জঙ্গল সলিমপুরে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের রক্তচক্ষু : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
  1. admin@sristy.net : admin :
জঙ্গল সলিমপুরে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের রক্তচক্ষু : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:৩৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নওগাঁর পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলামের আইজিপি সম্মাননা জমিসংক্রান্ত বিরোধে জলঢাকায় আগাছানাশক প্রয়োগে ধান ক্ষেত ধ্বংসের অভিযোগ সংবাদ প্রকাশের পর প্রতিবন্ধী পরিবারের পাশে শায়লা সাঈদ তম্বী   মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে যোগদানে কোনো ঝুঁকি দেখছে না বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পীরগাছায় কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা: নৈতিকতা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান ই-টেন্ডার প্রক্রিয়া সহজীকরণে দেরি কেন? সংসদে প্রশ্ন তুলেছেন এমপি মোশারফ হোসেন আলভারেজ অধরা, বার্সেলোনার আক্রমণভাগের নতুন ভরসা গ্যাব্রিয়েল জেসুস চরাঞ্চলের শিক্ষকদের জন্য দূরত্বভিত্তিক বিশেষ ভাতা চালুর উদ্যোগ: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ সাগর-রুনি মামলা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের বিষয়ে আইনি যাচাই শুরু বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ১১৩ পদে নিয়োগ: আবেদনের নিয়ম ও সময়সীমা

জঙ্গল সলিমপুরে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের রক্তচক্ষু

চট্টগ্রাম থেকে আব্দুল কাদের
  • প্রকাশিত : শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬
জঙ্গল সলিমপুরে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের রক্তচক্ষ।

 

 

 

জঙ্গল সলিমপুরে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের রক্তচক্ষু

 

 

যৌথবাহিনীর ক্যাম্পে হামলা, ককটেল বিস্ফোরণ, সরকারি স্থাপনা ভাঙচুর, পাহাড় কেটে রাস্তা বিচ্ছিন্ন, বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা, ৪২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ২০০/৩০০ সন্ত্রাসী আসামী

 

 

 

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর যেন ধীরে ধীরে পরিণত হয়েছে ভয়ঙ্কর এক সশস্ত্র সন্ত্রাসী জনপদে। পাহাড় কাটা, সরকারি জমি দখল, অস্ত্রের মহড়া, ককটেল বিস্ফোরণ, চাঁদাবাজি, মাদক কারবার, দখলবাজি, অপহরণ, খুন, হামলা ও ভাঙচুরকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।

পড়ুন>> ঠাকুরগাঁওয়ে মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের ঐক্য ও বস্তুনিষ্ঠতার ওপর গুরুত্বারোপ করলেন মির্জা ফখরুল

 

 

এবার সেই সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে সীতাকুণ্ড মডেল থানায় দায়ের হওয়া বিশেষ ক্ষমতা আইনের একটি মামলায়। মামলার এজাহারে উঠে এসেছে কিভাবে শত শত সশস্ত্র সন্ত্রাসী গভীর রাতে সংঘবদ্ধ হয়ে যৌথবাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্প ও নির্মাণাধীন পুলিশ ক্যাম্পে হামলা চালায়, রাস্তা কেটে বিচ্ছিন্ন করে দেয় পুরো এলাকা এবং সরকারি স্থাপনায় ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।

 

 

 

মামলাটি দায়ের করেন ফৌজদারহাট পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ পরিদর্শক মোঃ সোহেল রানা। সীতাকুণ্ড মডেল থানার মামলা নং ৫৫, তারিখ ২৬ মে ২০২৬। মামলায় বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪ এর ১৫(৩)/২৫(ঘ) ধারা এবং বিস্ফোরক দ্রব্য আইন ১৯০৮ এর ৩/৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় ৪২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ২০০ থেকে ৩০০ জনকে আসামী করা হয়েছে।

 

 

 

এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২৪ মে দিবাগত রাতে জিডি মূলে সঙ্গীয় ফোর্সসহ জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় রাত্রীকালীন টহলে ছিল পুলিশ। রাত প্রায় ১১টা ৪৫ মিনিটের সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসীরা স্কেভেটর ও ডাম্পার ট্রাক ব্যবহার করে রাস্তা কেটে যৌথবাহিনীর চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে। একই সঙ্গে তারা অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প ও আলী নগর উচ্চ বিদ্যালয়ে অবস্থানরত যৌথবাহিনীর সদস্যদের উপর হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

 

পড়ুন>> মৃত্যুপুরী রাজধানী ৩০ ঘন্টায় ১৩ প্রাণহানি

 

 

 

সংবাদ পাওয়ার পর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে পুলিশ ঘটনাস্থলের দিকে অগ্রসর হয়। পথিমধ্যে ছিন্নমূল বাজার এলাকায় ডাম্পার ট্রাক দিয়ে রাস্তার উপর মাটি ফেলে ব্যারিকেড তৈরি করা অবস্থায় দেখতে পায় পুলিশ। পরবর্তীতে খেজুরতল এলাকায় গিয়ে দেখা যায় রাস্তার কালভার্ট স্কেভেটরের সাহায্যে কেটে ফেলা হয়েছে এবং ডাম্পার ট্রাকে করে মাটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

 

 

 

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা পায়ে হেঁটে সামনে অগ্রসর হতে থাকেন। রাত প্রায় ১২টা ২০ মিনিটের সময় আলী নগর বাজার সিএনজি স্টেশনের সামনে পৌঁছালে দেখা যায় সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা স্কেভেটর ব্যবহার করে রাস্তার কালভার্ট কেটে ফেলছে এবং ডাম্পার ট্রাকের মাধ্যমে রাস্তা বিচ্ছিন্ন করছে। তখন পুলিশ বাঁশি, সিগন্যাল লাইট ও টর্চলাইটের মাধ্যমে তাদের থামানোর চেষ্টা করলে সন্ত্রাসীরা উল্টো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলা শুরু করে।

 

 

 

 

 

 

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, প্রতিহত করার চেষ্টাকালে বিবাদীরা ৪ থেকে ৫টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পুরো এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে। পরে তারা আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি চালাতে থাকে এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে জানমাল ও সরকারি অস্ত্র রক্ষার্থে পুলিশ শর্টগানের ফাঁকা গুলি ছোড়ে। একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা আশপাশের পাহাড়ি গলিতে পালিয়ে যায়।

আরও পড়ুন>> নীলফামারী সদর হাসপাতালে এমপির আকস্মিক পরিদর্শন

 

 

 

এসময় ঘটনাস্থল থেকে মনির হোসেন (৩৪) নামে এক আসামীকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে একটি স্কেভেটর, একটি ডাম্পার ট্রাক, ১৫টি লাঠি, ককটেলের অংশবিশেষ এবং ৪টি ধারালো কিরিচ উদ্ধার করা হয়।

 

 

 

কিন্তু সন্ত্রাসীদের তাণ্ডব থামেনি। রাত ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে সংবাদ আসে, সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা মাইকিং করে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি করছে এবং আলী নগর উচ্চ বিদ্যালয়ে অবস্থানরত যৌথবাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্পে হামলা চালিয়েছে। পরে পুলিশ ও যৌথবাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখতে পায়, সন্ত্রাসীরা স্কেভেটর দিয়ে বিদ্যালয়ের বাউন্ডারি ওয়াল ভেঙে ক্যাম্পে প্রবেশের চেষ্টা করছে।

 

 

 

এসময় যৌথবাহিনী প্রথমে গ্যাসগান, পরে শর্টগানের রাবার কার্তুজ এবং চায়না রাইফেলের ফাঁকা গুলি নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। কিন্তু সন্ত্রাসীরা পাল্টা গুলি, ককটেল বিস্ফোরণ ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। ভয়াবহ সংঘর্ষের একপর্যায়ে পুলিশ জামাল হোসেন (৫৩) ও দিদারুল আলম (৪০) নামে দুই আসামীকে আটক করতে সক্ষম হয়। তাদের কাছ থেকে আরও একটি স্কেভেটর, একটি ডাম্পার ট্রাক এবং শর্টগানের গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়।

 

 

 

 

এরপর রাত ২টার দিকে আরও ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পুলিশ জানতে পারে, সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা নির্মাণাধীন পুলিশ ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করছে। তারা স্কেভেটর ব্যবহার করে সরকারি স্থাপনার দেয়াল, টিন ও নির্মাণসামগ্রী ধ্বংস করছে। পরে পুলিশ ও যৌথবাহিনী সম্মিলিতভাবে ঘটনাস্থলে রওয়ানা হলে পাহাড়ের গহীন এলাকা থেকে সন্ত্রাসীরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আবারও হামলা চালায়।

আরও পড়ুন>> হেরো বাংলাদেশ মানবিক সংগঠনের কোরবানির মাংস নিতে অসহায় দুঃস্থদের গুনতে হচ্ছে টাকা ‎

 

 

 

মামলার বর্ণনায় বলা হয়, সন্ত্রাসীরা আগ্নেয়াস্ত্র, দা, কিরিচ, লাঠি ও ইটপাটকেল নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালাতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে চায়না রাইফেলের ফাঁকা গুলি ছুড়তে বাধ্য হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যাওয়ার সময় বারেক হোসেন (২৪) ও সাইফুল কুদ্দুস (২২) নামে আরও দুইজনকে আটক করা হয়।

 

 

 

 

 

ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা হয় তিনটি স্কেভেটর, তিনটি ডাম্পার ট্রাক, মাইকিং কাজে ব্যবহৃত সিএনজি, ককটেলের অংশবিশেষ, শর্টগানের গুলির খোসা, কিরিচ, লাঠি, ইটের টুকরো, ভাঙা টিন, জানালার গ্লাস, দরজার অংশ এবং সরকারি স্থাপনা ভাঙচুরের আলামত। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত নির্মাণাধীন পুলিশ ক্যাম্পের চারটি স্থিরচিত্রও জব্দ করা হয়েছে।

 

 

 

মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে বারেক হোসেন (২৪), সাইফুল কুদ্দুস (২২), জামাল হোসেন (৫৩), দিদারুল আলম (৪০) ও মনির হোসেন (৩৪)-কে। পাশাপাশি মামলায় নাম উল্লেখ করা হয়েছে বহু আলোচিত ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীর। তাদের মধ্যে রয়েছে দস্যু শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াছিন (৫৫), নূরুল হক ভান্ডারি (৫০), কালা ইয়াসিন ওরফে ক্যাডার।

 

 

 

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর















error: Content is protected !!