উজানে ভারত থেকে নেমে আসা ঢল ও টানা বৃষ্টির প্রভাবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রধান তিন নদী পদ্মা, মহানন্দা ও পুনর্ভবার পানি হু হু করে বাড়ছে। গত সাত দিন ধরে চলা এই পানি বৃদ্ধির ফলে জেলার সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার নদীতীরবর্তী পাঁচটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে করে ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত প্রায় আড়াই হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় প্রায় ১ হাজার ৮০০ এবং শিবগঞ্জ উপজেলায় ৭০০ পরিবার রয়েছে। এছাড়া জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৩৬২ হেক্টর জমির আমন-আউশ ধান, গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ ও শাকসবজির ক্ষেত তলিয়ে গেছে। শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে ১৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, যার মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উচ্চবিদ্যালয়, কলেজ ও মাদ্রাসা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, শুক্রবার পদ্মার পাঙ্খা গেজ স্টেশনে পানির উচ্চতা ২১ দশমিক ৭৬ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে, যা বিপৎসীমার (২২ দশমিক ০৫ মিটার) মাত্র ২৯ সেন্টিমিটার নিচে। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় পদ্মার পানি ১১ সেন্টিমিটার বেড়েছে। এছাড়া মহানন্দার খালঘাট পয়েন্টে পানির উচ্চতা ১৯ দশমিক ৪৩ মিটার (বিপৎসীমা ২০ দশমিক ৫৫ মিটার) এবং পুনর্ভবার রহনপুর পয়েন্টে ১৯ দশমিক ৪৬ মিটার (বিপৎসীমা ২১ দশমিক ৫৫ মিটার) রেকর্ড করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এই দুই নদীতে পানি বেড়েছে ১০ সেন্টিমিটার করে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম আহসান হাবীব জানান, বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী শনিবার পর্যন্ত পানি বাড়তে পারে, এরপর তা কমার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে কোনো নদীর পানিই বিপৎসীমা অতিক্রম না করায় বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা নেই। তবে নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি থাকায় নিম্নাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। বিশুদ্ধ পানি, রান্নার জায়গা, গবাদিপশুর খাদ্য ও যাতায়াত নিয়ে তারা সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে সদর উপজেলা ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার ইকরামুল হোসাইন জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম জানিয়েছেন, শিবগঞ্জের তিনটি ইউনিয়নের প্রায় ২৫০ পরিবারের মধ্যে ইতোমধ্যে ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া শিবগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, প্লাবিত এলাকায় শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মূসা জঙ্গী জানিয়েছেন, পানিবন্দী পরিবারগুলোর তালিকা অনুযায়ী চাল বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং বরাদ্দ সাপেক্ষে ধাপে ধাপে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হবে। বন্যার বর্তমান ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, অনেক এলাকায় বসতবাড়িতে পানি ঢুকেছে এবং নদীভাঙনও দেখা দিয়েছে। কৃষকেরা তাদের ফসল রক্ষার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছেন।
সদর উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নাজির হোসেন, শিবগঞ্জের দুর্লভপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম আজম এবং পাঁকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক নিজ নিজ এলাকার পরিস্থিতি তুলে ধরে জানিয়েছেন যে, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় মানুষ গবাদিপশু ও ঘরের মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ আতিকুল ইসলাম বলেন, ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকেরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
নদীতীরের মানুষের এখন একটাই প্রত্যাশা, পানি দ্রুত কমে গিয়ে যেন তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন। যদিও বড় বন্যার পূর্বাভাস নেই, তবুও পানি স্থায়ী হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কোথাও ঘরের আঙিনা, কোথাও বসতঘরের আশপাশে পানি জমেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফলে বড় বন্যার আশঙ্কা না থাকলেও প্রশ্ন উঠেছে, পানি আরও বাড়লে নিম্নাঞ্চলের এই বিপুলসংখ্যক মানুষকে কতটা দ্রুত সহায়তার আওতায় আনা যাবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ইউনিয়ন পরিষদ ভবনসহ বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ার কথাও স্থানীয়ভাবে জানা গেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এখনো সব এলাকায় বাড়িঘর ও রাস্তায় পানি ঢোকেনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পানি এভাবে বাড়তে থাকলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ইতোমধ্যে কিছু পাকা আউশ ধানখেত পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিশেষ করে যেসব জমিতে ফসল কাটার সময় এখনো হয়নি, সেসব জমির কৃষকেরা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।
সূত্র: ডেইলি বাংলাদেশ
মন্তব্য করুন