যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান যুদ্ধসহ বিভিন্ন ইস্যুতে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর চাপ প্রয়োগ করছেন। বুধবার (১৯ আগস্ট) দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো হিউন এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সিউলের সঙ্গে ঝুলে থাকা বিভিন্ন অমীমাংসিত ইস্যুতে চাপ সৃষ্টির পাশাপাশি ইরান যুদ্ধের বর্তমান অচলাবস্থা নিরসনে ট্রাম্পের এই কৌশলের পেছনে বিশেষ উদ্দেশ্য থাকতে পারে।
চো হিউন আরও জানান, যৌথ সামরিক মহড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প। এর পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে, যার মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়াকে ইরান যুদ্ধে মার্কিন প্রচেষ্টায় সমর্থন দিতে বাধ্য করার বিষয়টি অন্যতম।
এছাড়া এই পদক্ষেপের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়াকেও একটি বিশেষ বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। গত বছর স্বাক্ষরিত একটি বাণিজ্য চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রকে ৩৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সিউল, তবে সেই বিনিয়োগ পরিকল্পনার বিস্তারিত রূপরেখা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
ওয়াশিংটন ইতোমধ্যে দক্ষিণ কোরিয়াকে বেশ কিছু সম্ভাব্য প্রকল্পের প্রস্তাব দিয়েছে। তবে বিনিয়োগের বাণিজ্যিক সম্ভাব্যতা যাচাই, আইনি জটিলতা এবং অন্যান্য অপ্রত্যাশিত কিছু বাধার কারণে এই পরিকল্পনাগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন চো হিউন। যদিও তিনি সেই বাধাগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করেননি।
এদিকে, বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া যৌথভাবে ঘোষণা করেছে যে, তাদের বার্ষিক সামরিক মহড়ার সময়কাল ১১ দিন থেকে কমিয়ে ৫ দিনে আনা হচ্ছে।
পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের প্রশিক্ষণও সীমিত করা হবে। ট্রাম্পের নির্দেশের পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই শুনানিতে উপস্থিত দক্ষিণ কোরিয়ার একীকরণমন্ত্রী চুং ডং-ইয়ং মনে করেন, সামরিক মহড়া কমানোর মাধ্যমে ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে আলোচনার নতুন পথ তৈরি করতে চাইছেন, কারণ পিয়ংইয়ং দীর্ঘদিন ধরেই এই মহড়ার বিরোধিতা করে আসছে। ডে/ বা
Leave a Reply