সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে ভারত সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মাদারীপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি স্পষ্ট করেন যে, শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানো হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাকে গ্রেপ্তার করা হবে এবং আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, অপরাধী প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় পলাতক আসামিদের ফিরিয়ে আনার জন্য সরকার কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে ভারতের সংশ্লিষ্ট বিচারিক ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন, একজন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি দেশের বাইরে বসে কী বলছেন তা বিবেচ্য নয়। বর্তমানে শেখ হাসিনাসহ তার দলের অনেক নেতাকর্মী ভারতে অবস্থান করছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মর্জিনা আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খান, মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী জাহান, মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ উদ্দিন আহম্মদ হানজালা এবং পুলিশ সুপার মো. ফজলে এলাহীসহ সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সভায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও জোরদার করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।
মতবিনিময় সভায় ‘মক্কা প্যাক্ট’ বা প্রতিরক্ষামূলক সাময়িক জোটে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গেও কথা বলেন শামা ওবায়েদ। তিনি জানান, এই জোটে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ভবিষ্যতে যেকোনো আন্তর্জাতিক ফোরামে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নিজস্ব পররাষ্ট্রনীতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে। কোনো জোট দেশের মানুষের স্বার্থের অনুকূলে কি না এবং তা বাংলাদেশের জন্য কতটা উপকারী হবে, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করা হবে। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উপযুক্ত সময়ে বিস্তারিত তথ্য জানাবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।
সূত্র: দৈনিক এদিন
Leave a Reply