যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে বর্তমানে চলমান যুদ্ধ আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে শেষ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) টেক্সাসে যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি দাবি করেন, নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই এই যুদ্ধের অবসান ঘটবে। তিনি আরও জানান, যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও দ্রুত কমে আসবে।
নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির সম্মেলনে যোগ দিতে টেক্সাসে যাওয়ার সময় ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। আগামী নির্বাচনে মার্কিন কংগ্রেসের ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। এদিকে, দীর্ঘস্থায়ী এই যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি ও ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায়। জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে তিনি নিজ দলের ভেতরেও চাপের মুখে রয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারে পৌঁছেছে, যা গত জুলাই মাসের পর সর্বোচ্চ। ট্রাম্পের মতে, যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তেলের দামের এই ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত থাকতে পারে। তিনি অভিযোগ করেন, ইরান মার্কিন নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে এবং তেহরান এমন একটি দুর্বল সরকার চায় যারা তাদের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ দেবে। তবে ইরান বরাবরই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, আলোচনা সম্ভব হলেও আপাতত যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। উল্লেখ্য, গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার পর থেকে সংঘাত নতুন করে তীব্র হয়েছে। যুদ্ধের সপ্তম মাস চলছে, অথচ শুরুর দিকে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন সংঘাত কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হবে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সংঘাত ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বুধবার মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, তারা ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাঁচটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দাবি করেছে, তারা হরমুজ প্রণালিতে দুটি মার্কিন নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ার ও আটটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে, যার ফলে জাহাজগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এর আগে, ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের কয়েকটি তেল স্থাপনায় ধারাবাহিক হামলা চালায়, যার ফলে সেখানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এই সংঘাতের ফলে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা ও পণ্য পরিবহনে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটছে। যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশ্লেষকরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ততদিনে ইরান আর যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মতো অবস্থায় থাকবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পাশাপাশি বিভিন্ন জনমত জরিপে তাঁর জনপ্রিয়তা কমার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এতে দেশটির কয়েকটি তেল স্থাপনায় আগুন ধরে যায়।
সূত্র: দৈনিক এইদিন
মন্তব্য করুন