গাজীপুর মহানগরীর পূবাইলের হায়দারাবাদ মজিবর মার্কেট এলাকা এখন বেওয়ারিশ কুকুরের আতঙ্কে স্থবির। সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত কুকুরের ধারাবাহিক আক্রমণে শিশু ও নারীসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সোমবার রাতে প্রথম আক্রমণের পর থেকেই পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। মঙ্গলবার সকাল থেকে বিভিন্ন সড়ক ও আশপাশের এলাকায় কুকুরগুলো পথচারীদের ধাওয়া করতে শুরু করলে জনমনে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে যে, মঙ্গলবার হায়দারাবাদ প্রি-ক্যাডেট অ্যান্ড হাই স্কুলের পাঠদান বন্ধ রাখে কর্তৃপক্ষ। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা শাহিন আলম বলেন, “আমাদের বিদ্যালয়ের তিনজন শিক্ষার্থীর অভিভাবক কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছেন। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে মঙ্গলবার বিদ্যালয় বন্ধ রাখা হয়েছিল। বিষয়টি সিটি করপোরেশনকেও জানানো হয়েছে।”
এলাকায় এখন অস্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না অনেকে। জরুরি কাজে বের হলেও নিরাপত্তার জন্য হাতে লাঠি রাখছেন স্থানীয়রা। মঙ্গলবার সকালে হায়দারাবাদ এলাকায় কয়েকজন বাসিন্দাকে দলবদ্ধ হয়ে লাঠিসোঁটা হাতে চলাচল করতে দেখা যায়। কুকুরের আকস্মিক আক্রমণ থেকে নিজেদের ও শিশুদের রক্ষায় এমন সতর্কতা বলে জানান তারা। তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে কুকুরের উৎপাতের মুখোমুখি হওয়া স্থানীয় সাংবাদিক রবিউল আলম বলেন, “এখানে এসে আমরাও আতঙ্কের মধ্যে ছিলাম। কখন কুকুর এসে কামড় দেয়, সেই ভয় কাজ করছিল।”
বিষয়টি নিয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা রুবাইয়া ইয়াসমিন বলেন, “বিষয়টি আমি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।” স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে কুকুরের আক্রমণে আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে শিশু ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন এলাকাবাসী। আতঙ্ক কাটাতে দ্রুত বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন হায়দারাবাদ মজিবর মার্কেট এলাকার বাসিন্দারা।
সূত্র: Risingbd
Leave a Reply