ঢাকা ০১:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এআই ও রোবট প্রযুক্তিতে ব্যাপক চাকরির ঝুঁকি দেখছেন বিল গেটস ইরানে বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের, নির্দেশ পেলেই ৯৬ ঘণ্টায় অভিযান ত্রুটিপূর্ণ ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বই ফেরতের নির্দেশ মাউশির ফটিকছড়িতে ঝোপে পাওয়া নবজাতকের দায়িত্ব নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন এল ক্লাসিকোয় মরিনহোর তিন কৌশলে কুপোকাত বার্সেলোনা ফেসবুক পোস্ট দেওয়া এসিল্যান্ড আরিফুর রহমানকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে কর অঞ্চল-৯, ঢাকায় ৩৭ পদে নিয়োগ: আবেদনের নিয়ম ও বিস্তারিত ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা শেখ হাসিনার ফেরা নিয়ে গুঞ্জন, যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন ইউনিয়ন পরিষদ পুনর্গঠন ও বিভক্তকরণ কার্যক্রম স্থগিত করল সরকার

রক্তাক্ত শৈশব: রাষ্ট্র আর কতকাল নির্বিকার থাকবে?

মোখলেছুর রহমান
  • আপডেট সময় : ০৯:০৭:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬ ১৯০৫০ বার পড়া হয়েছে

সীতাকুন্ড ইকোপার্ক

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

 

 

রক্তাক্ত শৈশব: রাষ্ট্র আর কতকাল নির্বিকার থাকবে?
​

 

 

সীতাকুণ্ডে সাত বছরের এক শিশু, যার শ্বাসনালি কাটা, শরীর রক্তে ভেজা- প্রাণ বাঁচাতে সে হাঁটছে। এই বীভৎস দৃশ্য কোনো চলচ্চিত্রের নয়, ২০২৬-এর বাংলাদেশের এক নির্মম বাস্তবতা।

 

 

দ্বিতীয় শ্রেণির এই শিশুটিকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। প্রশ্ন জাগে, আমরা কি কোনো সভ্য সমাজে বাস করছি, নাকি এক আদিম জঙ্গলে?

​

 

 

২০২৬ সালের শুরু থেকেই নারীর প্রতি সহিংসতার যে চিত্র ফুটে উঠছে, তা রীতিমতো শিউরে ওঠার মতো। বছরের প্রথম মাসেই ৩৫ জন নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসেও নরসিংদী থেকে পাবনা- দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নৃশংসতা থামেনি। এই পরিসংখ্যান কেবল সংখ্যা নয়, বরং আমাদের বিচারব্যবস্থা ও সামাজিক নিরাপত্তার চরম ব্যর্থতার দলিল।

 

​

 

 

 

ধর্ষণ মামলা দায়ের থেকে শুরু করে তদন্ত ও সাক্ষী উপস্থাপন- পুরো প্রক্রিয়ার ৯৯ শতাংশই রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত। অথচ বিচারহীনতার সংস্কৃতি আর প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় অপরাধীরা বারবার পার পেয়ে যাচ্ছে। বিচার চাইতে গিয়ে উল্টো ভুক্তভোগী পরিবারকে এলাকা ছাড়তে হচ্ছে, এমনকি নরসিংদীর কিশোরীর মতো জীবনও দিতে হচ্ছে।

​

 

 

      আইনে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান থাকলেও প্রয়োগের অভাবে তা কাগজেই সীমাবদ্ধ। মামলার দীর্ঘসূত্রতা আর সামাজিক হয়রানি ভুক্তভোগীদের বিচারহীনতার অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছে। রাষ্ট্র কি কেবল ক্ষমতার সমীকরণ মেলাতেই ব্যস্ত থাকবে? সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কি রাষ্ট্রের অগ্রাধিকার নয়?

​

 

 

 

 

সীতাকুণ্ডের সেই রক্তাক্ত শিশুটি আজ আমাদের বিবেক আর আইনের শাসনের মরণাপন্ন অবস্থার প্রতিচ্ছবি। রাষ্ট্র যদি এখনই এই দানবীয় অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান না নেয়, তবে এই গ্লানি থেকে আমাদের মুক্তি নেই। সময় এসেছে দায়মুক্তির সংস্কৃতি ভেঙে প্রকৃত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার।

​   রাষ্ট্রের কাছে জনগণের সোজাসাপ্টা প্রশ্ন: আর কত রক্ত ঝরলে আপনাদের ঘুম ভাঙবে?

 

 

 

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রক্তাক্ত শৈশব: রাষ্ট্র আর কতকাল নির্বিকার থাকবে?

আপডেট সময় : ০৯:০৭:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

 

 

 

 

রক্তাক্ত শৈশব: রাষ্ট্র আর কতকাল নির্বিকার থাকবে?
​

 

 

সীতাকুণ্ডে সাত বছরের এক শিশু, যার শ্বাসনালি কাটা, শরীর রক্তে ভেজা- প্রাণ বাঁচাতে সে হাঁটছে। এই বীভৎস দৃশ্য কোনো চলচ্চিত্রের নয়, ২০২৬-এর বাংলাদেশের এক নির্মম বাস্তবতা।

 

 

দ্বিতীয় শ্রেণির এই শিশুটিকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। প্রশ্ন জাগে, আমরা কি কোনো সভ্য সমাজে বাস করছি, নাকি এক আদিম জঙ্গলে?

​

 

 

২০২৬ সালের শুরু থেকেই নারীর প্রতি সহিংসতার যে চিত্র ফুটে উঠছে, তা রীতিমতো শিউরে ওঠার মতো। বছরের প্রথম মাসেই ৩৫ জন নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসেও নরসিংদী থেকে পাবনা- দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নৃশংসতা থামেনি। এই পরিসংখ্যান কেবল সংখ্যা নয়, বরং আমাদের বিচারব্যবস্থা ও সামাজিক নিরাপত্তার চরম ব্যর্থতার দলিল।

 

​

 

 

 

ধর্ষণ মামলা দায়ের থেকে শুরু করে তদন্ত ও সাক্ষী উপস্থাপন- পুরো প্রক্রিয়ার ৯৯ শতাংশই রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত। অথচ বিচারহীনতার সংস্কৃতি আর প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় অপরাধীরা বারবার পার পেয়ে যাচ্ছে। বিচার চাইতে গিয়ে উল্টো ভুক্তভোগী পরিবারকে এলাকা ছাড়তে হচ্ছে, এমনকি নরসিংদীর কিশোরীর মতো জীবনও দিতে হচ্ছে।

​

 

 

      আইনে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান থাকলেও প্রয়োগের অভাবে তা কাগজেই সীমাবদ্ধ। মামলার দীর্ঘসূত্রতা আর সামাজিক হয়রানি ভুক্তভোগীদের বিচারহীনতার অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছে। রাষ্ট্র কি কেবল ক্ষমতার সমীকরণ মেলাতেই ব্যস্ত থাকবে? সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কি রাষ্ট্রের অগ্রাধিকার নয়?

​

 

 

 

 

সীতাকুণ্ডের সেই রক্তাক্ত শিশুটি আজ আমাদের বিবেক আর আইনের শাসনের মরণাপন্ন অবস্থার প্রতিচ্ছবি। রাষ্ট্র যদি এখনই এই দানবীয় অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান না নেয়, তবে এই গ্লানি থেকে আমাদের মুক্তি নেই। সময় এসেছে দায়মুক্তির সংস্কৃতি ভেঙে প্রকৃত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার।

​   রাষ্ট্রের কাছে জনগণের সোজাসাপ্টা প্রশ্ন: আর কত রক্ত ঝরলে আপনাদের ঘুম ভাঙবে?

 

 

 

 

 

Facebook Comments Box