নাটোরের সর্বত্রেই চলছে পুকুর খননের মহোৎসব। নানা কায়দা, কৌশলে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে রাত-দিন কাটা হচ্ছে মাটি। তৈরী করা একের পর এক বিশাল আকারের পুকুর। বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানব বন্ধন করেও বন্ধ হচ্ছে না পুকুর খননের কাজ। এমন অভিযোগ কৃষকদের।
এ সময় তারা দাবি করে, বেশ কিছু প্রভাবশালী মানুষ যাদের লাখ লাখ কালো টাকা রয়েছে তারা একের পর এক কিনছেন ওই বিলের জমি। গরিব কৃষকদের টাকার লোভ দেখিয়ে শত শত বিঘা জমি কিনছেন তারা।
এরপরে সেই জমিগুলো অনাবাদি রাখছেন বছরের পর বছর। এক পর্যায়ে ওই জমিগুলোকে অনাবাদি দেখিয়ে তারা একের পর এক পুকুর কেটে মাটি বিক্রি করছেন।
ফসলি জমি রক্ষা ও সমাজ উন্নয়ন সংগঠনের সহ-সভাপতি শামীম সরকার জানান, বংশ পরম্পরায় তারা ওই বিলের দুই ফসলি এবং তিন ফসলি জমিতে চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

অথচ ওই বিলের জমি একের পর এক পুকুর খনন করে মাটি বিক্রি করায় পুকুরের আশপাশের জমিগুলোর ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বর্ষাকালে বাড়ছে জলাবদ্ধতা। কাজ হারাচ্ছেন অসহায় কৃষকরা।
এতে কতিপয় লোকের স্বার্থে হাজার হাজার কৃষকদের পেটে লাথি মারা হচ্চে। এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত এক ইঞ্চি জায়গা ফাকা না রাখাকেও বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো হচ্ছে।
এতে একদিকে যেমন কৃষি আবাদি জমি ধ্বংস হচ্ছে তেমনি প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত এক ইঞ্চি জায়গা অনাবাদি না রাখার ঘোষণাকে দেখানো হচ্ছে বৃদ্ধাঙ্গুলি।
নাটোর সদর উপজেলার বড় হরিপুর ইউনিয়নের ভেদরার বিলে রয়েছে ৩ হাজার একর কৃষি জমি। জমিগুলো তিন ফসলী এবং দুই ফসলী।
কৃষকদের দাবি, ওই বিল দিয়ে বর্ষাকালে ২২টি বিলের অতিরিক্ত পানি প্রবাহিত হয়ে স্থানীয় শাখা নদীর মাধ্যমে পদ্মা নদীতে চলে যায়।
ধান, পাট, গম, ভুট্টা, রসুন ও সরিষা থেকে শুরু করে সব ধরনের চৈতালী ফসলি উৎপাদিত হয় ওই বিলের জমিতে।
কতিপয় লোকের হাত থেকে বাঁচতে ওই এলাকার ৭৭০ জন কৃষক মিলে ফসলি জমি রক্ষা ও সমাজ উন্নয়ন সংগঠন নামে একটি সংস্থা করেছেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ জানান,ফসলি জমিতে পুকুর কাটার বিরুদ্ধে প্রশাসন অত্যন্ত তৎপর।
এমন কাজে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। যদি প্রশাসনের কেউ ওই কাজে জড়িত থাকে তবে সত্যতা নিশ্চিত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ সময় তারা দাবি করে, ধলাট গ্রামের সুবাহানের ছেলে শহীদ এবং রবির হাটের আফছুরের ছেলে শহীদুল্লাহসহ শহরের বেশ কিছু প্রভাবশালী মানুষ যাদের লাখ লাখ কালো টাকা রয়েছে তারা একের পর এক কিনছেন ওই বিলের জমি।
গরিব কৃষকদের টাকার লোভ দেখিয়ে শত শত বিঘা জমি কিনছেন তারা। এরপরে সেই জমিগুলো অনাবাদি রাখছেন বছরের পর বছর। এক পর্যায়ে ওই জমিগুলোকে অনাবাদি দেখিয়ে তারা একের পর এক পুকুর কেটে মাটি বিক্রি করছেন।
ওই স্বার্থান্বেসী মহলের কারণে হাজারো কৃষকের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে। বেকার হয়ে যাচ্ছেন তারা। এটা কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না দাবি করে তিনি বলেন, জমি রক্ষার জন্য প্রয়োজনে তারা জীবন দেবেন।
মানববন্ধনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রেখেছিলেন সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক বাবুল হোসেন,সদস্য দেলোয়ার, সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মহসিনসহ স্থানীয় কৃষকরা।
ওই মহল কালো টাকা আর ক্ষমতার কাছে তারা অসহায় দাবি করে এর বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীসহ সকলের সুদৃষ্টি ও আশু কার্যকরী পদক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
[…] […]