জুলাই সনদের সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধনের পথে সরকার: চিফ হুইপ
- আপডেট সময় : ০৫:২৩:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪৪ বার পড়া হয়েছে
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি জানিয়েছেন, জুলাই সনদে স্বাক্ষর করা প্রতিটি বিষয় সরকার অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই সনদ বাস্তবায়নের পথে কোনো বাধা থাকলে প্রয়োজনে সংবিধান সংশোধন করা হবে, কারণ এর বাইরে অন্য কোনো বিকল্প পথ নেই।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সংসদ ভবনে জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন পরবর্তী এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় হুইপ এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, মো. আখতারুজ্জামান মিয়া এবং এ.বি.এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান) উপস্থিত ছিলেন।
পড়ুন>>শুধুমাত্র রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা অর্জনই লক্ষ্য নয়, আখিরাতের সফলতার জন্যও কাজ করতে হবে: এটিএম আজহার
চিফ হুইপ জানান, গত ২৭ আগস্ট শুরু হয়ে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলা তৃতীয় অধিবেশনে মোট নয়টি কর্মদিবস ছিল। এই স্বল্প সময়ে ছয়টি বিল উত্থাপন ও পাস করা হয়েছে। এছাড়া কার্যপ্রণালির বিভিন্ন বিধিতে নোটিশ ও আলোচনার মাধ্যমে সংসদীয় কার্যক্রম সচল ছিল। এর মধ্যে বিধি ৬৮-এ দুটি, বিধি ৭১-এ ১৪টি এবং দুই মিনিটের বক্তব্যের বিধিতে ১২৪টি নোটিশের ওপর আলোচনা হয়েছে।
সংসদীয় কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার বিষয়ে তিনি জানান, ১৪৪টি প্রশ্নের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নিজে ১৫টির উত্তর দিয়েছেন। এছাড়া মন্ত্রিসভার সদস্যরা মোট ২ হাজার ৬৭৬টি প্রশ্নের মধ্যে ১ হাজার ৬৭৮টির জবাব দিয়েছেন।
অধিবেশনে পাস হওয়া গুরুত্বপূর্ণ আইনগুলোর মধ্যে সম্পত্তি হস্তান্তর ও আজীবন ভোগদখল সংক্রান্ত আইনটি বৃদ্ধ বাবা-মায়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পড়ুন>>যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দামে রেকর্ড, পাম্পের ডিসপ্লেতে জায়গা হচ্ছে না নতুন দামের
তিনি বলেন, অনেক সময় সন্তানরা সম্পত্তি লিখে নেওয়ার পর বাবা-মাকে অবহেলা করে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠায়। নতুন আইনে সম্পত্তি হস্তান্তরের পরও বাবা-মায়ের জীবদ্দশায় তা ভোগের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। ধর্মীয় মূল্যবোধের দোহাই দিয়ে যারা এর বিরোধিতা করছেন, তাদের প্রতি তিনি প্রশ্ন রাখেন যে, বাবা-মাকে সম্মান ও সুরক্ষা দেওয়াও তো ধর্মীয় বিধানের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকার সংক্রান্ত আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অংশীজন, বিচারক, আইনজীবী এবং বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের মতামত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি এড়াতে এই আইনগুলোকে আরও শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট নিরসনে সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, লংমার্চ বা আন্দোলনের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান অসম্ভব। একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে অন্তত দুই থেকে তিন বছর সময় প্রয়োজন। আগের সরকারের আমলে বিদ্যুৎ খাতে ক্যাপাসিটি চার্জের নামে বিপুল অর্থ অপচয় হয়েছে, যা বর্তমান সরকার পর্যালোচনা করছে।
পড়ুন>>চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মার পানি বৃদ্ধি: আড়াই হাজার পরিবার পানিবন্দী, তলিয়েছে ৩৬২ হেক্টর ফসলি জমি
আর্থিক ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে চিফ হুইপ জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত পাঁচ মাসে আগের সরকারের রেখে যাওয়া প্রায় ২০৫ কোটি ডলার ঋণ পরিশোধ করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারি অর্থের অপচয় রোধে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন।
কৃষি খাতে সহায়তার অংশ হিসেবে কৃষক কার্ড ও কৃষিঋণ কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে দেশে ১৬ লাখ মেট্রিক টন সার মজুদ রয়েছে এবং সরকার কৃষকের দোরগোড়ায় সার পৌঁছে দিতে কাজ করছে।
বিদেশি বিভিন্ন দেশের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ১০১টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সরকার পর্যালোচনা করছে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা হবে।
সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে বিরোধী দলের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ৩৯টি কমিটির মধ্যে ২২টিতে তিনজন এবং বাকিগুলোতে দুজন করে বিরোধী দলের সদস্য রাখা হয়েছে। এছাড়া পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির সভাপতি হিসেবে বিরোধী দলের ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা অতীতে বিরল ছিল।
আরও পড়ুন>>দোহায় ইসরায়েলি হামলার এক বছর: উপসাগরীয় নিরাপত্তা কৌশলে বড় পরিবর্তন
চিফ হুইপ আরও বলেন, সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও আইন পাসের ক্ষেত্রে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চলতে চায়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের উন্নয়ন, গণতন্ত্র এবং স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অবিচল। তিনি মনে করেন, সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে মতপার্থক্য বাড়েনি, বরং সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে।
পরিশেষে তিনি সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকারের ভুলত্রুটি থাকলে তা যেমন তুলে ধরতে হবে, তেমনি ভালো কাজের স্বীকৃতিও দিতে হবে। দেশকে স্বাবলম্বী ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার বিরোধী দলসহ সবার সহযোগিতা প্রত্যাশা করে।


























