দেশের সর্ব উত্তরের সীমান্তবর্তী ও পর্যটন সম্ভাবনাময় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক সেবায় স্থবিরতা নেমে এসেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সহ অন্তত ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরে পর্যাপ্ত জনবল ও কর্মকর্তা না থাকায় সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অনেক দপ্তরে শীর্ষ পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পড়ে আছে, আবার কোথাও কোথাও অতিরিক্ত বা ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দিয়ে জোড়াতালি দিয়ে চালানো হচ্ছে কার্যক্রম।
উপজেলার প্রশাসনিক কেন্দ্রবিন্দু ইউএনও পদটি গত ৬ জুলাই থেকে শূন্য রয়েছে। বর্তমানে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম আকাশ ভারপ্রাপ্ত ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া এ দপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে কোনো প্রশাসনিক কর্মকর্তা নেই। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অবস্থাও নাজুক। স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার পদটি সম্প্রতি শূন্য হয়েছে। এছাড়া জুনিয়র কনসালটেন্টের ১০টি পদের মধ্যে ৯টি, মেডিকেল অফিসারের ২৮টির মধ্যে ১৭টি, মিডওয়াইফের ২টি এবং মেডিকেল টেকনোলজিস্টের ১৯টি পদের মধ্যে ৮টি পদই খালি রয়েছে।
মহিলা বিষয়ক দপ্তরে কর্মকর্তা তো নেই-ই, এমনকি কোনো স্থায়ী কর্মচারীও নেই। ২০২১ সাল থেকে পার্শ্ববর্তী আটোয়ারী উপজেলার কর্মকর্তা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন, যিনি সপ্তাহে মাত্র এক-দুই দিন এসে অফিস সামলান। এতে মাতৃত্বকালীন ভাতা, ভিডব্লিউবি, প্রশিক্ষণ এবং বাল্যবিয়ে ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধসহ গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। লুবানা আক্তার নামে এক প্রশিক্ষণার্থী অভিযোগ করেন, ৫৯ দিনের ভাতার স্বাক্ষর নিলেও অফিসের কর্মচারী অর্ধেক টাকা দিচ্ছেন, আর দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাকে অফিসে পাওয়া যায় না।
সমাজসেবা ও কৃষি দপ্তরের চিত্রও একই। গত ৩০ জুলাই সমাজসেবা কর্মকর্তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করার পর সেখানে নতুন কেউ যোগ দেননি। একইভাবে উপজেলা কৃষি অফিসে অতিরিক্ত কৃষি অফিসারের ১টি, সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ অফিসারের ২টি এবং উপ-সহকারী কৃষি অফিসারের ১০টি পদসহ মোট ১২টি পদ শূন্য রয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাবরিনা আফরিন জানান, সীমিত জনবল দিয়েই তারা কাজ চালিয়ে নিচ্ছেন, তবে শূন্য পদগুলো পূরণ হলে সেবার মান অনেক বাড়ানো সম্ভব হতো।
উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে স্থায়ী সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় জমি কেনাবেচা ও দলিল সম্পাদনে সেবাগ্রহীতারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন, যার প্রভাব পড়ছে সরকারি রাজস্ব আদায়ে। এছাড়া উপজেলা এলজিইডি, প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, পরিবার পরিকল্পনা অফিস, মৎস্য অফিস, নির্বাচন অফিস, আনসার-ভিডিপি, পরিসংখ্যান ও আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারেও একই সংকট বিদ্যমান। ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসারের পদটিও খালি। হিসাবরক্ষণ অফিসে একজন অডিটর দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে, যেখানে জুনিয়র অডিটরসহ অন্য কোনো জনবল নেই।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত থাকেন না। এ সুযোগে কিছু অসাধু কর্মচারী প্রভাব খাটিয়ে অনিয়মে জড়িয়ে পড়ছেন। আজিজনগর এলাকার বাসিন্দা শাহিনুর ইসলাম শাহীন জানান, গোবরা নদীতে বিষ প্রয়োগের ঘটনায় মৎস্য অফিসে অভিযোগ জানালে তারা আসতে অপারগতা প্রকাশ করেন। নাইবুল ইসলাম নামে আরেক স্থানীয় বাসিন্দা দ্রুত স্থায়ী জনবল নিয়োগের দাবি জানান। দেবনগড় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুল মমিন বলেন, দাপ্তরিক কাজে বিভিন্ন দপ্তরে গিয়ে কর্মকর্তা না পেয়ে তিনিসহ জনপ্রতিনিধিরা চরম সমস্যায় পড়ছেন।
ভারপ্রাপ্ত ইউএনও এস এম আকাশ স্বীকার করেছেন যে, জনবল সংকটের কারণে বিভিন্ন সরকারি কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং দাপ্তরিক কাজের গতি কমে গেছে। পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক মোসা. শুকরিয়া পারভীন জানান, ইউএনও না থাকার বিষয়টি তার জানা থাকলেও অন্যান্য দপ্তরে কর্মকর্তা সংকটের বিষয়টি তিনি অবগত ছিলেন না। তিনি বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তাদেরও দ্রুত অবহিত করা হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: উল্টো তারা বলেন যে আসতে পারবেন না,এটি নাকি প্রশাসনের কাজ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফলে কর্মকর্তা-কর্মচারীর তীব্র সংকটে চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে নাগরিক সেবা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কয়েকটি দপ্তর আবার জোড়াতালি দিয়ে চলছে অতিরিক্ত ও ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বের ওপর ভর করে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সবচেয়ে বেশি সংকট দেখা দিয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সমস্যাটি দীর্ঘদিনের হলেও সমাধানে নেওয়া হয়নি কার্যকর কোনো উদ্যোগ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফলে,সেবাপ্রার্থীরা প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন, নষ্ট হচ্ছে সময় ও অর্থ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যাদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তাদের নাকি আর্থিক ক্ষমতা নেই।
সূত্র: ডেইলি বাংলাদেশ
Leave a Reply