উজানের ঢলের প্রভাবে টানা সাত দিন ধরে চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা নদীর পানি বাড়ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় নদীতে ৮ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।
বর্তমানে পদ্মা নদীর পানির স্তর বিপৎসীমার (২২ দশমিক ০৫ মিটার) ২৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নিয়ম অনুযায়ী, বিপৎসীমার ৫০ সেন্টিমিটার নিচ পর্যন্ত পানির স্তরকে সতর্কসীমা হিসেবে গণ্য করা হয়। এদিকে, একই সময়ে জেলার মহানন্দা নদীতে ১০ সেন্টিমিটার এবং পুনর্ভবা নদীতে ১৩ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে।
পদ্মার পানি বাড়ায় সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার নিম্নাঞ্চলের পাঁচটি ইউনিয়নের প্রায় আড়াই হাজার পরিবার পানিবন্দী অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১ হাজার ৮০০টি এবং শিবগঞ্জ উপজেলায় ৭০০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি ঢুকে পড়ায় এসব এলাকার বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়েছে।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, জেলায় প্রায় ৩৬২ হেক্টর জমির ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এছাড়া দুই উপজেলার ১৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি ওঠায় সেখানে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। প্লাবিত এলাকার বাসিন্দারা গবাদিপশু নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম আহসান হাবিব জানান, যদিও পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে, তবে শুক্রবার থেকেই তা কমতে শুরু করার সম্ভাবনা রয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, জেলার তিনটি নদীর কোনোটিতেই পানির স্তর বিপৎসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা নেই।
জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মূসা জঙ্গী জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা করে তাদের মাঝে চাল বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বন্যার ক্ষয়ক্ষতির সার্বিক পরিস্থিতি সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। সরকারি বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে পর্যায়ক্রমে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হবে।
মন্তব্য করুন