ঢাকা ০১:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভূরুঙ্গামারীতে এলপি গ্যাসের ডিলার সংকট: বিপাকে সাধারণ ভোক্তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৬:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬ ২৮৬৬৮ বার পড়া হয়েছে

ছবি নেট

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

ভূরুঙ্গামারীতে এলপি গ্যাসের ডিলার সংকট: বিপাকে সাধারণ ভোক্তারা

 

 

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় নির্দিষ্ট কোম্পানির এলপি (LP) গ্যাসের ডিলার না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো ভোক্তা। বিশেষ করে ইউনিগ্যাস, বসুন্ধরা এলপি গ্যাস ও যমুনা এলপি গ্যাস ব্যবহারকারীরা খালি সিলিন্ডার পরিবর্তন করতে গিয়ে নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।

 

 

 

স্থানীয় বাজারগুলোতে এসব কোম্পানির অনুমোদিত ডিলার না থাকায় অনেক ভোক্তাকে দূরবর্তী এলাকা থেকে সিলিন্ডার সংগ্রহ করতে হচ্ছে অথবা ওইসব সিলিন্ডারের মুল‍্য ৫০০ টাকা থেকে ১০০০ টাকা দাম ধরে অন‍্য কোম্পানির সিলিন্ডার সংগ্রহ করতে হচ্ছে।

 

 

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন কোম্পানির এলপি গ্যাসের ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। রান্নার জ্বালানি হিসেবে গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল পরিবারের সংখ্যা বাড়লেও ডিলার নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। ফলে নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের গ্যাস ব্যবহারকারীরা খালি সিলিন্ডার জমা দিয়ে নতুন সিলিন্ডার নিতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন।

পড়ুন>> কুড়িগ্রামের চরে কোরবানির স্বপ্ন বিলাসিতা, অনেক ঘরে জুটবে না কোরবানির মাংস

 

 

 

 

ভোক্তাদের অভিযোগ, একসময় যে ব্যবসায়ীরা কোনো একটি কোম্পানির ডিলারশিপ নিয়ে গ্যাস বিক্রি করতেন, তারা পরবর্তীতে দ্রুত অন্য কোম্পানির ডিলারশিপ গ্রহণ করছেন। এতে পূর্ববর্তী কোম্পানির সিলিন্ডার ব্যবহারকারীরা নতুন করে সমস্যায় পড়ছেন। কারণ নতুন ডিলাররা আগের কোম্পানির খালি সিলিন্ডার গ্রহণ করতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন অথবা বিনিময় সুবিধা দিতে পারেন না।

আরও পড়ুনপশুর হাটে লাখ টাকার বাণিজ্য, সত্যতা পেয়েও জরিমানা মাত্র ৩ হাজার

 

উপজেলার কয়েকজন গৃহিণী জানান, একটি কোম্পানির গ্যাস সিলিন্ডার কেনার সময় ডিলার বা বিক্রেতার পরামর্শেই তারা সেই ব্র্যান্ড ব্যবহার শুরু করেন। কিন্তু কিছুদিন পর ওই ডিলার অন্য কোম্পানির গ্যাস বিক্রি শুরু করলে পুরোনো সিলিন্ডার বদলানো কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে খালি সিলিন্ডার বাড়িতে পড়ে থাকে এবং নতুন কোম্পানির সিলিন্ডার কিনতে অতিরিক্ত টাকা ব্যয় করতে হয়।

 

 

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, বাজারের প্রতিযোগিতা, কমিশনের হার ও কোম্পানিগুলোর বাণিজ্যিক নীতির কারণে অনেক সময় ডিলাররা এক ব্র্যান্ড ছেড়ে অন্য ব্র্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত হন। তবে এ পরিবর্তনের ফলে পুরোনো গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষার জন্য কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না থাকায় ভোক্তারাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

 

 

সচেতন মহলের দাবি, কোনো ডিলারশিপ পরিবর্তনের আগে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি ও ব্যবসায়ীদের উচিত ভোক্তাদের স্বার্থ বিবেচনা করা। একই সঙ্গে উপজেলায় সব জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের অনুমোদিত ডিলার নিয়োগ এবং খালি সিলিন্ডার বিনিময়ের জন্য সমন্বিত ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

পড়ুন>> ২৫ জুলাই মাঠে গড়াচ্ছে কুড়িগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার উদ্যোগে প্রথম বিভাগ ফুটবল লীগ

 

 

 

ভোক্তারা সংশ্লিষ্ট কোম্পানি, জেলা প্রশাসন এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের মতে, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে এলপি গ্যাস ব্যবহারকারী সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে এবং বাজারে ভোক্তা হয়রানির ঘটনা বৃদ্ধি পাবে।

 

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ভূরুঙ্গামারীতে এলপি গ্যাসের ডিলার সংকট: বিপাকে সাধারণ ভোক্তারা

আপডেট সময় : ০৬:৩৬:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

 

 

ভূরুঙ্গামারীতে এলপি গ্যাসের ডিলার সংকট: বিপাকে সাধারণ ভোক্তারা

 

 

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় নির্দিষ্ট কোম্পানির এলপি (LP) গ্যাসের ডিলার না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো ভোক্তা। বিশেষ করে ইউনিগ্যাস, বসুন্ধরা এলপি গ্যাস ও যমুনা এলপি গ্যাস ব্যবহারকারীরা খালি সিলিন্ডার পরিবর্তন করতে গিয়ে নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।

 

 

 

স্থানীয় বাজারগুলোতে এসব কোম্পানির অনুমোদিত ডিলার না থাকায় অনেক ভোক্তাকে দূরবর্তী এলাকা থেকে সিলিন্ডার সংগ্রহ করতে হচ্ছে অথবা ওইসব সিলিন্ডারের মুল‍্য ৫০০ টাকা থেকে ১০০০ টাকা দাম ধরে অন‍্য কোম্পানির সিলিন্ডার সংগ্রহ করতে হচ্ছে।

 

 

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন কোম্পানির এলপি গ্যাসের ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। রান্নার জ্বালানি হিসেবে গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল পরিবারের সংখ্যা বাড়লেও ডিলার নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। ফলে নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের গ্যাস ব্যবহারকারীরা খালি সিলিন্ডার জমা দিয়ে নতুন সিলিন্ডার নিতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন।

পড়ুন>> কুড়িগ্রামের চরে কোরবানির স্বপ্ন বিলাসিতা, অনেক ঘরে জুটবে না কোরবানির মাংস

 

 

 

 

ভোক্তাদের অভিযোগ, একসময় যে ব্যবসায়ীরা কোনো একটি কোম্পানির ডিলারশিপ নিয়ে গ্যাস বিক্রি করতেন, তারা পরবর্তীতে দ্রুত অন্য কোম্পানির ডিলারশিপ গ্রহণ করছেন। এতে পূর্ববর্তী কোম্পানির সিলিন্ডার ব্যবহারকারীরা নতুন করে সমস্যায় পড়ছেন। কারণ নতুন ডিলাররা আগের কোম্পানির খালি সিলিন্ডার গ্রহণ করতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন অথবা বিনিময় সুবিধা দিতে পারেন না।

আরও পড়ুনপশুর হাটে লাখ টাকার বাণিজ্য, সত্যতা পেয়েও জরিমানা মাত্র ৩ হাজার

 

উপজেলার কয়েকজন গৃহিণী জানান, একটি কোম্পানির গ্যাস সিলিন্ডার কেনার সময় ডিলার বা বিক্রেতার পরামর্শেই তারা সেই ব্র্যান্ড ব্যবহার শুরু করেন। কিন্তু কিছুদিন পর ওই ডিলার অন্য কোম্পানির গ্যাস বিক্রি শুরু করলে পুরোনো সিলিন্ডার বদলানো কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে খালি সিলিন্ডার বাড়িতে পড়ে থাকে এবং নতুন কোম্পানির সিলিন্ডার কিনতে অতিরিক্ত টাকা ব্যয় করতে হয়।

 

 

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, বাজারের প্রতিযোগিতা, কমিশনের হার ও কোম্পানিগুলোর বাণিজ্যিক নীতির কারণে অনেক সময় ডিলাররা এক ব্র্যান্ড ছেড়ে অন্য ব্র্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত হন। তবে এ পরিবর্তনের ফলে পুরোনো গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষার জন্য কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না থাকায় ভোক্তারাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

 

 

সচেতন মহলের দাবি, কোনো ডিলারশিপ পরিবর্তনের আগে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি ও ব্যবসায়ীদের উচিত ভোক্তাদের স্বার্থ বিবেচনা করা। একই সঙ্গে উপজেলায় সব জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের অনুমোদিত ডিলার নিয়োগ এবং খালি সিলিন্ডার বিনিময়ের জন্য সমন্বিত ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

পড়ুন>> ২৫ জুলাই মাঠে গড়াচ্ছে কুড়িগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার উদ্যোগে প্রথম বিভাগ ফুটবল লীগ

 

 

 

ভোক্তারা সংশ্লিষ্ট কোম্পানি, জেলা প্রশাসন এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের মতে, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে এলপি গ্যাস ব্যবহারকারী সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে এবং বাজারে ভোক্তা হয়রানির ঘটনা বৃদ্ধি পাবে।

 

 

 

Facebook Comments Box