কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বুক ও পেট থেকে জোড়া লাগা যমজ শিশু জয়নব ও উম্মে কুলসুমকে বাঁচানোর সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার সন্ধ্যায় মারা গেছে তিন মাস বয়সী দুই বোন। পরে বৃহস্পতিবার সকালে জানাজা শেষে তাদের স্থানীয় কবরস্থানে একই কবরে দাফন করা হয়েছে।
নিহত শিশু দুটির বাবা নাহিদ হাসান জানান, সরকারের উদ্যোগে সোমবার তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। ওই দিন সন্ধ্যা থেকেই শিশু দুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। পরে চিকিৎসকেরা উন্নত চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তাদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
নাহিদ হাসান বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় চিকিৎসার সব দায়িত্ব নিয়েছিল। চিকিৎসকেরাও সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। আমরা আশা নিয়ে ঢাকায় এসেছিলাম। কিন্তু আল্লাহ আমার দুই সন্তানকে তুলে নিয়েছেন। আমার ভাগ্যে ছিল না, তাই সন্তান দুটিকে বাঁচাতে পারলাম না।’
বৃহস্পতিবার সকালে তিনি গণমাধ্যমের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, শিশু দুটির চিকিৎসার বিষয়টি গণমাধ্যমে তুলে ধরার কারণে সরকার তাদের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছিল। এজন্য তিনি সরকার ও গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
জানা গেছে, দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের বিলগাথুয়া মধ্যপাড়া গ্রামের নাহিদ হাসান (২৬) ও সানজিদা ইয়াছমিন মুক্তা (২২) দম্পতির ঘরে গত ৪ মে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জন্ম নেয় জয়নব ও উম্মে কুলসুম। জন্মের পর থেকেই তাদের বুক থেকে পেট পর্যন্ত পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত ছিল।
শিশু দুটির চিকিৎসা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নজরে আসে। পরে সরকার তাদের চিকিৎসার ব্যয় বহনের সিদ্ধান্ত নেয়। সরকারের উদ্যোগে সোমবার শিশু দুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার সন্ধ্যায় তাদের মৃত্যু হয়।
Leave a Reply