চীনে চলমান এএইচএফ জুনিয়র এশিয়া কাপ হকির স্থান নির্ধারণী ম্যাচে জাপানের কাছে ৬-২ গোলের বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। এই পরাজয়ের ফলে টানা দ্বিতীয়বারের মতো এফআইএইচ হকি জুনিয়র বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন ভেঙে গেল বাংলাদেশের। টুর্নামেন্টের পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষ ছয় দলের মধ্যে থেকে সরাসরি বিশ্বকাপের টিকিট পাওয়ার লড়াই থেকে ছিটকে পড়েছে তারা। এখন সপ্তম স্থান নির্ধারণী প্লে-অফ ম্যাচে চাইনিজ তাইপের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।
গত আসরে জুনিয়র এশিয়া কাপে পঞ্চম স্থান অর্জন করে ২০২৫ সালের জুনিয়র বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছিল বাংলাদেশ। এবারও বিশ্বমঞ্চে নিজেদের জায়গা ধরে রাখার লক্ষ্য ছিল দলের। তবে জাপানের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে জয়ের কোনো বিকল্প ছিল না। কিন্তু মাঠের খেলায় দারুণ শুরু করলেও ফিনিশিংয়ের দুর্বলতায় ভুগতে হয়েছে বাংলাদেশকে। সুযোগ হাতছাড়ার খেসারত দিয়ে ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ জাপানের হাতে তুলে দেয় তারা।
খেলার ধারার বিপরীতে দ্বিতীয় মিনিটেই গোল হজম করে বসে বাংলাদেশ। ওপেন প্লে থেকে গোল করে জাপানকে এগিয়ে দেন সেইয়া ইয়ামাদা। গোল খেয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় লাল-সবুজরা সমতা ফেরানোর সুযোগ পেলেও ফাঁকা পোস্টে বল পাঠাতে ব্যর্থ হয়। অন্যদিকে, জাপানও ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ নষ্ট করে, যেখানে ইউনোসুকে সোনে পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন।
তবে ২৯তম মিনিটে আর ভুল করেননি সোনে। দ্বিতীয় পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি। এরপর প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে ফিল্ড গোল করে স্কোরলাইন ৩-০ করেন শোতা হানাইয়ামা। বিরতির পরও জাপানের আধিপত্য অব্যাহত থাকে। ৩৬তম মিনিটে পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে গোল করে ব্যবধান ৪-০ করেন রিনতারো সাকাই। এর পাঁচ মিনিট পর আবারও গোল করে ব্যবধান বাড়ান সাকাই।
ম্যাচের এই পর্যায়ে বাংলাদেশের ভাগ্য একরকম নির্ধারিত হয়ে যায়। এর পরপরই পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে গোল করে ব্যবধান কিছুটা কমান বাংলাদেশের মোহাম্মদ মেহেদী। কিন্তু লড়াইয়ে ফেরার সেই আশা দ্রুতই নিভে যায়, কারণ ৪৫তম মিনিটে ষষ্ঠবারের মতো গোলের দেখা পায় জাপান। এরপর ৫০তম মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করে স্কোরলাইন ৬-২ করেন মুন্না ইসলাম। ম্যাচের শেষ দুই কোয়ার্টারে কিছু সুযোগ তৈরি হলেও কেবল হারের ব্যবধানই কমাতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ।
মন্তব্য করুন