 'বাংলাদেশ ফার্স্ট' নীতির আলোকে ভবিষ্যতে বৈদেশিক সম্পর্ক পরিচালিত হবে।
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশ চীন-বাংলাদেশ সমন্বিত সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্ব এগিয়ে নেওয়া এবং অভিন্ন ভবিষ্যৎ গড়ার বিষয়ে একমত হয়েছে। এছাড়া মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের প্রত্যাবাসন, বহুমুখী পরিবহন করিডোর ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে বৈঠকে ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন পান। দুই দেশ জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক শক্তিশালী করার উপায় নিয়ে আলোচনা হয় এবং ড. খলিলুর রহমান মার্কো রুবিওকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
উল্লেখ্য যে, গত ১০ই জুলাই নিউ ইয়র্কের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়েন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ২১শে জুলাই ম্যানিলায় পৌঁছানোর পর থেকে তিনি কূটনৈতিক আলোচনায় ব্যস্ত রয়েছেন। ম্যানিলা থেকে তার পরবর্তী গন্তব্য মালদ্বীপ। সেখানে জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে আগামী ২৭শে জুলাই তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
Leave a Reply