ঢাকার আশুলিয়ার মধ্য জামগড়া এলাকার একটি বহুতল আবাসিক ভবনের দোতলার তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে গত ৫ সেপ্টেম্বর আলমগীর হোসেন ওরফে আলম (৪২) ও তার স্ত্রী নাজমা আক্তারের (৩৩) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একই সঙ্গে তাদের ৫ মাস বয়সী অনাগত সন্তানের মরদেহও পাওয়া যায়। এ ঘটনায় নাজমার বড় বোন শাপলা বেগম পরদিন আশুলিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তভার পাওয়ার পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তিন দিনের মধ্যে ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে বলে জানিয়েছে।
পিবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার মনিরুজ্জামান আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে তিনি জানান, নাজমার সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল, যা নিয়ে নাজমার স্বামী আলমগীরের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়। ঘটনার দিন নাজমা ও আলমগীর তাকে বাসায় ডেকেছিলেন। সেখানে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে মারধরের ঘটনা ঘটে। মনিরুজ্জামান নিজেকে রক্ষা করতে গিয়ে নাজমার পেটে লাথি মারেন, যার ফলে নাজমা ও তার গর্ভের সন্তান মারা যান।
জবানবন্দিতে মনিরুজ্জামান আরও জানান, এরপর আলমগীরের সঙ্গে তার ধস্তাধস্তি হয়। তিনি আলমগীরের মাথা ও শরীরে আঘাত করলে আলমগীর দুর্বল হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে গলায় গামছা পেঁচিয়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। হত্যার পর মনিরুজ্জামান ওই দম্পতির মরদেহ ও মৃত ভ্রূণ খাটের ওপর রেখেই ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন এবং নাজমার ব্যক্তিগত মালামাল নিয়ে যান।
ঢাকা জেলা পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ জানান, এ ঘটনায় আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে। উল্লেখ্য, এই ঘটনার পাশাপাশি সম্প্রতি নোয়াখালীতে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার এবং হাটহাজারীতে ট্যাংকের ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনে দুর্ঘটনায় দুই সেনা নিহতের ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়া সরকারিভাবে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পদবির আগে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে এবং দেশে হাম ও উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: হাটহাজারীতে ট্যাংকের ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনে দুর্ঘটনায় ২ সেনা নিহত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ছবিতে / নাহিদের ফেরার লড়াই, বাড়াচ্ছেন গতি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আশুলিয়ায় তালাবদ্ধ কক্ষে দম্পতির মরদেহ ও মৃত ভ্রুণ নিয়ে যা জানা গেল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পিবিআইয়ের কাছে মামলার তদন্তভার যাওয়ার পর উপপরিদর্শক (এসআই) আনিসুর রহমান তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে ঘটনার ৩ দিনের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছেন বলে দাবি সংস্থাটির। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পিবিআইয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ৮ সেপ্টেম্বর আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকা থেকে মনিরুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।
সূত্র: ডেইলি স্টার বাংলা
Leave a Reply