মাইক্রোগ্রিন: একটি সময়োপযোগী কৃষি প্রযুক্তি যা পুষ্টির চাহিদা পূরণে অতুলনীয়  : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
  1. admin@sristy.net : admin :
মাইক্রোগ্রিন: একটি সময়োপযোগী কৃষি প্রযুক্তি যা পুষ্টির চাহিদা পূরণে অতুলনীয়  : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:১৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

মাইক্রোগ্রিন: একটি সময়োপযোগী কৃষি প্রযুক্তি যা পুষ্টির চাহিদা পূরণে অতুলনীয় 

সৃষ্টি নিউজ ডেস্ক
  • প্রকাশিত : সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫
মাইক্রোগ্রিন: একটি সময়োপযোগী কৃষি প্রযুক্তি যা পুষ্টির চাহিদা পূরণে অতুলনীয় 

 

মাইক্রোগ্রিন: একটি সময়োপযোগী কৃষি প্রযুক্তি যা পুষ্টির চাহিদা পূরণে অতুলনীয়

 

মাইক্রোগ্রিন– একটি সময়োপযোগী কৃষি প্রযুক্তি!
এখন খাদ্যে ভেজাল ও কীটনাশকের কারণে সবাই নিজেদের শাকসবজি নিজেরাই উৎপাদনের চিন্তা করেন। কিন্তু নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে অনেকেই এটা পারেননা। কারো জায়গা নেই, আবার কারো সময় নেই। আর শাকসবজি ফলাতে একইসাথে জ্ঞান ও দক্ষতাও দরকার।

তবে চিন্তার কিছু নেই। আপনি শাকসবজি ফলাতে না পারলেও মাইক্রোগ্রিন ঠিকই চাষ করতে পারবেন। একটি স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তির নাম মাইক্রোগ্রিন। এর মাধ্যমে খুব সহজেই পরিবারের প্রতিদিনকার সবুজ খাবার ও ভিটামিনের চাহিদা পূরণ করতে পারবেন।

জেনে নিন->>সূর্যমুখী মাইক্রোগ্রিন উৎপাদন পদ্ধতি

শহরে শাকসবজি ফলাতে ছাদ লাগেই। কিন্তু মাইক্রোগ্রিনের জন্য শুধু জানালা কিংবা বারান্দার কাছে অল্প একটু জায়গা হলেও চলে। মাইক্রোগ্রিন চাষের জন্য বিশেষ ঋতুর প্রয়োজন নেই। বাড়িতে যেকোন সময়ে চাষ করতে পারবেন। বেশিরভাগ শাকসবজি খাওয়ার উপযোগী হতে কয়েকমাস যাবৎ সময় লাগে। সেখানে মাইক্রোগ্রিন মাত্র ৭-১০ দিনেই কাঁচা বা রান্না করে খাওয়ার উপযুক্ত হয়ে যায়।

বাচ্চারা সহ যেকোন বয়সের মানুষ মাইক্রোগ্রিন উৎপাদন করতে পারে। এর জন্য কোন বীজ কতদিনে এবং কোন প্রক্রিয়ায় অঙ্কুরিত হয় তা জানতে হবে। আর বীজের অঙ্কুরোদগম ও পরিচর্যা নিয়ে খানিকটা পড়াশোনা করতে হবে।

আশির দশকের দিকে ক্যালিফোর্নিয়ার শেফরা মাইক্রোগ্রিনের জনপ্রিয়তা সৃষ্টি করেছিল। তারা ১০-১৪দিন বয়সী গাছ যেগুলোর সদ্য ২-৩টি পাতা গজিয়েছে, সেগুলো তুলে শিকড় বাদ দিয়ে খাবারে পরিবেশন করত। পরে গবেষণায় এর পুষ্টিগুণ নিয়ে নানা তথ্য উদঘাটিত হয়ে আসে। সদ্য অঙ্কুরিত গাছের মধ্যে থাকে অসংখ্য পুষ্টি উপাদান।মাইক্রোগ্রিনে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে এন্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন ও মিনারেল।

মাইক্রোগ্রিন হচ্ছে সবজি বা ভেষজ উদ্ভিদের কম বয়সী চারা। এই চারাগাছ এক বা দুই সপ্তাহ বয়সেই কাঁচা খেতে হয়। মাইক্রোগ্রিন চাষের উদ্দেশ্য ভরপেট খাওয়া নয়, পুষ্টির চাহিদা পূরণ করা। শাকসবজিতে যে পরিমাণ পুষ্টি মাইক্রোগ্রিনে তা কয়েকগুণ বেশি পাওয়া যেতে পারে।

ছোলা, ধনিয়া, পালং, তিল, বাঁধাকপি, কুমড়া, মূলা, গম, মুগ, মসুর, মেথি, সরিষা, ক্যাপসিকাম, সিম, সূর্যমুখী, আলফাআলফা, বিট, ব্রকোলি, মৌরি, রোজেলা, মটরশুঁটি, শালগম, অমরান্থ, আরুগুলা, তোকমা, তিসি ইত্যাদি বীজ দিয়ে মাইক্রোগ্রিন বানানো হয়।

 

সব শাকসবজির মাইক্রোগ্রিন হয় না। যেসব সবজি ও শাক চারা অবস্থায় কাঁচা খাওয়া যায় সেসবের বীজই একাজে ব্যবহার হয়।

সাধারণত অঙ্কুরিত হওয়ার সাত বা থেকে বিশ দিনের মধ্যে খাওয়ার উপযোগী হয় মাইক্রোগ্রিন। চারায় যখন দুটি করে পাতা গজায় তখন থেকেই ওটা মাইক্রোগ্রিন। একাধিক ট্রেতে কয়েক ধরনের মাইক্রোগ্রিন একসঙ্গে চাষ শুরু করলে কিছু দিন পরপরই আহরণ করতে পারবেন।

মাইক্রোগ্রিনের জন্য কমার্সিয়াল ট্রে পাওয়া যায় অনলাইন মার্কেটে। তবে যেকোন টব, ট্রে বা অন্য পাত্রেও এটার চাষ করা সম্ভব। ধানের বীজতলার জন্য যেমন অল্প জায়গা লাগে, তেমনি একটি পরিবারের মাইক্রোগ্রিন ফলাতেও খুব অল্প জায়গা যথেষ্ট হয়।

বীজ কেনা ছাড়া মাইক্রোগ্রিনে খরচ আর কিছুই নেই বলতে গেলে। বাজারের খুচরা প্যাকেটজাত বীজ দিয়ে মাইক্রোগ্রিন ফলাতে গেলে বেশি খরচ পড়বে। দীর্ঘমেয়াদে যারা চাষ করতে চান তারা বেশি করে খোলা বীজ পাইকারি কিনে নিতে পারেন।

বীজ থেকে সদ্য অঙ্কুরিত মাইক্রোগ্রিনে সবরকম পুষ্টিগুণ পাওয়া যায়। বিভিন্ন ধরনের মাইক্রোগ্রিন মিশিয়ে মিষ্টি, টক, ঝাঝালো ইত্যাদি স্বাদের এবং সবুজ, লাল, বেগুনি, সাদা ইত্যাদি রঙের বৈচিত্র্য আনা যায়।

সকাল-বিকাল নাস্তার উপরে মাইক্রোগ্রিন ছড়িয়ে খাওয়া যায়। চারাগুলো গোড়া থেকে কাচি দিয়ে কেটে সরাসরি ছড়িয়ে দিতে পারেন আপনার খাবারের বাটিতে। এটা সব ধরনের রেসিপিতেই ব্যবহার করতে পারেন। তবে রান্না করলে এর পুষ্টিগুণ কিছুটা ব্যাহত হয়।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর















error: Content is protected !!