ঢাকা ০১:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নতুন পে-স্কেল ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকেই ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন হচ্ছে

সৃষ্টি নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:১৫:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬ ২৫০৫৫ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

 

 

নতুন পে-স্কেল ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকেই ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন হচ্ছে

 

 

২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকেই ধাপে ধাপে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন। নিম্ন আয়ের কর্মচারী, পেনশনভোগী ও প্রতিবন্ধী সন্তানের অভিভাবকরা পাচ্ছেন অগ্রাধিকার।

 

 

 

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের পথে বড় অগ্রগতি এসেছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকেই ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার প্রাথমিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় বেতন কমিশনের একাধিক অভ্যন্তরীণ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

 

 

    সূত্রগুলো বলছে, প্রথম ধাপে মূলত নিম্ন আয়ের কর্মচারী, স্বল্প পেনশনভোগী এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানদের অভিভাবকদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে বিপুল আর্থিক ব্যয়ের কারণে শুরুতেই সবার জন্য পূর্ণাঙ্গ সুবিধা বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না।

 

 

 

জানা গেছে, আসন্ন বাজেটে বেতন-ভাতা ও পেনশন খাতে অতিরিক্ত প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এই অর্থ দিয়ে নতুন প্রস্তাবিত বেতন কাঠামোর মূল বেতনের প্রায় অর্ধেক বাস্তবায়নের চিন্তা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় এনে প্রথম কিস্তির বড় অংশ ব্যয় করা হবে।

 

 

 

জাতীয় বেতন কমিশন সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করেছে। এর একটি বড় অংশ প্রথম ধাপেই কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে নিম্ন আয়ের কর্মচারীরা তাৎক্ষণিকভাবে আর্থিক স্বস্তি পাবেন বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।

 

 

   নতুন বেতন কাঠামোর অন্যতম মানবিক দিক হচ্ছে পেনশনভোগীদের জন্য বিশেষ সুবিধা। বর্তমানে যারা মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পান, তাদের পেনশন ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থ বিভাগের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন স্কেলের প্রথম ধাপেই এই ক্ষুদ্র পেনশনভোগীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

অন্যদিকে, তুলনামূলক বেশি পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য বৃদ্ধির হার ৫৫ থেকে ৭৫ শতাংশের মধ্যে রাখার চিন্তা করা হয়েছে, যাতে বরাদ্দের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা যায়।

 

 

এছাড়া ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের টিফিন ভাতা বর্তমান ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে এক হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই সুবিধাটিও প্রথম ধাপেই কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

 

পাশাপাশি সকল পর্যায়ের কর্মচারীদের বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার প্রস্তাবও সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।

 

 

সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারে সরকারি চাকরিজীবীদের প্রতিবন্ধী সন্তান থাকলে মাসিক দুই হাজার টাকা ভাতা দেওয়ার সুপারিশ করেছে বেতন কমিশন। অর্থ বিভাগ এ প্রস্তাবকে ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে এবং প্রথম ধাপেই এটি কার্যকর হতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে।

 

 

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হলেও নতুন পে-স্কেল সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

 

 

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

নতুন পে-স্কেল ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকেই ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন হচ্ছে

আপডেট সময় : ০২:১৫:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

 

 

 

 

নতুন পে-স্কেল ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকেই ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন হচ্ছে

 

 

২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকেই ধাপে ধাপে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন। নিম্ন আয়ের কর্মচারী, পেনশনভোগী ও প্রতিবন্ধী সন্তানের অভিভাবকরা পাচ্ছেন অগ্রাধিকার।

 

 

 

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের পথে বড় অগ্রগতি এসেছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকেই ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার প্রাথমিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় বেতন কমিশনের একাধিক অভ্যন্তরীণ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

 

 

    সূত্রগুলো বলছে, প্রথম ধাপে মূলত নিম্ন আয়ের কর্মচারী, স্বল্প পেনশনভোগী এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানদের অভিভাবকদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে বিপুল আর্থিক ব্যয়ের কারণে শুরুতেই সবার জন্য পূর্ণাঙ্গ সুবিধা বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না।

 

 

 

জানা গেছে, আসন্ন বাজেটে বেতন-ভাতা ও পেনশন খাতে অতিরিক্ত প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এই অর্থ দিয়ে নতুন প্রস্তাবিত বেতন কাঠামোর মূল বেতনের প্রায় অর্ধেক বাস্তবায়নের চিন্তা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় এনে প্রথম কিস্তির বড় অংশ ব্যয় করা হবে।

 

 

 

জাতীয় বেতন কমিশন সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করেছে। এর একটি বড় অংশ প্রথম ধাপেই কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে নিম্ন আয়ের কর্মচারীরা তাৎক্ষণিকভাবে আর্থিক স্বস্তি পাবেন বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।

 

 

   নতুন বেতন কাঠামোর অন্যতম মানবিক দিক হচ্ছে পেনশনভোগীদের জন্য বিশেষ সুবিধা। বর্তমানে যারা মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পান, তাদের পেনশন ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থ বিভাগের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন স্কেলের প্রথম ধাপেই এই ক্ষুদ্র পেনশনভোগীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

অন্যদিকে, তুলনামূলক বেশি পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য বৃদ্ধির হার ৫৫ থেকে ৭৫ শতাংশের মধ্যে রাখার চিন্তা করা হয়েছে, যাতে বরাদ্দের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা যায়।

 

 

এছাড়া ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের টিফিন ভাতা বর্তমান ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে এক হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই সুবিধাটিও প্রথম ধাপেই কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

 

পাশাপাশি সকল পর্যায়ের কর্মচারীদের বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার প্রস্তাবও সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।

 

 

সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারে সরকারি চাকরিজীবীদের প্রতিবন্ধী সন্তান থাকলে মাসিক দুই হাজার টাকা ভাতা দেওয়ার সুপারিশ করেছে বেতন কমিশন। অর্থ বিভাগ এ প্রস্তাবকে ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে এবং প্রথম ধাপেই এটি কার্যকর হতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে।

 

 

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হলেও নতুন পে-স্কেল সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

 

 

 

 

Facebook Comments Box