সরকার দাম বাড়ালেও ঠাকুরগাঁওয়ে চামড়া শিল্পে ধস: ন্যায্যমূল্য না পেয়ে হতাশ বিক্রেতারা : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
  1. admin@sristy.net : admin :
সরকার দাম বাড়ালেও ঠাকুরগাঁওয়ে চামড়া শিল্পে ধস: ন্যায্যমূল্য না পেয়ে হতাশ বিক্রেতারা : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৪০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
লা লিগায় টানা তৃতীয় জয়: মালাগাকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে উড়ছে মরিনিওর রিয়াল জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে বিরোধী দলকে কমিটিতে আসার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আজ ৩১ আগস্ট; দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনা: কমতে পারে তাপমাত্রা শুভ সকাল; আজ সোমবার ৩১ আগস্ট ২০২৬: আজকের রাশিফল ঢাকায় সন্ত্রাসীদের এলোপাতাড়ি গুলি; নারীসহ গুলিবিদ্ধ ৩ আজ সোমবার ৩১ আগষ্ট ২০২৬: আজকের নামাজের সময়সুচী শুভ সকাল; আজ সোমবার ৩১ আগষ্ট ২০২৬: আজকের পূর্ণাঙ্গ পঞ্জিকা নওগাঁর পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলামের আইজিপি সম্মাননা জমিসংক্রান্ত বিরোধে জলঢাকায় আগাছানাশক প্রয়োগে ধান ক্ষেত ধ্বংসের অভিযোগ সংবাদ প্রকাশের পর প্রতিবন্ধী পরিবারের পাশে শায়লা সাঈদ তম্বী  

সরকার দাম বাড়ালেও ঠাকুরগাঁওয়ে চামড়া শিল্পে ধস: ন্যায্যমূল্য না পেয়ে হতাশ বিক্রেতারা

ঠাকুরগাঁও থেকে হুমায়ুন কবীর
  • প্রকাশিত : শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬
ঠাকুরগাঁওয়ে চামড়ার ন্যায্যমূল্য না পেয়ে হতাশ বিক্রেতারা।

 

 

 

সরকার দাম বাড়ালেও ঠাকুরগাঁওয়ে চামড়া শিল্পে ধস: ন্যায্যমূল্য না পেয়ে হতাশ বিক্রেতারা

 

 

পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর দেশের চামড়া শিল্পে যে অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়, চলতি বছর তার বিপরীত চিত্র দেখা গেছে উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে। সরকারের পক্ষ থেকে কোরবানির পশুর চামড়ার দাম বাড়ানোর ঘোষণা এলেও বাস্তব বাজারে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও হাট-বাজারে অস্বাভাবিক কম দামে চামড়া বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ মানুষ ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা।

 

 

 

কোথাও কোথাও গরুর চামড়া বিক্রি হয়েছে মাত্র ৪০০ থেকে ৬০০ টাকায়, আবার ছাগলের চামড়া ১০-২০ টাকাতেও কিনতে আগ্রহ দেখাননি ক্রেতারা।

 

 

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) বিকেল থেকে শুক্রবার (২৯ মে) সকাল পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও সদর, রাণীশংকৈল, বালিয়াডাঙ্গী, হরিপুর ও পীরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন চামড়া ক্রয়-বিক্রয় কেন্দ্র ঘুরে এমন হতাশাজনক চিত্র দেখা গেছে।

পড়ুন>> রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে সিভিল সার্জনের ঈদ শুভেচ্ছা ও উন্নত খাবার বিতরণ

 

 

 

 

বাজারজুড়ে বিরাজ করছে চরম অস্থিরতা, হতাশা ও অনিশ্চয়তা। বিক্রেতাদের অভিযোগ-  সরকার দাম নির্ধারণ করলেও মাঠপর্যায়ে তার কোনো কার্যকর বাস্তবায়ন নেই। ফলে সিন্ডিকেটনির্ভর বাজারে চামড়া কিনে নিচ্ছেন কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। সরকার চলতি বছর ঢাকার বাইরে প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করেছে ৫৭ থেকে ৬২ টাকা এবং খাসির চামড়ার দাম ২৫ থেকে ৩০ টাকা। অথচ বাস্তবে সেই মূল্যের ধারেকাছেও পৌঁছাচ্ছে না বাজার। অনেক ক্ষেত্রে বড় আকারের গরুর চামড়াও বিক্রি হয়েছে মাত্র ৫০০ থেকে ৭০০ টাকায়।

 

 

 

চামড়া বিক্রি করতে আসা সদর উপজেলার বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এক লাখ টাকা দিয়ে গরু কিনলাম, অথচ সেই গরুর চামড়া বিক্রি করতে হলো মাত্র সাড়ে পাঁচশ’ টাকায়। চামড়ার কোনো দাম নেই, আবার কেনার লোকও নেই।”

 

 

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক বিক্রেতা বলেন, “সিন্ডিকেটের কারণেই আমরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছি না। চামড়ায় সামান্য দাগ থাকলেও ক্রেতারা নিতে চায় না। অথচ এই চামড়া দিয়েই পরে হাজার হাজার টাকার জুতা-বেল্ট তৈরি হয়। লাভটা যায় বড় ব্যবসায়ীদের পকেটে, আর ক্ষতির বোঝা বইতে হয় সাধারণ মানুষকে।”

পড়ুন>> রাণীশংকৈলে পুকুরে ডুবে ছাত্রদল নেতার মর্মান্তিক মৃত্যু! 

 

 

 

স্থানীয় বাসিন্দা সাদেক হোসেন বলেন, কোরবানির পশুর চামড়া মূলত এতিম-মিসকিনদের হক হিসেবে বিবেচিত হয়। কিন্তু ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় অনেকেই হতাশ হয়ে পড়ছেন। কেউ কেউ চামড়া সংরক্ষণ করতে না পেরে ফেলে দিতেও বাধ্য হচ্ছেন।

 

 

 

তিনি বলেন, “সরকার শুধু দাম ঘোষণা করলেই হবে না, মাঠে তার বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।”জেলার মৌসুমি ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত লবণ ও সংরক্ষণ সুবিধার অভাবে তারা বাধ্য হয়ে কম দামে চামড়া বিক্রি করছেন। আবার গত বছরের অভিজ্ঞতাও তাদের আতঙ্কিত করে তুলেছে। অনেক ব্যবসায়ী গত বছর চামড়া কিনে পচে যাওয়ায় ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছিলেন। ফলে এবার ঝুঁকি নিতে চাইছেন না অনেকে।

আরও পড়ুন>> কুড়িগ্রামে সহস্রাধিক অসহায় মানুষ পেল HASENE-এর কোরবানির মাংস

 

স্থানীয় চামড়া ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম বলেন,“বড় ট্যানারি মালিক কিংবা ঢাকার আড়তদাররা সরাসরি বাজারে না আসায় স্থানীয় পর্যায়ে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সংরক্ষণ সংকট ও পরিবহন খরচও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

 

 

বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের চামড়া শিল্প একসময় তৈরি পোশাক খাতের পর দ্বিতীয় বৃহৎ রপ্তানি সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে বিবেচিত হলেও অব্যবস্থাপনা, সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাব এবং কার্যকর বাজার তদারকির সংকটে সেই সম্ভাবনা আজ হুমকির মুখে। প্রতি বছর কোরবানির ঈদ এলেই একই সংকট ফিরে আসে, কিন্তু স্থায়ী সমাধান মেলে না।

 

 

সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু দাম নির্ধারণ করলেই হবে না,সরাসরি ট্যানারির মাধ্যমে চামড়া সংগ্রহ, উপজেলা পর্যায়ে সংরক্ষণাগার নির্মাণ, সরকারি তদারকি জোরদার এবং অসাধু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় দেশের সম্ভাবনাময় চামড়া শিল্প আরও গভীর সংকটে পড়বে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হবেন প্রান্তিক বিক্রেতা ও এতিম-মিসকিনদের অধিকার।

 

 

 

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর















error: Content is protected !!