বাঁশের খাঁচায় জোছনা বেগমের সংসারের চাকা ঘোরে
- আপডেট সময় : ০৫:২৯:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ মার্চ ২০২৩ ২৩৪ বার পড়া হয়েছে
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার হরেকৃষ্টপুর গ্রামের জোছনা বেগমের বাঁশের খাঁচায় সংসারের চাকা ঘোরে।
পাঁচ বছর ধরে বুকে টিউমার নিয়ে চলছেন জোছনা বেগমের (৪৭) স্বামী বাবু মিয়া। ভারী কাজ করতে পারেন না। এই দম্পতির বড় ছেলে বিয়ে করে শ্বশুরবাড়িতে থাকছেন। বাধ্য হয়ে সংসারের হাল ধরতে হয়েছে জোছনা বেগমকে।
খাঁচা বুনছেন জোছনা বেগম। পাশে বসে কাজে সহায়তা করছেন তাঁর ছোট ছেলে আলমগীর হোসেন।
ছোট ছেলে আলমগীর হোসেন বাঁশ কেটে বাতা তোলেন। বাবু মিয়া ধারালো দা দিয়ে সেই বাতা চেঁছে নিখুঁতভাবে চ্যাপটা ও সরু কাঠি তৈরি করেন। সেই কাঠি দিয়ে খাঁচা (টোপা) বোনেন জোছনা বেগম। এসব খাঁচা গ্রামের গৃহিণীরা হাঁস-মুরগি পালনে ব্যবহার করেন। আবার কেউ কেউ খাঁচায় রান্নার খড় বা গাছের শুকনা পাতা সংগ্রহ করেন।
সংগ্রামী এই নারী বলেন, প্রতিদিন সকালে ঘরের কাজ শেষ করে বাড়ির সামনে শুরু করেন খাঁচা তৈরির কাজ। পাশে বসে বাঁশের কাঠির জোগান দেন স্বামী ও ছেলে।
পাঁচজনের গল্পের তালে জোছনা বেগম খাঁচার ফ্রেমে একটার পর একটা বাঁশের কাঠি গাঁথেন। পড়ন্ত বিকেলে সেখানে আসেন পাড়ার অন্য নারীরা। একদিকে চলে গল্প, অন্যদিকে জোছনা বেগমের হাত ঘুরে বেড়ায় বাঁশের কাঠির ফ্রেমে। গল্পে গল্পে এভাবেই ১৪–১৫টি গোলাকৃতির খাঁচা বোনেন তিনি।
জোছনা বেগমের বাড়ি দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার হরেকৃষ্টপুর ইসলামপাড়ায়। অসুস্থ স্বামী, ছেলে, ছেলের স্ত্রী–সন্তানকে নিয়ে অভাবের সংসার তাঁর। তিন শতক জমিতে টিনের বেড়া ও ছাউনির নড়বড়ে ঘর। দিনশেষে খাঁচা বিক্রি করে যা আয় হয়, তা দিয়েই ঘোরাতে হয় সংসারের চাকা।
একজন পিছিয়ে পড়া নারী হয়েও জোছনা বেগম সংসারের হাল ধরছেন, নিজেকে স্বাবলম্বী করে তোলার চেষ্টা করছেন ।
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ



























One thought on “বাঁশের খাঁচায় জোছনা বেগমের সংসারের চাকা ঘোরে”