
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর চরভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের নতুনহাটে অধিক দামে সার বিক্রিকালে বিসিআইসি সার ডিলার নিতাই চন্দ্র সাহার বিক্রয় কেন্দ্রের ম্যানেজার আঃ গনিকে ১০ হাজার টাকা এবং কীটনাশক ব্যবসায়ী আসাদুল আলমকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, একটি টেলিভিশন চ্যানেলের সাংবাদিক অধিক দামে সার বিক্রির বিষয়টি জানতে পেরে ঐ ব্যবসায়ীর কছে উৎকোচ দাবী করলে তিনি দিতে অস্বীকার করায় তাৎক্ষণিকভাবে তিনি বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ফোনে বলেন, এখানে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অধিক দামে সার বিক্রি হচ্ছে।
খবর পেয়ে তৎক্ষণিভাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট অমৃত দেবনাথ, সহকারী কমিশনার ভূমি আমিনুল ইসলাম তারেক, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল জব্বার, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রভাষক শহিদুল ইসলাম আকন্দ, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল্ ওয়াদুদ, এনসিপির আহবায়ক মাহফুজুর রহমান কিরণ। তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে জানতে পারেন যে দুজন কৃষকের কাছ থেকে একশো টাকা করে বেশি নেওয়া হয়েছে। তারা তৎক্ষণিভাবে সেই কৃষক দুজনকে ডেকে এনে একশো টাকা করে ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করেন এবং সরকার নির্ধারিত মূল্য তের’শ চল্লিশ টাকা করে সার বিক্রির আদেশ প্রদান করেন।
দুজন কৃষকের কাছ থেকে একশো টাকা করে বেশি নেওয়ার অপরাধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত্য দেবনাথ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন এবং আসাদুজ্জামান পিতা আবদুল আউয়ালকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৪০ ধারা মোতাবেক দুইজনকে মোট পনের হাজার টাকা জরিমানা করেন।
উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, উপজেলা প্রশাসনকে বেকায়দায় ফেলা এবং একটি বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি করার উদ্দেশ্যে ঐ সাংবাদিক কাজটি করেছেন।
উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শহিদুল ইসলাম আকন্দ বলেন, সরকারকে বেকায়দায় ফেলে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার একটি অপচেষ্টা এখানকার স্থানীয় ফ্যাসিস্ট কর্তৃক পরিচালিত হয়েছে ।
তিনি এই ধরনের জঘন্য কাজের জন্য তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন যেকোনো মূল্যে এই ফ্যাসিস্টদেরকে প্রতিহত করা হবে। যতটুকু জানি সারের কোন সংকট নেই। এই সংকট কৃত্রিমভাবে তৈরি করার অপচেষ্টা চলছে। এটি প্রশাসন অবশ্যই প্রতিহত করবে।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, সার নিয়ে কোনো রকম তালবাহানা, কোনো রকম কারসাজি কঠিন হস্তে দমন করা হবে এবং কাউকেই এই সুযোগ তারা দিতে চান না। এনসিপির মাহফুজুর রহমান কিরণ বিএনপির এই নেতাদের সাথে সহমত পোষণ করে বলেন, যতটুকু জানি তাতে সরকারের কোনো সার সংকট নেই। এই সংকট কৃত্রিমভাবে তৈরি করার চেষ্টা চলছে।
মন্তব্য করুন