নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর থেকে ভোলার ইলিশা ঘাট পর্যন্ত নতুন ফেরি সার্ভিস চালু হওয়ার মধ্য দিয়ে দুই অঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। সড়কপথের দীর্ঘ যানজট ও যাতায়াতজনিত ভোগান্তি এড়াতে এই নৌপথটি পণ্যবাহী পরিবহন ও সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গত ২৭ আগস্ট পরীক্ষামূলকভাবে ফেরি চলাচল শুরুর পর, মঙ্গলবার বিকেলে সড়ক পরিবহন, সেতু ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম আনুষ্ঠানিকভাবে এই সার্ভিসটির উদ্বোধন করেন।
ফেরি সার্ভিসটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টায়। ‘বেগম সুফিয়া কামাল’ নামের ফেরিটি ১২টি বড় মালবাহী ট্রাক ও দুটি ছোট গাড়ি নিয়ে কাঁচপুর সেতুর নিচ থেকে ভোলার ইলিশা ঘাটের উদ্দেশে রওনা হয়। প্রায় সাড়ে সাত ঘণ্টা নৌপথ পাড়ি দিয়ে বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফেরিটি গন্তব্যে পৌঁছায়। এরপর বুধবার বেলা ১টায় ইলিশা থেকে ফেরিটি পুনরায় কাঁচপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে, যা রাত ১০টার দিকে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) জানিয়েছে, এই রুটে ‘বেগম সুফিয়া কামাল’ ও ‘বেগম রোকেয়া’—এই দুটি ফেরি চলাচল করছে। বর্তমানে প্রতিদিন দুই প্রান্ত থেকে একটি করে ফেরি ছাড়া হচ্ছে এবং প্রতিবার পারাপারে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা সময় লাগছে। পদ্মা সেতু চালুর পর যেসব ফেরি অব্যবহৃত ছিল, সেখান থেকেই দুটি ফেরি এনে এই রুটে যুক্ত করা হয়েছে।
নতুন এই রুটের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে বড় মালবাহী ট্রাকের জন্য সাড়ে ১২ হাজার টাকা, মিনি ট্রাকের জন্য ৯ হাজার টাকা, ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য ৫ হাজার টাকা এবং মোটরসাইকেলের জন্য ৫০০ টাকা। তবে ট্রাকচালকদের দাবি, ফেরি ভাড়া আরও কমানো হলে এই নৌপথটি আরও বেশি কার্যকর ও জনপ্রিয় হয়ে উঠবে। ট্রাকচালক সোহেল রানা জানান, ফেরি সার্ভিস চালু হওয়ায় পণ্যবাহী গাড়ি নিয়ে দিনে ভোলায় যাওয়া ও রাতে ফেরার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এছাড়া চালক আবুল কাশেমের মতে, সড়কপথের যানজট ও চাঁদাবাজির হয়রানি থেকে মুক্তি পেতে এই ফেরি সার্ভিস বড় ভূমিকা রাখবে এবং যাতায়াতের সময় চালকেরা বিশ্রাম নেওয়ারও সুযোগ পাবেন।
ব্যবসায়ীদের মতে, এই নৌপথ চালুর ফলে ভোলার মাছ ও কৃষিপণ্য সরাসরি ঢাকাসহ দেশের বড় বাজারগুলোতে পৌঁছানো সহজ হবে। নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জ পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি শংকর সাহা বলেন, ফেরি সার্ভিস ব্যবসার গতি বাড়াবে এবং পরিবহন ব্যয় কমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য কিনতে পারবেন। এছাড়া উন্নত চিকিৎসা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের প্রয়োজনে ভোলার মানুষের ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে যাতায়াত এখন অনেক সহজ হবে।
বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা যায়, ফেরি চলাচলের জন্য আগে থেকেই বিদ্যমান রাস্তার পাশে পন্টুন বসানো হয়েছে। তবে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয়ের হিসাব এখনো চূড়ান্ত করেনি বিআইডব্লিউটিএর প্রকৌশল বিভাগ। নৌবন্দরের যুগ্ম পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, ব্যয়ের বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, ভোলার সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের স্থায়ী সড়ক যোগাযোগ স্থাপনে তিনটি সেতু ও সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। এই বড় প্রকল্পের কাজ শেষ হতে চার থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে। তাই স্থায়ী যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে না ওঠা পর্যন্ত কাঁচপুর-ইলিশা ফেরি সার্ভিসই ভোলার মানুষের জন্য প্রধান ভরসা হয়ে থাকবে। ভবিষ্যতে এই রুটে যাত্রী ও যানবাহনের চাহিদা বাড়লে ফেরির সংখ্যা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জহির উদ্দিন বলেন, নতুন ফেরি সার্ভিস চালু হওয়ায় চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন বন্দর এলাকার যানবাহনের জন্য সুবিধা হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কাঁচপুরে পৌঁছাতে রাত ১০টা বাজতে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের সঙ্গে ভোলার নৌপথে যোগাযোগের নতুন দুয়ার উন্মোচন হলো। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নরসিংদী, সিলেটসহ অন্যান্য অঞ্চলের পণ্যবাহী যানবাহনের যাতায়াতেও এ ফেরি কাজে লাগবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরিবহনচালক ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, এখন কাঁচপুর থেকে পণ্যবোঝাই ট্রাক ফেরিতে সরাসরি ইলিশা যেতে পারছে।
সূত্র: প্রথম আলো
মন্তব্য করুন