উন্নয়ন প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধি রোধে কঠোর অবস্থানে সরকার
- আপডেট সময় : ০৬:২২:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩১ বার পড়া হয়েছে
সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে বারবার মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির প্রবণতা রোধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে সরকার। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধি রোধে সরকারের পরিকল্পনা ও মনিটরিং ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চান।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পে মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধি কোনো একক কারণে ঘটে না। প্রকল্প প্রণয়ন, অনুমোদন, ভূমি অধিগ্রহণ, অর্থায়ন, ক্রয় প্রক্রিয়া এবং ব্যবস্থাপনার মতো বিভিন্ন স্তরের দুর্বলতাগুলো পরস্পর যুক্ত হয়ে এই সমস্যার সৃষ্টি করে। বর্তমান সরকারের নজরে আসার পর এই দীর্ঘসূত্রিতার সুনির্দিষ্ট কারণগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে দুর্বল সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি), ব্যয়ের ভুল প্রাক্কলন, প্রকল্প এলাকা নির্বাচনে ত্রুটি, ভূমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি স্থানান্তরে বিলম্ব, ক্রয় প্রক্রিয়ায় ধীরগতি, অদক্ষ প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের অভাব অন্যতম।
প্রকল্পের অপচয় রোধ ও সময়মতো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে সরকার ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এসব সমস্যা নিরসনে প্রকল্প প্রণয়ন থেকে শুরু করে বাস্তবায়ন পর্যন্ত নিবিড় তদারকি, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাসহ বেশ কিছু যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সমস্যা নিরসনে সরকারের ১৩ দফা পদক্ষেপ: প্রকল্পের এই দীর্ঘসূত্রিতা ও অপচয় রোধে সরকারের নেওয়া উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপগুলো সংসদে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
- নতুন প্রকল্প গ্রহণের আগে নির্ভুল সম্ভাব্যতা সমীক্ষা নিশ্চিত করা।
- প্রকল্প অনুমোদনের পর বাস্তবায়ন প্রস্তুতি দ্রুততর করা।
- প্রকল্প প্রণয়ন, প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন ও সংশোধনের বিদ্যমান নির্দেশিকা সময়োপযোগী করা।
- চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি মনিটরিংয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগে ড্যাশবোর্ড স্থাপন।
- নিয়মিত প্রকল্প পর্যালোচনা ও মাঠপর্যায়ে নিবিড় তদারকি বাড়ানো।
- ভূমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি স্থানান্তর দ্রুত করতে সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা।
- নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প শেষ না হলে বিলম্ব ও ব্যয় বৃদ্ধির কারণ খতিয়ে দেখে দায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ।
- ৩০ শতাংশের কম অগ্রগতি হওয়া প্রকল্পের উপযোগিতা যাচাই করে প্রয়োজনে পুনর্বিন্যাস বা স্কোপ পরিবর্তন করা।
- বিচ্ছিন্ন প্রকল্পের পরিবর্তে সমন্বিত কর্মসূচির অধীনে গুচ্ছ প্রকল্প গ্রহণের নির্দেশনা।
- সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় ই-জিপি (e-GP) পদ্ধতির সম্প্রসারণ।
- প্রকল্প পরিচালক নিয়োগে পেশাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া এবং বিদ্যমান নীতিমালা হালনাগাদ করা।
- সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) মডেলের প্রকল্প গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ।
- সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়াকে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও জবাবদিহিমূলক করতে ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুল ২০২৫’ হালনাগাদ করার উদ্যোগ।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
- প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যেসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি ৩০ শতাংশের কম, সেগুলোর উপযোগিতা ও কার্যকারিতা বিবেচনা করে পুনর্বিন্যাস, স্কোপ পরিবর্তন বা চলমান রাখার বিষয়ে মন্ত্রণালয়/বিভাগ কর্তৃক যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ।
সূত্র: মানবজমিন


























