ঢাকা ০২:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভালুকায় সেলুন ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম করে মৃত্যুর ঘটনায় অভিযোগ সুন্দরবনে দস্যুদের সাথে বন্দুকযুদ্ধ, জিম্মি থেকে ৫ জেলে উদ্ধার বকেয়া বেতনের দাবিতে চালডাল কর্মীদের বিক্ষোভ ও ভাঙচুর বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে সহায়তা বাড়াতে সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনের প্রতি আহ্বান উখিয়ায় নলকূপ খননের সময় অগ্নিকাণ্ড: নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে সেনাবাহিনী আইজিপি’র ‘ক্রসফায়ার’ সম্পর্কিত বক্তব্যের অপব্যাখ্যা অপরাধীদের উৎসাহিত করবে সৌদির রাস তানুরা তেল শোধনাগারে হামলার দাবি হুতিদের দেশে ডেঙ্গুতে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৪০০ ছাড়াল নওগাঁয় শ্যালিকাকে বিয়ে, যুবক ও দুই স্ত্রীর মুখে চুনকালি দিয়ে গ্রামছাড়া সীতাকুণ্ডে লরির ধাক্কায় বাসের ৫ যাত্রী নিহত

গাজায় প্রতি রাতে ৩০-৪০ ফিলিস্তিনি হত্যার উসকানিমূলক আহ্বান বেন-গভিরের

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৩০:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬ ৫৩ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গাজা উপত্যকায় প্রতি রাতে ৩০ থেকে ৪০ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করতে ইসরায়েলি বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির উগ্র ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। রবিবার (১৬ আগস্ট) প্রকাশিত এবং ফিলিস্তিনি গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া একটি পডকাস্ট পর্বে সাবেক এক ইসরায়েলি বন্দি রোম ব্রাসলাভস্কির সঙ্গে আলাপে বেন-গভির এসব মন্তব্য করেন। রোম ব্রাসলাভস্কি ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলার পর গাজায় বন্দি ছিলেন।

গাজাবাসীদের ওপর নিশানা করে হত্যাকাণ্ডের আহ্বান জানিয়ে বেন-গভির বলেন, “সেখানে এমন কিছু মানুষ আছে যারা বেঁচে থাকার যোগ্য নয়। তাদের বেঁচে থাকা উচিত নয়। তারা তো মানুষের পর্যায়ের মধ্যেই পড়ে না।” ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর জোট সরকারের এই প্রভাবশালী মন্ত্রী মূলত পুলিশ ও সামরিক কারাগার ব্যবস্থার দায়িত্বে রয়েছেন। নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে সামরিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত নীতি নির্ধারণে তার বড় ভূমিকা রয়েছে এবং তিনি বর্তমান যুদ্ধবিরতির মধ্যে সামরিক অভিযান শিথিল করার সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেন।

পডকাস্টের এক পর্যায়ে ইসরায়েলি সামরিক আদালতে দোষী সাব্যস্ত ফিলিস্তিনিদের জন্য মৃত্যুদণ্ড চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়। তখন সাবেক বন্দি ব্রাসলাভস্কি ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড নিজ হাতে কার্যকর করার ইচ্ছা প্রকাশ করলে বেন-গভির তাকে আশ্বস্ত করে বলেন, “এটি বাস্তবায়নের জন্য আমি সব কিছু করে ছাড়ব।” এই মন্তব্যটি ফিলিস্তিনিদের প্রতি তার চরম বিদ্বেষপূর্ণ অবস্থানের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

এছাড়া পডকাস্টে বেন-গভির ফিলিস্তিনিদের স্থায়ীভাবে গাজা ছেড়ে চলে যেতে উৎসাহিত করার পাশাপাশি সেখানে নতুন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের আহ্বান জানান। ব্রাসলাভস্কিকে তিনি বলেন, “পুরো গাজাকেই আমি আমাদের (ইসরায়েলের) মনে করি।” আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এ ধরনের গণবিতাড়ন বা জোরপূর্বক স্থানান্তর জাতিগত নিধনের শামিল হতে পারে। উল্লেখ্য, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, তথাকথিত যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও ইসরায়েলি হামলায় গাজায় প্রতিনিয়ত প্রাণহানির ঘটনা ঘটে চলেছে। চরমপন্থী ও বর্ণবাদী রাজনৈতিক অবস্থানের জন্য ইতামার বেন-গভির দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমালোচিত হয়ে আসছেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের একাধিক দেশ সম্প্রতি তার ওপর ব্যক্তিগত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

গাজায় প্রতি রাতে ৩০-৪০ ফিলিস্তিনি হত্যার উসকানিমূলক আহ্বান বেন-গভিরের

আপডেট সময় : ০৯:৩০:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

গাজা উপত্যকায় প্রতি রাতে ৩০ থেকে ৪০ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করতে ইসরায়েলি বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির উগ্র ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। রবিবার (১৬ আগস্ট) প্রকাশিত এবং ফিলিস্তিনি গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া একটি পডকাস্ট পর্বে সাবেক এক ইসরায়েলি বন্দি রোম ব্রাসলাভস্কির সঙ্গে আলাপে বেন-গভির এসব মন্তব্য করেন। রোম ব্রাসলাভস্কি ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলার পর গাজায় বন্দি ছিলেন।

গাজাবাসীদের ওপর নিশানা করে হত্যাকাণ্ডের আহ্বান জানিয়ে বেন-গভির বলেন, “সেখানে এমন কিছু মানুষ আছে যারা বেঁচে থাকার যোগ্য নয়। তাদের বেঁচে থাকা উচিত নয়। তারা তো মানুষের পর্যায়ের মধ্যেই পড়ে না।” ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর জোট সরকারের এই প্রভাবশালী মন্ত্রী মূলত পুলিশ ও সামরিক কারাগার ব্যবস্থার দায়িত্বে রয়েছেন। নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে সামরিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত নীতি নির্ধারণে তার বড় ভূমিকা রয়েছে এবং তিনি বর্তমান যুদ্ধবিরতির মধ্যে সামরিক অভিযান শিথিল করার সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেন।

পডকাস্টের এক পর্যায়ে ইসরায়েলি সামরিক আদালতে দোষী সাব্যস্ত ফিলিস্তিনিদের জন্য মৃত্যুদণ্ড চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়। তখন সাবেক বন্দি ব্রাসলাভস্কি ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড নিজ হাতে কার্যকর করার ইচ্ছা প্রকাশ করলে বেন-গভির তাকে আশ্বস্ত করে বলেন, “এটি বাস্তবায়নের জন্য আমি সব কিছু করে ছাড়ব।” এই মন্তব্যটি ফিলিস্তিনিদের প্রতি তার চরম বিদ্বেষপূর্ণ অবস্থানের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

এছাড়া পডকাস্টে বেন-গভির ফিলিস্তিনিদের স্থায়ীভাবে গাজা ছেড়ে চলে যেতে উৎসাহিত করার পাশাপাশি সেখানে নতুন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের আহ্বান জানান। ব্রাসলাভস্কিকে তিনি বলেন, “পুরো গাজাকেই আমি আমাদের (ইসরায়েলের) মনে করি।” আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এ ধরনের গণবিতাড়ন বা জোরপূর্বক স্থানান্তর জাতিগত নিধনের শামিল হতে পারে। উল্লেখ্য, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, তথাকথিত যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও ইসরায়েলি হামলায় গাজায় প্রতিনিয়ত প্রাণহানির ঘটনা ঘটে চলেছে। চরমপন্থী ও বর্ণবাদী রাজনৈতিক অবস্থানের জন্য ইতামার বেন-গভির দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমালোচিত হয়ে আসছেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের একাধিক দেশ সম্প্রতি তার ওপর ব্যক্তিগত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

Facebook Comments Box