ঢাকা ০৬:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভালুকায় সেলুন ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম করে মৃত্যুর ঘটনায় অভিযোগ সুন্দরবনে দস্যুদের সাথে বন্দুকযুদ্ধ, জিম্মি থেকে ৫ জেলে উদ্ধার বকেয়া বেতনের দাবিতে চালডাল কর্মীদের বিক্ষোভ ও ভাঙচুর বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে সহায়তা বাড়াতে সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনের প্রতি আহ্বান উখিয়ায় নলকূপ খননের সময় অগ্নিকাণ্ড: নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে সেনাবাহিনী আইজিপি’র ‘ক্রসফায়ার’ সম্পর্কিত বক্তব্যের অপব্যাখ্যা অপরাধীদের উৎসাহিত করবে সৌদির রাস তানুরা তেল শোধনাগারে হামলার দাবি হুতিদের দেশে ডেঙ্গুতে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৪০০ ছাড়াল নওগাঁয় শ্যালিকাকে বিয়ে, যুবক ও দুই স্ত্রীর মুখে চুনকালি দিয়ে গ্রামছাড়া সীতাকুণ্ডে লরির ধাক্কায় বাসের ৫ যাত্রী নিহত

আশুলিয়ায় দম্পতি ও অনাগত সন্তান নিহতের ঘটনায় পিবিআইয়ের তদন্তে যা বেরিয়ে এল

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৫১:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩১ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও তদন্ত

ঢাকার আশুলিয়ার মধ্য জামগড়া এলাকার একটি বহুতল আবাসিক ভবনের দোতলার তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে গত ৫ সেপ্টেম্বর আলমগীর হোসেন ওরফে আলম (৪২) ও তার স্ত্রী নাজমা আক্তারের (৩৩) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একই সঙ্গে তাদের ৫ মাস বয়সী অনাগত সন্তানের মরদেহও পাওয়া যায়। এ ঘটনায় নাজমার বড় বোন শাপলা বেগম পরদিন আশুলিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তভার পাওয়ার পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তিন দিনের মধ্যে ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে বলে জানিয়েছে।

গ্রেপ্তার ও জবানবন্দি

  • গ্রেপ্তার ব্যক্তি: মনিরুজ্জামান ওরফে হৃদয় (৪৪)।
  • গ্রেপ্তারের স্থান: আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকা।
  • গ্রেপ্তারের সময়: ৮ সেপ্টেম্বর।
  • উদ্ধারকৃত মালামাল: নিহত নাজমার মোবাইল ফোন, সিম কার্ড, অফিসের পরিচয়পত্র ও হ্যান্ডপার্স।

পিবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার মনিরুজ্জামান আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে তিনি জানান, নাজমার সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল, যা নিয়ে নাজমার স্বামী আলমগীরের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়। ঘটনার দিন নাজমা ও আলমগীর তাকে বাসায় ডেকেছিলেন। সেখানে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে মারধরের ঘটনা ঘটে। মনিরুজ্জামান নিজেকে রক্ষা করতে গিয়ে নাজমার পেটে লাথি মারেন, যার ফলে নাজমা ও তার গর্ভের সন্তান মারা যান।

হত্যাকাণ্ডের বিবরণ

জবানবন্দিতে মনিরুজ্জামান আরও জানান, এরপর আলমগীরের সঙ্গে তার ধস্তাধস্তি হয়। তিনি আলমগীরের মাথা ও শরীরে আঘাত করলে আলমগীর দুর্বল হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে গলায় গামছা পেঁচিয়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। হত্যার পর মনিরুজ্জামান ওই দম্পতির মরদেহ ও মৃত ভ্রূণ খাটের ওপর রেখেই ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন এবং নাজমার ব্যক্তিগত মালামাল নিয়ে যান।

তদন্তের বর্তমান অবস্থা

ঢাকা জেলা পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ জানান, এ ঘটনায় আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে। উল্লেখ্য, এই ঘটনার পাশাপাশি সম্প্রতি নোয়াখালীতে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার এবং হাটহাজারীতে ট্যাংকের ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনে দুর্ঘটনায় দুই সেনা নিহতের ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়া সরকারিভাবে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পদবির আগে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে এবং দেশে হাম ও উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: হাটহাজারীতে ট্যাংকের ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনে দুর্ঘটনায় ২ সেনা নিহত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ছবিতে / নাহিদের ফেরার লড়াই, বাড়াচ্ছেন গতি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আশুলিয়ায় তালাবদ্ধ কক্ষে দম্পতির মরদেহ ও মৃত ভ্রুণ নিয়ে যা জানা গেল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পিবিআইয়ের কাছে মামলার তদন্তভার যাওয়ার পর উপপরিদর্শক (এসআই) আনিসুর রহমান তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে ঘটনার ৩ দিনের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছেন বলে দাবি সংস্থাটির। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পিবিআইয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ৮ সেপ্টেম্বর আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকা থেকে মনিরুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আশুলিয়ায় দম্পতি ও অনাগত সন্তান নিহতের ঘটনায় পিবিআইয়ের তদন্তে যা বেরিয়ে এল

আপডেট সময় : ০৫:৫১:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও তদন্ত

ঢাকার আশুলিয়ার মধ্য জামগড়া এলাকার একটি বহুতল আবাসিক ভবনের দোতলার তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে গত ৫ সেপ্টেম্বর আলমগীর হোসেন ওরফে আলম (৪২) ও তার স্ত্রী নাজমা আক্তারের (৩৩) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একই সঙ্গে তাদের ৫ মাস বয়সী অনাগত সন্তানের মরদেহও পাওয়া যায়। এ ঘটনায় নাজমার বড় বোন শাপলা বেগম পরদিন আশুলিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তভার পাওয়ার পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তিন দিনের মধ্যে ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে বলে জানিয়েছে।

গ্রেপ্তার ও জবানবন্দি

  • গ্রেপ্তার ব্যক্তি: মনিরুজ্জামান ওরফে হৃদয় (৪৪)।
  • গ্রেপ্তারের স্থান: আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকা।
  • গ্রেপ্তারের সময়: ৮ সেপ্টেম্বর।
  • উদ্ধারকৃত মালামাল: নিহত নাজমার মোবাইল ফোন, সিম কার্ড, অফিসের পরিচয়পত্র ও হ্যান্ডপার্স।

পিবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার মনিরুজ্জামান আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে তিনি জানান, নাজমার সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল, যা নিয়ে নাজমার স্বামী আলমগীরের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়। ঘটনার দিন নাজমা ও আলমগীর তাকে বাসায় ডেকেছিলেন। সেখানে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে মারধরের ঘটনা ঘটে। মনিরুজ্জামান নিজেকে রক্ষা করতে গিয়ে নাজমার পেটে লাথি মারেন, যার ফলে নাজমা ও তার গর্ভের সন্তান মারা যান।

হত্যাকাণ্ডের বিবরণ

জবানবন্দিতে মনিরুজ্জামান আরও জানান, এরপর আলমগীরের সঙ্গে তার ধস্তাধস্তি হয়। তিনি আলমগীরের মাথা ও শরীরে আঘাত করলে আলমগীর দুর্বল হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে গলায় গামছা পেঁচিয়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। হত্যার পর মনিরুজ্জামান ওই দম্পতির মরদেহ ও মৃত ভ্রূণ খাটের ওপর রেখেই ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন এবং নাজমার ব্যক্তিগত মালামাল নিয়ে যান।

তদন্তের বর্তমান অবস্থা

ঢাকা জেলা পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ জানান, এ ঘটনায় আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে। উল্লেখ্য, এই ঘটনার পাশাপাশি সম্প্রতি নোয়াখালীতে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার এবং হাটহাজারীতে ট্যাংকের ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনে দুর্ঘটনায় দুই সেনা নিহতের ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়া সরকারিভাবে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পদবির আগে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে এবং দেশে হাম ও উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: হাটহাজারীতে ট্যাংকের ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনে দুর্ঘটনায় ২ সেনা নিহত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ছবিতে / নাহিদের ফেরার লড়াই, বাড়াচ্ছেন গতি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আশুলিয়ায় তালাবদ্ধ কক্ষে দম্পতির মরদেহ ও মৃত ভ্রুণ নিয়ে যা জানা গেল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পিবিআইয়ের কাছে মামলার তদন্তভার যাওয়ার পর উপপরিদর্শক (এসআই) আনিসুর রহমান তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে ঘটনার ৩ দিনের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছেন বলে দাবি সংস্থাটির। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পিবিআইয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ৮ সেপ্টেম্বর আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকা থেকে মনিরুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।

Facebook Comments Box