প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন ভ্যাট কাঠামো: ইউনিয়ন পর্যায়ে ৫০০ টাকা করের পরিকল্পনা এনবিআরের
- আপডেট সময় : ০৯:০৭:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৮ বার পড়া হয়েছে
প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন ভ্যাট কাঠামো: ইউনিয়ন পর্যায়ে ৫০০ টাকা করের পরিকল্পনা এনবিআরের
দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের করের আওতায় আনার লক্ষ্যে নতুন একটি ভ্যাট কাঠামো তৈরির পরিকল্পনা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইউনিয়ন পর্যায়ের দোকানপাট ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য প্রতি মাসে ৫০০ টাকা, উপজেলা পর্যায়ে ১ হাজার টাকা এবং জেলা সদর ও পৌর শহর এলাকার ব্যবসায়ীদের জন্য ২ হাজার টাকা নির্ধারিত ভ্যাট আরোপের চিন্তা করা হচ্ছে। মূলত ভ্যাটের আওতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরে এনবিআরকে মোট ছয় লাখ চার হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ভ্যাট খাত থেকেই ২ লাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী, বার্ষিক লেনদেন ৫০ লাখ টাকার বেশি হলে ভ্যাট নিবন্ধন বাধ্যতামূলক এবং সাধারণত ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট প্রযোজ্য হয়। তবে ৫০ লাখ টাকার নিচে লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক না হওয়ায় তারা ভ্যাটের আওতার বাইরে থেকে যাচ্ছে। এই শূন্যতা পূরণ করতেই ন্যূনতম ভ্যাটের বিধান চালুর চিন্তা করছে কর্তৃপক্ষ।
পড়ুন>>ময়মনসিংহে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারী যুবকের ওপর হামলা ও মৃত্যু
ইতিমধ্যে এনবিআর মাঠপর্যায়ে জরিপ শুরু করেছে। ভ্যাট বিভাগের কর্মকর্তারা বিভিন্ন উপজেলার দোকান ও বিপণিবিতানের তালিকা তৈরি করছেন। এনবিআরের সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, ঠাকুরগাঁও সদরের নুর নাহার প্লাজায় ৫২টি দোকানের মধ্যে ৪টিতে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) রয়েছে।
এছাড়া রংপুর সিটির বেতপট্টি বাজারে ১২১টি এবং কুড়িগ্রামের রৌমারী বাজারে ৫০টি দোকানের পরিসংখ্যান সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের তিন থেকে পাঁচ লাখ ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে এই ভ্যাটের আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
পড়ুন>>ভূরুঙ্গামারীতে অধিক দামে সার বিক্রি করায় মোবাইল কোর্টে জরিমানা
এক দশক আগে দেশে প্যাকেজ ভ্যাট প্রথা চালু ছিল, যেখানে লেনদেনের পরিমাণের ওপর ভিত্তি না করে নির্ধারিত হারে কর দিতে হতো। ২০১৯ সালে নতুন ভ্যাট আইন চালুর পর সেই প্রথা বাতিল হয়ে যায়। এখন এনবিআর অনেকটা সেই আদলেই নতুন করে ভ্যাট আরোপের পরিকল্পনা করছে। ব্যবসায়ীরা যাতে সহজে এই কর পরিশোধ করতে পারেন, সেজন্য মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ভ্যাট আদায়ের ব্যবস্থা রাখা হবে। ভবিষ্যতে প্রান্তিক পর্যায়ে ভ্যাট আদায়ের জন্য আলাদা অ্যাপ চালুরও পরিকল্পনা রয়েছে এনবিআরের।
পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের আগে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে এনবিআর সূত্রে জানা গেছে। বর্তমানে ইউনিয়ন থেকে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত বিভিন্ন বাজারের দোকানের ধরন ও অবস্থানসহ বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।
আরও পড়ুন>>আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরিচালক পদে নিয়োগ
এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এসএমএসি অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেসের পরিচালক স্নেহাশীষ বড়ুয়া। তিনি বলেন, এটি একটি ভালো উদ্যোগ, তবে মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা জরুরি, যাতে তারা ভীত না হন। স্নেহাশীষ বড়ুয়া আরও সতর্ক করেন যে, একবার কম পরিমাণে ভ্যাট দিতে অভ্যস্ত হয়ে গেলে ভবিষ্যতে এসব ব্যবসায়ীরা বেশি হারে ভ্যাট দিতে অনাগ্রহী হতে পারেন, যা নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তার অবকাশ রয়েছে।


























